অতি আনন্দে বিপদের শংকা!

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:৩৮ পিএম, ৯ মে ২০২১ রবিবার

অতি আনন্দে বিপদের শংকা!

শেষের পথে পবিত্র মাহে রমজান। করোনা মহামারি ছিল আগে থেকেই। ক’দিন বাদেই রমজান শেষে আসবে খুশির ঈদ। কেউ করোনা মানছে না। ঈদ আনন্দ পরিপূর্ণ করতে ছুটছেন ঈদের মার্কেটে। সাথে থাকছে প্রিয় সন্তান। কিম্বা পরিবারের অন্য লোকজন। সবাই ভাবছেন মুখে মাস্ক থাকলে বুঝি করোনা হবে না। এই ভুল ধারনাকে নারায়ণগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। কিছু জ্ঞানপাপী ও নির্বোধ মানুষ ধারণাটি ছড়িয়ে দিয়ে সর্বনাশের শেষপ্রান্তে এসে পৌঁছেছে। ঈদের পর করোনার সংক্রমণ বাড়তে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য সচেতন নাগরিকগণ।

মহানগরীতে সকাল বিকাল ও রাতে মার্কেটগুলোতে উপচেপড়া ভিড়। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে মার্কেটে প্রবেশ করলে মনে হয় না দেশে কোন করোনা আছে। মানুষের মধ্যে কোন ধরনের ভয়ভীতি নেই। নেই কোন ধরনের সচেতনতাও। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতি আনন্দ বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারে। যা জাতিকে বড় ধরনের মূল্য দিতে হতে পারে।

করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় এপ্রিলের পুরো মাস দোকানপাট ও গণপরিবহন সরকারের দেওয়া বিধিনিষেধের ফলে বন্ধ ছিল। বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার পাশাপাশি গণপরিবহন চলাচল করায় ঈদের মার্কেটে প্রতিনিয়তই ভিড় বাড়ছে জনসাধারণের। প্রত্যাশা অনুযায়ী ক্রেতা পাওয়ায় খুশি ব্যবসায়ীরা।

শণিবার সরেজমিনে ডিআইটি মার্কেট এলাকা ও চাষাড়া দেখা গেছে, ক্রেতাদের ভিড়ে ব্যবসায়ীরা খুশি হলেও সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সামাজিক দূরত্ব বা স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই। মানুষের ভিড়ে দোকানের ভেতরে প্রবেশের উপায় নেই। ছোট-বড় সবাই মার্কেটে এসেছেন ঈদের কেনাকাটা করতে।

তবে কয়েকজন ক্রেতার অভিযোগ, লোকজন বেশি থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছে মতো দাম হাঁকাচ্ছেন। বেশিরভাগ দোকানেই ফিক্সড রেটে থ্রি পিস, শাড়ি ও ছোটদের জামাকাপড় বিক্রি করা হচ্ছে।

তাহমিনা আহমেদ নামের একজন ক্রেতা জানান, সরকারি বিধিনিষেধের কারণে এতদিন ঘর থেকে বের হইনি। ঈদ সামনে, কেনাকাটা তো করতেই হবে। এজন্য মার্কেটে এসেছি। পরিবারের লোকজনের জন্য জামাকাপড় কিনতে এসেছি। সরকারের নির্দেশনা মেনে মাস্ক পরে মার্কেটে এসেছি। কিন্তু এখানে এসে মনে হচ্ছে কিসের করোনা কিসের কী? মানুষ আর মানুষ।

তৌকির আহমেদ নামের আরেকজন ক্রেতা বলেন, ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছি। কিন্তু মার্কেটে এসে দেখি অবস্থা ভয়াবহ। এতো মানুষ, সবাই কেনাকাটায় ব্যস্ত। মার্কেটে যখন আসছি তখন কেনাকাটা করতেই হবে। এখানে যেহেতু স্বাস্থ্যবিধি নেই, সেহেতু সাবধানেই কেনাকাটা করতে হবে। এখন পর্যন্ত দুটি থ্রি-পিস কিনেছি। অন্যান্য সময়ের তুলনায় দাম অনেক বেশি। দাম বেশি হলেও কিনতে হচ্ছে। সব দোকানে একই অবস্থা। মিম ক্লথ স্টোরের ব্যবসায়ী মতিয়ার বলেন, অন্যান্য সময়ের চেয়ে আজকে অনেক ক্রেতা। বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে। তবে প্রত্যাশা অনুযায়ী হচ্ছে না।

এক প্রশ্নে তিনি বলেন, বলতে গেলে গত মাস দোকান বন্ধ রেখেই ভাড়া দিতে হয়েছে। লকডাউনে দোকানপাট বন্ধ ছিল। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে মার্কেট খোলার বিধান রয়েছে। আমরা যতটুকু পারছি সরকারের নির্দেশনা মানার চেষ্টা করছি। তারপরও ক্রেতাদের সেভাবে কিছু বলতে পারছি না।

সুরভী বস্ত্র বিতানের ব্যবসায়ী আবদুল মালেক বলেন, আজকেই একটু বেশি ক্রেতার ভিড়। এতদিন কোনো ক্রেতাই ছিল না। তবে ক্রেতাদের এত ভিড়ে স্বাস্থ্যবিধি মানার উপায় নেই। আমরা মাস্ক পরে থাকার চেষ্টা করছি। ঈদের আগ পর্যন্ত এ রকম ক্রেতা পেলে আমাদের গত মাসের লোকসান পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা বলছেন প্রতিটি মার্কেটের সামনে মাইকিং করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ভিড় করতে নিষেধ করা হচ্ছে। কিন্তু ক্রেতারা তা মানছে না। অনেক সময় আমরাও ঝুঁকিতে পারে যাচ্ছি। কিন্তু কি আর করার আছে। ঈদের বাকি আর মাত্র ৫দিন। এখন বেচা কেনা ছাড়া আমরা অন্যকিছু চিন্তা করতে পারি না।

তারা আরও জানায়, স্বাস্থ্যবিধি দুপক্ষেই মানতে হবে। শুধু দোকানদার মানলে চলবে না ক্রেতাকেও মানতে হবে। একজন ক্রেতা একাধিক দোকানে যান পন্য পছন্দ করছেন। তাকেই বেশি স্বাস্থবিধি মানতে হবে। দোকানদার তার দোকানেই বসে থাকেন সারা দিন। সুতরাং দোকানদার করোনা বহন করতে পারে না। করোনা বহন করে ক্রেতা। আর আসল কথা হলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোন ভাবেই মার্কেটিং করা যায় না।

তবে নারায়ণগঞ্জের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আসলে ব্যাপারটা আমাদের বুঝে আসে না। একটি দেশে লকডাউন চলছে আর মানুষে এভাবে মার্কেট করছে। এটা কিভাবে সম্ভব। মানুষ সুস্থতার চেয়ে বেশি প্রধান্য দিচ্ছে বিনোদনকে। এটা হতে পারে না। বিশ্বের কোথাও এ ধরনের নজির নেই। আমাদের আরও সতর্ক হতে হবে। তা না হলে বড় ধরনের বিপদ হতে পারে। যার মূল্য আমাদেরই পরিশোধ করতে হবে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও