‘৫ টাকায় ভরপেট আহার’ বন্ধ করলো পুলিশ

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৫:৪৬ পিএম, ৮ জুন ২০২১ মঙ্গলবার

‘৫ টাকায় ভরপেট আহার’ বন্ধ করলো পুলিশ

নারায়ণগঞ্জের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় অবস্থিত জিয়া হল প্রাঙ্গণের খোলা জায়গায় সুবিধা বঞ্চিত মানুষের জন্য মাত্র ৫ টাকায় দুপুরে ভরপেট খাবারের আয়োজন করে আসছিল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মুক্ততরী। কিন্তু জিয়া হল প্রাঙ্গণে প্রবেশের অনুমতিপত্র না থাকায় তাঁদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। বাধ্য হয়ে চাষাঢ়া রেল স্টেশনে তাঁদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে সংগঠনের সদস্যরা।

৭ জুন সোমবার দুপুরে মুক্ততরী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক জয় দত্ত নিউজ নারায়ণগঞ্জকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রোববার নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ এসেছিল। জিয়া হল প্রাঙ্গণে প্রবেশের অনুমতিপত্র চেয়েছিল। আমাদের কাছে অনুমতিপত্র না থাকায় তাঁরা এখানে এই কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা এখন চাষাঢ়া রেল স্টেশনের প্লাফর্মে কার্যক্রমটি পরিচালনা করছি।

তিনি আরো বলেন, ‘জিয়া হলের ভেতরে আমরা প্রবেশ করি না। হলের সামনের ফাঁকা জায়গায় আমরা ১৫ থেকে ২০টি চেয়ার বসিয়ে খাবারের আয়োজন করি। প্রতিদিন ৫০-৭০ জনকে খাওয়াই আমরা। এতে সময় লাগে দেড় থেকে দুই ঘণ্টাা। ১ জুন থেকে আমরা এখানে কার্যক্রমটি পরিচালনা করে আসছি। রোববার দুপুরে বৃষ্টির সময় থানার ওসি সাহেব এসেছিলেন। বৃষ্টির কারণে আমরা ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেছিলাম। তিনি এসে আমাদের জিজ্ঞেস করেন যে কি করছি। আমাদের আয়োজন সম্পর্কে বলার পর তিনি অনুমতিপত্র দেখতে চান। কিন্তু আমাদের কাছে অনুমতিপত্র ছিল না। যে কারণে সেখানে আমাদের আয়োজন বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং অনুমতিপত্র আনতে বলেন।’

জয় দত্ত আরো বলেন, ‘মুক্ততরী একটি অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। আমরা সেবামূলক কার্যক্রম করে থাকি। জিয়া হল প্রাঙ্গণে প্রবেশের জন্য অনুমতিপত্র লাগতে পারে আমার জানা ছিল না। যে কারণে অনুমতিপত্র নেইনি। তবে অনুমতিপত্রের জন্য মঙ্গলবার লিখিত দরখাস্ত নিয়ে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে যাব। আশা করি তিনি আমাদেরকে এখানে সেবামূলক কার্যক্রমটি পরিচালনার অনুমতি দিবেন।’

এদিকে সরেজমিনে দেখা যায়, জিয়া হল প্রাঙ্গণে প্রবেশের দুইটি ফটকই বন্ধ। তালা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে ভবনের প্রবেশ পথেও। যে কারণে জনসাধারণ প্রবেশ করতে পারে না। তবে হকাররা এটিকে দির্ঘদিন ধরেই গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করছে। সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত জিয়া হলের সামনের সড়ক দখল করে নানান ফলের পসরা সাজিয়ে বসে থাকে হকাররা। এছাড়া মূল সড়কে ভ্যান গাড়িতেও ফলসহ বিভিন্ন পন্য সাজিয়ে বসে হকাররা। রাতে এই ভ্যান গাড়িগুলোর পার্কিং স্পট হিসেবে ব্যবহার করা হয় জিয়া হল প্রাঙ্গণ। এছাড়া ফলমূল রাখার জন্য ব্যবহার করা হয় জীয়া হলের পরিত্যাক্ত ভবনটি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জিয়া হলের সামনের সড়কে বসতে হকারদেরকে গুনতে হয় ১০০ টাকা। চাঁদা দিতে হয় ভ্যান রাখার জন্য এবং ফলমূল রাখার জন্যও।

ক্রেতা সেজে এক ফল বিক্রেতার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘এখানে বসার জন্য, ভ্যানগাড়ি রাখার জন্য এবং ভবনের ভেতরে ফল রাখার জন্যও টাকা দিতে হয়। প্রতিদিন রাতে কমিউনিটি পুলিশের পোশাক পরা একজন আমাদের কাছ থেকে টাকা নেয়। কিন্তু টাকা নিলেও মাঝে মাঝে পুলিশ সামেলা করে। উঠিয়ে দেয়। কয়েকদিন বসতে নিষেধ করে। এরপর আবার ঠিক হয়ে যায়। এভাবেই চলে।’


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও