স্বপ্ন পূরণে বাইক তৈরী করলেন হিরা (ভিডিও)

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৫৩ পিএম, ২৩ জানুয়ারি ২০২১ শনিবার

স্বপ্ন পূরণে বাইক তৈরী করলেন হিরা (ভিডিও)

বাইক লাভারদের কাছে বাইক মানে স্বপ্ন, আবেগের নাম। নিজের প্রিয় বাইকটিকে একটু অন্যরকম চেহারা দিতে একটু আকর্ষনীয় করতে হাজার হাজার টাকা ঢালে। তবে কিছু বাইক প্রেমীর ভালোবাসার মাত্রা থাকে আরো উপরে। তাঁদেরই একজন পশ্চিম দেওভোগ এলাকার আফজাল হিরা। মার্কেটে পছন্দের বাইক না পেয়ে নিজেই তৈরী করেছেন বিখ্যাত হার্লি ডেভিডসনের আদলে ইলেকট্রিক বাইক।

আফজাল হিরার বাইক তৈরী প্রসঙ্গে কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। ইউটিউবে টিউটোরিয়াল দেখে বাইক তৈরী করা শিখেছেন। দীর্ঘ দুই বছর অক্লান্ত পরিশ্রমের পর তৈরী করেছেন ইলেকট্রিক বাইক। যেটি ঘণ্টায় ৫০ বাইল বেগে ছুটতে সক্ষম। একবারের ফুল চার্জে চলবে টাকা ৮ ঘন্টা।

এ প্রসঙ্গে আফজার হিরা নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘আমার একটি ড্রিম প্রজেক্ট ছিল। গতানুগতিক বাইক থেকে একটু ভিন্ন ধরণের বাইক তৈরী করা। অনেকদিন ইউটিউব ঘাটাঘাটি করেছি। জানার চেষ্টা করেছি। বাংলাদেশের বাইকগুলোর ম্যানুফেকচার অনেকটা একইরকম হওয়ার কারণে আমার কাছে ভালো লাগতো না। সেখান থেকেই চিন্ত করা একটু ডিফারেন্ট টাইপের বাইক চালানোর। কিন্তু আমাদের দেশে যেহেতু সিসি লিমিটেশন আছে। তাই হার্লি ডেভিডসন বা ওইধরণের বাইক চালানো সম্ভব না। যার কারণে আমি নিজেই চেষ্টা করলাম বাইকটি তৈরী করার জন্য।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি যে বাইকটি তৈরী করেছি এটাতে হার্লি ডেভিডসন বা বুবারের ফিল পাবেন। ওদের মডেলের উপরে বেইস করে বানানো। এছাড়া কিছু কাজ সম্পূর্ণ আমার ডিজাইন করা। যেমন সীট, মার্টগার্ড সম্পূর্ণ আমার ডিজাইন আমার হ্যান্ডমেইড।’

আফজাল হিরা বলেন, ‘বাইক হচ্ছে ইয়াং জেনারেশনের ভালোবাসার একটি জিনিস। এখন যে ট্রেন্ড চলছে সব সময় চায় নতুনত্ব। মানুষ দামি দামি বাইক কিনে ওটাকে মোডিফাই করে অনেক টাকা ইনভেস্ট করে একটু ডিফারেন্ট লুক দেওয়ার জন্য। বাকি দশটা বাইকের সাথে রাখলে যেন একটু ডিফারেন্ট লুক থাকে। আমিও চেষ্টা করেছি একটু আলাদা লুক দেওয়ার জন্য। সেই হিসেবে বাইকটি নিয়ে আমি টোটালি সেটিসফাইড। বাইকটা তৈরী করতে অনেক কষ্ট হয়েছে। তবে তৈরী করার পর আমি ব্যাপক সারা পেয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘বাইকটির ফার্স্ট ইমপ্রেশন হচ্ছে আপনি পরিবেশের কোনো ক্ষতি করছেন না। ইঞ্জিন চালিত বাইকের যে ধোয়া বের হয় সেটার কারণে পরিবেশের কিছুটা হলেও ক্ষতি হয়। যেটা ইলেকট্রিক বাইকে পাবেন না। আর ফিউচার টেকনোলজিই হচ্ছে এটি। আগামীতে হয়তো তেলের কোনো যানবাহন চলবে না। সেই দিক চিন্তা করেই আমার বাইকটিকে ইলেকট্রিক বাইক হিসেবে তৈরী করেছি।’

তিনি বলেন, ‘বাইকটি তৈরী করতে আমার দুই বছর সময় লেগেছিল। এতসময় লাগার কারণ আমার কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। আমি ইউটিউবে টিউটোরিয়াল দেখতাম সেভাবে বাইকের উপর বিভিন্ন পার্টস এপ্লাই করতাম। অনেক সময় হতো না। আমি ফেলে দিতাম। আবার ট্রাই করতাম। না হলে আবার চেষ্টা করতাম। এভাবেই বাইকটি তৈরী করা। যে কারণে দুই বছর সময় লেগেছে। কিন্তু এখন বাইকটি বানাতে ২ মাস হয়তো লাগবে। কারণ কোথায় কি লাগবে সব জানি। এছাড়া প্রয়োজনীয় প্রফেশনাল টুল্স যদি পাই তাহলে আরো কম সময় লাগবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রথম যখন বাইকটি তৈরী করতে যাই তখন অনেকে এটাকে পাগলামি বলেছে। কেউ সাপোর্ট করেনি। সবাই বলেছে যে একটি বাইক একা তৈরী করা সম্ভব না। শুধু শুধু সময় নষ্ট আর টাকা নষ্ট। কিন্তু আমি কানে নিতাম না। একটা পর্যায়ে যখন এটার প্রতি খুব মনযোগী হলাম। তখন পরিবার সাপোর্ট করেছে। বাইকটি তৈরী করার পর সবাই খুব খুশি। সবারই ভালো লেগেছে।’

বাইকটি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বাইকটি ক্রুজার টাইপ বাইক। যে কারণে লং ড্রাইভ করলেও ব্যাক পেইন বা এই ধরনের কোনো সমস্যা হবে না। বাইকটিতে চারটি ব্যাটারী ব্যবহার করেছি। আর ৫০০ ওয়াটের একটি মোটর। ফুল চার্জ হতে সময় লাগে ৮ ঘণ্টা। একটানা একশর বেশি কিলোমিটার চালানো যায়।’

বাইকটি নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বাইকটি নিয়ে আমি হয়তো সেটিসফাইড। কিন্তু এটা কোনো বাইকের প্রফেশনাল লুক (চেহারা) না। এটাকে একটা ড্যামি বলতে পারেন। আমার ইচ্ছা দেশে ভালো ভালো যে বাইক কোম্পানিগুলো আছে তাঁরা ইলেকট্রিক বাইকের উপর নজর দেয়। তাঁদের কোম্পানিতে এই মডেলটিই যদি প্রফেশনাল লুক দিয়ে তৈরী করি তাহলে দেশে বিক্রি করতে পারব। যারা অল্প টাকায় ভালো ভালো বাইক নিতে চায় তাঁদের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।’


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও