জামালের স্থলে কামাল লিখে গ্রেপ্তারের অভিযোগ

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৪৭ পিএম, ৩ মার্চ ২০২১ বুধবার

জামালের স্থলে কামাল লিখে গ্রেপ্তারের অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলায় পুলিশের বিরুদ্ধে ওভাররাইটিং করে জামাল হোসেনের পরবর্তীতে কামাল হোসেন লিখে অন্য ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে হয়রানী করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এজন্য পুলিশ সুপারের কাছে সদর থানার ওসি ও পরিদর্শক (তদন্ত) সহ সকল দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কামাল হোসেন।

৩ মার্চ বুধবার সকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের হানিফ খান মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানান তিনি। ভুক্তভোগী কামাল হোসেন সদর উপজেলার পশ্চিম সৈয়দপুর এলাকার মৃত সুরুজ মিয়ার ছেলে। সে সৈয়দপুর বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক প্রতিনিধি।

২০১৯ সালের ২০ নভেম্বর কুমিল্লার একটি আদালতে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ঘোষিত রায়ে আলমগীর হোসেন ও জামাল হোসেন নামে দু’জনকে দুই বছর করে সশ্রম কারাদন্ড এবং ২ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। দন্ডিতদের মধ্যে আলমগীর কুমিল্লার দাউদকান্দির মোঃ আলীর এবং জামাল হোসেন নারায়ণগঞ্জের চর সৈয়দপুরের সুরুজ মিয়ার ছেলে।

পুলিশ সুপারকে দেওয়া লিখিত অভিযোগ কামাল হোসেন জানান, ‘গত ১৭ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা কোতয়ালী থানার একটি মামলায় সাজা পরোয়ানা দেখিয়ে কামাল হোসেনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে ২২ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার বিজ্ঞ যুগ্ম দায়রা জজ ২য় আদালতে জামিন আবেদন করলে আদালত আদেশে উল্লেখ্য করেন, ‘সাজা পরোয়ানায় দেখা যায় জামাল হোসেন এর নামের স্থলে ওভার রাইটিং করে কামাল হোসেন লেখা হয়েছে এবং উক্ত মামলার ঘটনার সময় ও তারিখে রেমিটেন্স যোদ্ধা হিসাবে আমি দেশে উপস্থিত ছিলাম না মর্মে পাসপোর্ট দাখিল করায় আমাকে মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন। আর প্রকৃত আসামি জামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার না করে কেন কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নির্দেশ প্রদান করেন।’

এসপির উদ্দেশ্যে তিনি উল্লেখ করেন, ‘১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৯দিন মিথ্যা সাজা পরোয়ানার কারাগারে ছিলাম। আমার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়েছে এবং আমি আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তাছাড়া জেল থেকে বের হয়ে জানতে পারি আসন্ন গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী প্রচারণাকে প্রভাবিত করার জন্য এবং চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম উদ্দিনকে সমর্থন করায় ও আমি গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী সেহেতু মান সম্মান নষ্ট করার জন্য কু-চক্রী মহল ও আমার প্রতিদ্বন্দ্বী মেম্বার প্রার্থী এবং সদর থানার ওসি ও পরিদর্শক (তদন্ত) যোগসাজসে ও পরোক্ষ সহযোগিতায় জামাল হোসেন এর জায়গায় কামাল হোসেন লিখে আমাকে গ্রেপ্তার করে। আর গ্রেপ্তারের পর পত্রিকায় তারা ইচ্ছাকৃত ভাবে সংবাদ প্রকাশ করায়। এ বিষয়ে আপনি তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

কামাল হোসেন সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের বিরুদ্ধে তাকে পরিকল্পিত ভাবে হয়রাণির অভিযোগ করেন। কামাল হোসেন বলেন, জামাল হোসেনের স্থলে জামালের নামের অদ্যাক্ষর ‘জ’ এর স্থলে টেম্পারিং করে ‘ক’ লিখে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় সদর মডেল থানা পুলিশ তাকে শুধু তার নাম ও তার বাবার নাম জানতে চেয়েছে। গ্রেপ্তারী পরোয়ানার কোন কাগজ দেখায়নি।

এদিকে কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর তাকে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহামুদুল মোহসীনের আদালতে সোপর্দ করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ কপিতে উল্লেখ রয়েছে, রাষ্ট্র বনাম জামাল হোসেন গং। কিন্তু একই আদেশের নিচের অংশে আসামী হিসেবে কামাল হোসেনের নাম লেখা রয়েছে।

সদর মডেল থানার ওসি শাহ জামান বলেন, বিষয়টি কেন এমন হয়েছে সেটি তিনি খতিয়ে দেখবেন। তিনি বলেন এমনটা হওয়ার কথা নয়। তারপরেও নথিপত্র পর্যালোচনা করবেন বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন।

নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম বলেন, ‘অভিযোগ এখনও পাইনি। অভিযোগ পেলে আমরা একটি তদন্ত কমিটি করবো। তদন্তে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও