বর্জ্য হবে আশীর্বাদ

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:২৫ পিএম, ১৫ জানুয়ারি ২০২১ শুক্রবার

বর্জ্য হবে আশীর্বাদ

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের মাটি ভরাটের কাজ প্রায় শেষ। খুব শিঘ্রই অন্যান্য কাজ শুরু হবে বলে সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে।

১৪ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার সকালে সিটি করপোরেশনের ৯নং ওয়ার্ডের জালকুড়ি দলপাইপ এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের পরিদর্শন শেষে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা এসব কথা জানান।

সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শ্যামল পাল বলেন, ‘ইতোমধ্যে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের জায়গায় মাটি ভরাটের কাজ শেষ। চারদিকে বাউন্ডারি দেওয়ালও উঠে গেছে। দেওয়ালে রঙ করা হয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে যাওয়ার রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। একেক করে সব কাজই চলছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘জালকুড়ি এলাকায় ২৩ একর জায়গায় এ উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। এখানে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্পের পাশেপাশি আরো অনেক প্রকল্প থাকবে। এজন্যই বিশাল জায়গা নিয়ে কাজ চলছে। করোনার জন্য কার্যক্রমে কিছুটা ধীরগতি হলেও এখনও পুরোদমে কাজ চলছে। মেয়র আইভীর নির্দেশে আমরা সেই কার্যক্রম পরিদর্শনে আজকে গিয়েছিলাম।’

শ্যামল পাল বলেন, ‘সিটি করপোরেশন এলাকার প্রতিদিনের বর্জ্য সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য এ প্রকল্প করা হচ্ছে। মূলত আধুনিক সমাজ গড়ার ও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য সুন্দর পরিবেশ তৈরি করতে মেয়র আইভীর এ প্রচেষ্টা। আজকের বর্জ্যই হবে আগামী দিনের সম্পদ। কারণ এখানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রচুর বর্জ্য প্রয়োজন হবে। এখন যে বর্জ্য সিটি করপোরেশন এলাকায় উৎপাদন হয় সেগুলো দিয়ে এখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। এমনও হতে পারে বিদ্যুৎ তৈরি করতে যে বর্জ্য প্রয়োজন হবে সেটা সিটি করপোরেশন এলাকায় নাও থাকতে পারে। তাই সকলের কাছে অনুরোধ এখন যে বর্জ্য হয় সেগুলো যত্রতত্র ফেলবেন না। একটু বর্জ্যও অহেতুক থাকবে না।

উল্লেখ্য সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থা নিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হয় নগরবাসীকে। পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে এক সময় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোড সহ যত্রতত্র ফেলতে হতো। এরই মধ্যে সৈয়দপুর এলাকায় সিটি করপোরেশনের নিজস্ব বর্জ্য ব্যবপস্থাপনা ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে সেখানেও জায়গা সংকুলান হচ্ছেনা। ফলে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুধু বিদ্যুৎই পাওয়া যাবে না বরং পরিবেশ দূষণও কমবে। এতে করে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন নগরবাসীর জন্য আর্শিবাদ হয়ে উঠবে।

জানা গেছে, ‘নারায়ণগঞ্জে প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি হবে ৩ থেকে ৬ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রতিদিন প্রয়োজন পড়বে ৩০০ থেকে ৫০০ মেট্রিক টন সলিড বর্জ্য। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ইউডি এনভায়রনমেন্টাল ইকুইপমেন্ট কোম্পানি, এভারব্রাইট এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন টেকনিক্যাল ইকুইপমেন্ট (চাংঝো) এবং এসএবিএস সিন্ডিকেটের কনসোর্টিয়াম।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও