মিছিলে না আসলে পিটিয়ে জেলে যাবো

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:১৬ পিএম, ৩ মার্চ ২০২১ বুধবার

মিছিলে না আসলে পিটিয়ে জেলে যাবো

নারায়ণগঞ্জের শহরের প্রধান সড়ক বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাথে বসা হকাররা যেন কোনভাবেই শান্ত হচ্ছেন না। তাদের বিরুদ্ধে সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন সহ নারায়ণগঞ্জবাসী একমঞ্চে থাকলেও তাদের থামানো যাচ্ছে না। দিন দিন যেন তারা কঠিন আন্দোলনের দিকেই ঝুঁকছেন। এবারও তারা ফুটপাথে বসার দাবীতে প্রতিদিন বিকেলে আন্দোলন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন। প্রয়োজনে তারা সকাল সন্ধা কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন।

তবে তাদের এই আন্দোলনের সাথে অনেক হকারই একমত না। অনেক হকারই তাদের কর্মসূচিতে আসতে চান না। আর তাই তাদের উদ্দেশ্য করে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেয়া এক হকারের মন্তব্য হচ্ছে, ‘কাল থেকে যে মিছিলে আসবে না তাকে আগে পিটানো হবে। পিটানোর দায়ে যদি জেলে যেতে তাহলে জেলেও যাবেন সেই হকার। তবুও কাউকে আন্দোলন সংগ্রামের বাইরে থাকতে দিবেন না।’ যদিও পরবর্তীতে ওই হকারের নাম জানা সম্ভব হয়নি।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ শহরের অন্যতম প্রধান গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হচ্ছে বঙ্গবন্ধু সড়ক। এই সড়কটির ফুটপাতে হকার বসা নিয়ে অনেক লঙ্কাকান্ড ঘটনা ঘটে গেলেও সিটি কর্পোরেশন ও পুলিশের কড়া নির্দেশনাকে উপেক্ষা করেই তারা ফুটপাতের দুইপাশ দখল করে ব্যবসা চালিয়ে আসছে। তাদের দখলের কারণে বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাত যেন মিনিবাজারে পরিণত হয়। আর এটা রুখতে গিয়ে বারবার বেঁকে বসেন নারায়ণগঞ্জ শহরের হকাররা। যতবারই তাদের বাধা দেয়া হয় ততবারই তারা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেন।

তারই ধারাবাহিকতায় ২ মার্চ মঙ্গলবার বিকেল নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন হকাররা। এর আগে শহরের চাষাঢ়া এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে ২নং রেলগেইট হয়ে প্রেসক্লাব পর্যন্ত ‘পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ চলবে না’ স্লোগানে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হকাররা ফুটপাথে বসার দাবিতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে উদ্দেশ্য করে নানা হুঁিশয়ারী উচ্চারণ করেন। সেই সাথে প্রতিদিন বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছেন। প্রয়োজন হলে তারা সকাল সন্ধা বিক্ষোভ মিছিল করবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছেন।

এর আগে গত জানুয়ারীতেও তারা দফায় দফায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছিলেন হকাররা। গত ২৬ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে হকারদের উচ্ছেদের ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল করে দুই দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন হকার নেতারা। সে সময় পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদের ঘটনা ঘটলে বৃহত্তর কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হবে জানিয়েছিলেন। নারায়ণগঞ্জে মহানগর হকার্স লীগের সভাপতি রহিম মুন্সির নেতৃত্বে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সে কর্মসূচির পর কয়েকদিন পুলিশ হকার উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ রাখলে হকাররা শান্ত ছিলেন।

এরপর পুলিশ আবার হকার উচ্ছেদ শুরু করলে হকাররা আবারও কর্মসূচির ঘোষণা দিচ্ছেন। সেই সাথে কোনো কোনো হকার পুলিশের উপর পাল্টা হামলারও প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার সমাবেশকালে আলী হোসেন নামে এক হকার বলেন, এবার আমাদের ফুটপাথে বসতে বাধা দিলে হামলা করলে পুলিশের উপর উল্টা হামলা করবো। আমরা বসে থাকবো না।

সূত্র বলছে, ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারীতে হকার ইস্যুতে এক লঙ্কাকান্ড ঘটে গিয়েছিল। এদিন হকার ইস্যুতে মেয়র আইভী সমর্থকদের সাথে হকার সংঘর্ষে মেয়র আইভী সহ প্রায় অর্ধশত লোক আহত হয়। এসময় প্রকাশ্যে গুলি ছোড়া সহ ইটপাটকেল বর্ষণের চিত্র দেখা যায়। আর এই ঘটনায় বহু আলোচনা সমালোচনার এক পর্যায়ে পরিস্থিতি অনেকটা ঘোলাটে আকার ধারণ করলে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিটি করপোরেশন ও হকার সহ বিভিন্ন সংগঠনের যৌথ বৈঠকে হকারদের বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতে বসা নিষেধ করে দেয়া হয়। তারপরেও হকাররা কোনো বাধা নিষেধ মানছে না। তদের যেন কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও