কিশোর গ্যাংয়ের দুই নায়ক

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৬:৫৮ পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০২১ বৃহস্পতিবার

কিশোর গ্যাংয়ের দুই নায়ক

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় দুই স্কুল ছাত্রকে হত্যার ঘটনায় ২৪জনকে আসামী করে যে চার্জশীট দেওয়া হয়েছে সেখানে মূল হোতা হিসেবে দুই রয়েছেন। তারা হলেন শাকিল ও ছোট শামীম।

জানা গেছে, দুই শিক্ষার্থী হত্যাকান্ডের ঘটনায় সন্ত্রাসী গ্যাংয়ের লিডার শাকিল ও শামীম বেশ আলোচিত চরিত্র। শাকিল ও ছোট শামীম সম্পর্কে ভাই হলেও এলাকার সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে উভয় নেতৃত্ব দিয়ে বেশ আলোচনা উঠে এসেছে। এদের ব্যাপারে বেশ চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে ভয়ংকর গ্যাং তৈরি করে শাকিল শামীম।

স্থানীয় একাধিক সূত্র বলছে, নিয়মিত ঝগড়া ও মারামারি নিয়ে থাকতো এই শাকিল গ্যাং। প্রায় প্রতি সপ্তাহে তাদের ঝগড়া-লড়াই করতে দেখা যায়। এসব নিয়ে আগে নানা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও এবার তা হত্যাকান্ডে পরিণত হবে তা কেউ ভাবতে পারেনি। তবে শাকিল ও শামীমের নেতৃত্বে ইস্পাহানি বাজার এলাকার ১ নম্বর গলি সহ আশেপাশের ছেলেরা দল পাকিয়ে প্রভাব বিস্তার করা শুরু করে। যেকারণে প্রায় সময় এলাকার মধ্যে নানা ইস্যু নিয়ে ঝগড়া-লড়াই হতো বলে জানাগেছে।

সন্ত্রাসী গ্যাংয়ের লিডার হিসেবে শাকিলের নাম বেশি ছড়ানোর মূল কারণ হলো ভবঘুরে স্বভাবের হওয়ায় সারা দিন অবসর সময় পার করতো। এই সুযোগে শাকিল এলাকার উঠতি বয়সের ছেলেদের নিয়ে সারা দিন আড্ডাবাজি করতো। বিশেষ করে এলাকার হীরা মিয়ার দোকানে ও আশেপাশে বসে আড্ডা দিতো। শাকিল তেমনভাবে কোন পেশায় জড়িত ছিলনা। তবে ঈদের আগে খন্ডকালীন সময়ে বিভিন্ন কাপড়ের দোকানে সেলস ম্যান হিসেবে কাজ করতো। এমনিতে সারা দিন আড্ডাবাজি ও দলবাজিতে সময় পার করতো বলে জানাগেছে।

শাকিল মারামারিতে খুব পারদর্শী হওয়ার কারণে উঠতি বয়সের ছেলেরা খুব সহজে তার সান্নিধ্যে চলে আসে। আশেপাশের মহল্লাগুলোর ছেলেরা কখনো কিছু বললেই শাকিল বাহিনীর ছেলেরা মারমুখি হয়ে তাদের পিটুনি দিতো। বেশ প্রভাবশালী গ্যাংয়ে পরিণত হয়। যেকারণে শাকিল বাহিনী অন্যরা তার নেতৃত্বকে মেনে নিত।

এই গ্যাংয়ের আরেক লিডার ও শাকিলের বড় ভাই শামীম ওরফে ছোট শামীম তার ভাইয়ের মত ভবঘুরে না হলেও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ষোল আনা ভূমিকা রেখে আসছে। ছোট শামীম কয়েক বছর আগেও শহরের ফারজানা টাওয়ারের গেঞ্জির দোকানে সেলস ম্যান হিসেবে চাকরী করেছে। এছাড়া দিগু বাবুর বাজারে হাতে করে মুরগি বিক্রি করেছে। তবে বর্তমানে শামীম ইস্পাহানি ঘাটের পাশে একটি রিকশার গ্যারেজের ব্যবসা করছে। পরিবারের অভাব অনটনের কারণে শামীম নানা ভাবে উপার্জন করতো। কারণ তার বাবা একজন ফল বিক্রেতা। টুকরিতে করে বিভিন্ন স্থানে বলে কলা সহ নানা ফল বিক্রি করে। তার ছেলে শামীম একদিকে সংসারের হাল ধরলেও কিভাবে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িয়ে পড়ে তা জানা যায়নি। তবে শাকিল ও শামীম দুই ভাইয়ের প্রভাবে আশেপাশের গ্যাংগুলো যেমন অতিষ্ঠ হয়ে আছে ঠিক তেমনি এলাকার লোকজনও বেশ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। প্রকাশ্যে কেউ তাদের ব্যাপারে মুখ খুলতেও অস্বীকৃতি জানায়। কারণ তাদের ব্যাপারে মুখ খুললেই তার উপর নেমে আসবে নির্যাতনের খড়গ। তাদের ভয়ে তটস্থ এলাকাবাসী। কারণ ক্রমশ এই বাহিনী ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। প্রতি সপ্তাহে মারামারি সহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে বেশ আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এই বাহিনী।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বন্দরের একরামপুরের ইস্পাহানি এলাকার মৌসুমি ফল ব্যবসায়ী মো. সালামের ছেলে মো. শাকিল। শাকিল একরামপুর এলাকার একটি কিশোর গ্যাংয়ের লিডার। তার নেতৃত্বে ওই এলাকায় নানা অপরাধমূলক কার্যক্রম সংঘটিত হচ্ছে। শাকিলের ভাই স্থানীয় একটি গ্যারেজ মালিক মো. শামীম ভাইয়ের গ্যাং পরিচালনায় সহযোগিতায় করেন। এই দলটিকে নেপথ্যে থেকে পরিচালনা করেন যুবলীগ নেতা শামীম। শামীম ২৩নং ওয়ার্ডের যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন।

সূত্রটি আরও জানায়, শাকিলের নেতৃত্বে কিশোর গ্যাংটি ইস্পাহানি, একরামপুর, সিএসডি গেইট এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে বেড়ায়। এই গ্যাংয়ের সদস্যের আড্ডার স্থান হচ্ছে শাকিলের আপন ভাই শামীমের রিকশা গ্যারেজ। এইসব কিশোর সন্ত্রাসীরা এলাকায় প্রায়ই ‘ছোট ভাই বড় ভাই’ বলা নিয়ে বিভিন্ন কিশোর ও যুবক ছেলেদেরকে লাঞ্চিত ও মারপিট করে থাকে।

গত বছরের ১০ আগস্ট বিকেলে শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব তীরে বন্দরের ইস্পাহানী ঘাট এলাকার বিকেলে কাজিমউদ্দিনের ছেলে জিসান (১৫) ও নাজিমউদ্দিন খানের ছেলে মিনহাজুল ইসলাম মিহাদ (১৮) নিখোঁজ হয়। রাতেই তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিহত জিসানের বাবা বন্দর প্রেস ক্লাবের সাবেক সেক্রেটারী কাজিমউদ্দিন বাদী হয়ে গ্রেপ্তারকৃত ৬ আসামী সহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরো ৮ জনকে আসামী করে বন্দর থানায় মামলা দায়ের করেন।


মামলাটি প্রথমে বন্দর থানা তদন্ত শুরু করে। পরে মামলাটি ডিবিতে বদলী করা হয়। ডিবির তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক ফকির হাসানুজ্জামান তদন্ত করেন। গত ৫ জানুয়ারী তিনি আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।


এতে ৮ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তারা হলেন মোক্তার হোসেন, আলী আহাম্মদ, কাশেম, কাউসার, আনোয়ার হোসেন, শিপলু, মনির হোসেন, জাকির হোসেন।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও