নারায়ণগঞ্জের রাজধানী দেওভোগ

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৫৭ পিএম, ১১ জানুয়ারি ২০২১ সোমবার

নারায়ণগঞ্জের রাজধানী দেওভোগ

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াত আইভী বলেছেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে আওয়ামীলীগ ও ছোট দুই একটি দল ছাড়া কোন রাজনৈতিক দল ছিলনা। সুতরাং আওয়ামীলীগ বাংলার কৃষক, শ্রমিক আবাল বৃদ্ধ সকলেই তখন যুদ্ধ করেছেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন সেই মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান রেখে ২৭টি ওয়ার্ডেই মুক্তিযোদ্ধাদের নামে সড়ক করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আমরা যখন এমন সিদ্ধান্ত নিলাম তার এক সপ্তাহ পর সরকার থেকে একই রকম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আমি সিদ্ধিরগঞ্জে একটি লেক পরিদর্শনে যাওয়ার একজন মুক্তিযোদ্ধা আমাকে সেই কাগজ দেখিয়েছে। সরকারের এমন সিদ্ধান্ত আমার জন্য হয়েছে সোনায় সোহাগা।

১০ জানুয়ারী রোববার বিকেল সাড়ে ৪টায় শহরের দেওভোগ শেখ রাসেল পার্ক সংলগ্ন এলাকায় বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে সিটি কর্পোরেশনের ১৬নং ওয়ার্ডে মুক্তিযোদ্ধা সড়ক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৬,১৭ ও ১৮নং ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-১ আফরোজা আক্তার বিভা হাসান।

আইভী আরো বলেন, আজকে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে এখানে বক্তব্য দিবো এমন কোন চিন্তা ভাবনা আমার ছিলনা। অথবা নারায়ণগঞ্জে আমি ১৭ বছর ধরে নেতৃত্ব দিবো আপনাদের সামনে এটিও কখনো চিন্তা করিনি। সবই আল্লাহর ইচ্ছা। উনি আমাকে এখানে দায়িত্ব দিয়েছেন আপনাদের ভোটের মাধ্যমে।

প্যানেল মেয়র আফরোজা আক্তার বিভার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, সত্যিকার অর্থেই আমাদের ১৬নং ওয়ার্ডটি অবশ্যই একটু ব্যতিক্রম। এখানে জন্ম হয়েছিল আলী আহম্মদ চুনকার, তিনি দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দিয়ে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার। এখানে জন্ম হয়েছিল নাজিম উদ্দিন মাহমুদ এর তিনিও দীর্ঘদিন পৌরসভার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। আমি এসেছি ২০০৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত নেতৃত্ব দিচ্ছি। ১৭ বছর পার করে ১৮তে পা দিয়েছি। তাই আমি সব সময় বলে থাকি নারায়ণগঞ্জের ২৭টি ওয়ার্ডের রাজধানী হচ্ছে এই দেওভোগ। দেওভোগ নেতৃত্ব দেয় বলেই নারায়ণগঞ্জের অনেক কিছু এখনো বেঁচে আছে এবং সমস্ত অন্যায় অবিচারের প্রতিবাদের খড়গ হয়ে নারায়ণগঞ্জ দাঁড়িয়েছে। এই দেওভোগের সন্তানরা যদি প্রতিবাদ না করতো তাহলে নারায়ণগঞ্জের অনেক বিলীন হয়ে যেতো। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অনেক কিছু করে যাচ্ছেন ওনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই হবে।

মেয়র বলেন, আমি গর্বিত আমি এই এলাকার সন্তান আমি নারায়ণগঞ্জের সন্তান আমি বাংলাদেশের সন্তান। আমি সূদুর বিদেশ থেকে এসেছিলাম। আল্লাহ আমাকে সুযোগ করে দিয়ে ছিলেন কাজ করার জন্য এবং ন্যায়ের পথে থাকার জন্য। আমি নারায়ণগঞ্জে কি করেছি না করেছি আমি কিছু বলবো না আপনারাই এর ফিরিস্তি দিয়ে দিয়েছেন। আমি আগামীতে কি করতে পারবো সেটার জন্য আপনারা আমার পাশে এসে দাঁড়াবেন আমি আপনাদের সকলের সর্বাত্মক সহযোগীতা কামনা করছি।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাশেদ রাশু, মুক্তিযোদ্ধা তমিজ উদ্দিন রিজভী, মুক্তিযোদ্ধা কাদির দেওয়ান, মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন। আরো উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা খবির উদ্দিন আহম্মেদ।

কাউন্সিলদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম নবী মুরাদ, ১৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কবির হোসেন, ১৬নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ওবায়েদুল্লাহ। আরো উপস্থিত ছিলেন, ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হান্নান সরকার, ২২,২৩,২৪নং ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর শাওন অংকন সহ অন্যান্যরা।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও