উস্কানিতে বেপরোয়া হকার

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৪২ পিএম, ৪ মার্চ ২০২১ বৃহস্পতিবার

উস্কানিতে বেপরোয়া হকার

বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ শহরের অন্যতম প্রধান আলোচিত ইস্যু হচ্ছে হকার ইস্যু। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন সহ নারায়ণগঞ্জবাসী একমঞ্চে থাকলেও এই হকারদের যেন কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। ফলে এই হকারকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন পরপরই নানা আলাপ আলোচনায় সরগরম হয়ে উঠে নারায়ণগঞ্জ। আর একটি পক্ষ সবসময় তাদেরকে পিছন থেকে উস্কানি দিয়ে থাকেন।

ওই পক্ষটির উস্কানিতে কয়েকদিন পরপরই হকাররা নতুন করে সরব হয়ে উঠেন। তারই ধারাবাহিকতায় এবারও পিছনের উস্কানিতে ফের সরব হয়েছেন হকাররা। আবারও তারা কঠিন আন্দোলনের দিকে ঝুঁকছেন। গত দুইদিন ধরেই নারায়ণগঞ্জ শহরে হকাররা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে আসছেন। প্রথমদিন তাদের সাথে অন্য কোনো সংগঠনের নেতা না থাকলেও দ্বিতীয় দিন হকারদের সাথে বাম নেতাদের দেখা মিলছে।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ শহরের অন্যতম প্রধান গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হচ্ছে বঙ্গবন্ধু সড়ক। এই সড়কটির ফুটপাতে হকার বসা নিয়ে অনেক লঙ্কাকান্ড ঘটনা ঘটে গেলেও সিটি কর্পোরেশন ও পুলিশের কড়া নির্দেশনাকে উপেক্ষা করেই তারা ফুটপাতের দুইপাশ দখল করে ব্যবসা চালিয়ে আসছে। তাদের দখলের কারণে বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাত যেন মিনিবাজারে পরিণত হয়। আর এটা রুখতে গিয়ে বারবার বেঁকে বসেন নারায়ণগঞ্জ শহরের হকাররা। যতবারই তাদের বাধা দেয়া হয় ততবারই তারা দিগুন শক্তি নিয়ে ফের জাগ্রত হয়ে উঠেন।

তারই ধারাবাহিকতায় ৩ মার্চ বুধবার বিকেল নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন হকাররা। এর আগে শহরের চাষাঢ়া এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে ২নং রেলগেইট হয়ে প্রেসক্লাব পর্যন্ত ‘পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ চলবে না’ স্লোগানে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

ওই সময় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাম ঘরনার নেতা হিসেবে পরিচিত আবু হাসান টিপু বলেন, আমরা পরিস্কার বলি হকারদের ভুখা রেখে আগামীতে ঈদ হতে দিব না আমরা। আপনি করপোরেশনের মেয়র হয়ে প্রাসাদ তৈরি করেছেন প্রয়োজনে ঈদের দিন প্রাসাদ ঘেরাও করবো। কিভাবে হকারদেরকে ভুখা রেখে আপনারা রঙ্গমঞ্চ তৈরি করেন? গরিব মানুষদের লাটিপেটা করবেন না। যদি এভাবে পুলিশ দিয়ে গুন্ডাপান্ডা দিয়ে নির্যাতন করেন ব্যবসা বন্ধ করেন আপনার করপোরেশন সহ নারায়ণগঞ্জ হরতাল অবরোধের কর্মসূচি দিব।

একইভাবে হকার্স নেতা আসাদুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন যাবত আমরা দাবি ধাওয়া জানিয়ে আসছি। কিন্তু এসকল দাবি ধাওয়া আজও পর্যন্ত পূরণ হয় নাই। আপনাদের শহর আপনাদের ইচ্ছা ফুটপাত রাখবেন না আপনাদের সাথে একমত। আমরাও চাই এই শহর সুন্দর হোক। কিন্তু তার আগে হকারদের পুনর্বাসন করেন। কেন পুনর্বাসন করা হচ্ছে না। আমাদের নিয়ে তালবাহানা করা হচ্ছে। কেন আমাদের নিয়ে বসা হচ্ছে না? ফুটপাতে বসতে না দিলে আমরা কঠিন কর্মসূচির ঘোষণা দিব।

গত ২ মার্চ বিকেল নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছিলেন হকাররা। এর আগে তারা শহরের চাষাঢ়া এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে ২নং রেলগেইট হয়ে প্রেসক্লাব পর্যন্ত ‘পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ চলবে না’ স্লোগানে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

এদিকে গত জানুয়ারীতেও তারা দফায় দফায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছিলেন হকাররা। গত ২৬ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে হকারদের উচ্ছেদের ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল করে দুই দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন হকার নেতারা। সে সময় পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদের ঘটনা ঘটলে বৃহত্তর কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হবে জানিয়েছিলেন। নারায়ণগঞ্জে মহানগর হকার্স লীগের সভাপতি রহিম মুন্সির নেতৃত্বে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সে কর্মসূচির পর কয়েকদিন পুলিশ হকার উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ রাখলে হকাররা শান্ত ছিলেন।

এরপর পুলিশ আবার হকার উচ্ছেদ শুরু করলে হকাররা আবারও কর্মসূচির ঘোষণা দিচ্ছেন। সেই সাথে কোনো কোনো হকার পুলিশের উপর পাল্টা হামলারও প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সূত্র বলছে, ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারীতে হকার ইস্যুতে এক লঙ্কাকান্ড ঘটে গিয়েছিল। এদিন হকার ইস্যুতে মেয়র আইভী সমর্থকদের সাথে হকার সংঘর্ষে মেয়র আইভী সহ প্রায় অর্ধশত লোক আহত হয়। এসময় প্রকাশ্যে গুলি ছোড়া সহ ইটপাটকেল বর্ষণের চিত্র দেখা যায়। আর এই ঘটনায় বহু আলোচনা সমালোচনার এক পর্যায়ে পরিস্থিতি অনেকটা ঘোলাটে আকার ধারণ করলে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিটি করপোরেশন ও হকার সহ বিভিন্ন সংগঠনের যৌথ বৈঠকে হকারদের বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতে বসা নিষেধ করে দেয়া হয়। তারপরেও হকাররা কোনো বাধা নিষেধ মানছে না। তদের যেন কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সামাজিক সংগঠনের এক সিনিয়র নেতা বলেন, এরা আন্দোলন শুরু করেছে তার মানে আবারও কোন বিশৃঙ্খলা করতে চাইছে। কারণ ওইসময় বিশৃঙ্খলা করে বিগত একটি বছর হকাররা ঠিকই ফুটপাত দখল করে রেখেছে। তারা তাদের ব্যবসা ঠিকই চালিয়ে গেছে। কিন্তু ভোগান্তিতে ছিল নগরবাসী। তাই কোন ভাবেই তাদের বসতে দেওয়া ঠিক হবে না।’

রাজনৈতিক এক নেতা বলেন, ‘যারা আন্দোলন করেছেন তাদের সবাই মেয়র আইভী ও তার সমর্থকদের উপর হামলা চালিয়েছে। সেই সময় সংঘর্ষের ছবি দেখলেই তার প্রমাণ পাওয়া যাবে। এখন আবার তারা মেয়র আইভীর কাছে পুনর্বাসনের আবদার নিয়ে গেছে। তাদের বসতে দেওয়া তো দূরের কথা বরং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। অন্যথায় এরাই আবারও শহরের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবেন। নারায়ণগঞ্জ জেলার নাম বদনাম করবে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও