হুজুরকে পেটাল হাসান বাহিনী

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০২:৪৫ পিএম, ১১ মার্চ ২০২১ বৃহস্পতিবার

হুজুরকে পেটাল হাসান বাহিনী

নারায়ণগঞ্জ মহানগরের শিমরাইলে একটি মসজিদের মুয়াজ্জিনকে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেছেন কাউন্সিলর আরিফুল হাসানের ছোট ভাই সহ অনুগামী বাহিনী। ওই সময়ে মুয়াজ্জিন হাতজোড় করে ক্ষমা চাইলেও রক্ষা হয়নি। বরং তাকে প্রায় ২০ মিনিট রাস্তার মাটিতে ফেলে লাথি কিল ঘুষি মারা হয়। তখন আশেপাশে থাকা লোকজন ছিলেন নীরব দর্শকের ভূমিকাতে। ১০ মার্চ বুধবার বিকেলে হাসান বাহিনীর ওই তান্ডবে মুয়াজ্জিন এখন চরম আতংকে রয়েছে। তিনি এ ব্যাপারে ‘আল্লাহর কাছে বিচার দিয়েছি’ ছাড়া আর কিছুই বলছেন না।

প্রসঙ্গত আরিফুল হাসান হলেন সিটি করপোরেশনের চার নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর। সাত খুন মামলার প্রধান আসামী ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত নূর হোসেন ছিলেন এ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। সাত খুনের পর নূর হোসেন গ্রেপ্তার ও কাউন্সিলরশীপ বাতিলের পর উপ নির্বাচনে হাসান জয়ী হন। এ হাসান এক সময়ে নূর হোসেনে অর্থ উপদেষ্টা ছিলেন। হাসান হলেন শ্রমিক লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মতিন মাস্টারের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, শিমরাইল উত্তরপাড়া জামে মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্বপালন করে আসছেন দ্বীন ইসলাম। কয়েকদিন আগে এলাকাতে একটি ওয়াজ মাহফিল হয়। এর পরে সেটা নিয়ে বুধবার বিকেলে স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে বিষয়টি নিয়ে মুয়াজ্জিন সহ অন্যরা আলোচনা করছিলেন। তখন মতিন মাস্টারকে ‘সাহেব’ না বলায় সেখানে থাকা হাসানের লোকজন চটে যান। খবর পেয়ে হাসানের ভাই আতিকুল হক হাসিব ২০-২৫ জনকে সাথে নিয়ে ওই দোকানে গিয়ে মুয়াজ্জিনকে মারধর করে। একের পর এক কিলঘুষি আর লাথিতে মাটিতে লুটে পড়েন মুয়াজ্জিন। সেখানেও তাকে মারধর করা হয়।

ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে মসজিদ কমিটির লোকজনকে নিয়ে রাতেই বৈঠকে বসেন মতিন মাষ্টার। বাবা প্রভাবশালী ও ভাই ওয়ার্ড কাউন্সিলর হওয়ায় ে মুয়াজ্জিন এবিষয়ে থানায় অভিযোগ করতে ভয় পাচ্ছেন বলে জানান এলাকাবাসী।

মুয়াজ্জিন দ্বীন ইসলাম বলেন, ‘কিছু হয়নি। মসজিদ কমিটি এ নিয়ে সব শেষ করে দিছে। এগুলো বাদ দেন। এগুলো নিয়ে কথা বলতে চাই না। আমি উপর ওয়ালার কাছে বিচার দিয়েছি। উপরওয়ালা বিচার করবে। আমরা আল্লাহ তল্লার সৃষ্টি জীব। আল্লাহতাল্লার উপরে বিচার পৃথিবীতে আর কোন হতে পারে না। একটা সভা হয়েছে। এখানে মতিন মাস্টারের ভয়ে সবাই কাঁপে। স্বাক্ষীগুলো উল্টো বলছে। এখন আল্লাহর বিচারের উপরে আমি কিছু চাই না। কেউ মতিন মাস্টারের বিরুদ্ধে স্বাক্ষী দিবে না। আমি আল্লাহর বিচার চাই।’

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম বলেন, আমি ঘটনার সময় এলাকায় ছিলাম না। মুয়াজ্জিন মোবাইল ফোনে আমাকে জানায় আব্দুল মতিন মাষ্টারকে সাহেব না বলায় তার ছেলে মারধর করেছে। প্রকাশ্যে রাস্তায় একজন মুয়াজ্জিনকে এভাবে মারধর করা কোন ভাল মানুষের কাজ নয়। সাহেব না বলার কারণেই মারধর করা হয়েছে বলে জানতে পারি।

মতিন মাস্টারের বড় ছেলে সিটি করপোরেশনের ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আরিফুল হক হাসান বলেন, ‘আমি নিজেও ঘটনা অন্যজনের মাধ্যমে জানতে পারেছি। বিষয়টি নিয়ে আমি ১১ মার্চ মসজিদ কমিটির সঙ্গে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলবো। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি নিরপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।’
ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কয়েকদিন আগে এলাকায় একটি ওয়াজ মাহফিলে আলেম ওলামাদের জন্য আমার বাবা (মতিন মাস্টার) মুয়াজ্জিন সাহেবকে চা খাওয়াতে বলেন। পরে তিনি সকলকে চা খাওয়ান। কিন্তু আজকে এলাকায় একটি চায়ের দোকানে মুয়াজ্জিন সাহেব বলতে থাকেন মতিন মাস্টার কিভাবে আমায় চা আনতে অর্ডার দেয়। এসব নিয়ে সমালোচনা করেন। তখন চায়ের দোকানে উপস্থিত কয়েকজন প্রতিবাদ করেন। তখন বিষয়টি আমার ছোট ভাই জানতে পেরে সেখানে আসেন। তখন মুয়াজ্জিন সাহেবকে দুটা থাপ্পর দেয়। পরে খবর পেয়ে আমার বাবা সেখানে যায়। পরে স্থানীয়দের নিয়ে বসে সকলের কথা শুনেন। পরে সেখানের লোকজনের কথায় বুঝতে পারেন মুয়াজ্জিন সাহেবের দোষ। তখন তিনি আমার ছোট ভাইকে সঙ্গে করে নিয়ে সেখান থেকে চলে আসেন। আর মুয়াজ্জিন সাহেবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মসজিদ কমিটির কাছে দিয়ে আসেন। এখন তিনি তার ছেলের কি ব্যবস্থা নিবেন সেটা আমি বলতে পারছি না। একজন কাউন্সিলর তথা জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি সব কিছু জেনে পরে ব্যবস্থা নিবো।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও