ট্রলার বন্ধে ভয়াবহ দুর্ভোগ

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৪৭ পিএম, ২৩ জুন ২০২১ বুধবার

ট্রলার বন্ধে ভয়াবহ দুর্ভোগ

লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে ফের সেন্ট্রাল খেয়া ঘাটের ট্রলার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ট্রলার বন্ধ করে যাত্রী সেবার জন্য শুধুমাত্র নৌকা চলাচল অব্যাহত রেখেছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাত্র ৫ জন যাত্রী নিয়ে নদী পারাপারের নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হচ্ছেনা। উল্টো ট্রলার বন্ধ থাকার ফলে যাত্রী গাদাগাদি করে নৌকায় উঠছে। নৌকার মাঝিরা এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা আদায়ের জন্য ২০ জনের অধিক যাত্রী নিয়ে নদী পারাপার হচ্ছে। এতে করে উল্টো জনদুর্ভোগ বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

২৩ জুন বুধবার দুপুর ৩ টায় সেন্ট্রাল খেয়া ঘাটে প্রশাসনের নির্দেশে ট্রলার সার্ভিস বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে করে জনমনে ক্ষোভ দেখা দেয়।

যাত্রীরা অভিযোগ করে বলছেন, এই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী পারাপার হয়। এর সিংহভাগ যাত্রী পারাপার হয় ট্রলার দিয়ে। ট্রলার বন্ধ করে দিয়ে নৌকায় চাপ বেশি পড়বে। এতে উল্টো গাদাগাদির পরিমাণ বেড়ে যাবে। তাছাড়া নৌকার মাঝিরা নিয়ম মেনে যাত্রী উঠাচ্ছেনা। যেকারণে যাত্রীদের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যাচ্ছে।

যাত্রী রোখছাসা বেগম বলছেন, নৌকায় নিঃশ্বাস ফেলার জায়গা থাকেনা। এজনের গায়ের সাথে গা ঘেঁষে যাত্রীরা নদী পারাপার হয়। এই অবস্থায় ট্রলার বন্ধ করে দিলে এখন নৌকার গাদাগাদির পরিমাণ আরো বেড়ে যাবে। এতে করে আমাদের আরো দুর্ভোগ পোহাতে হবে। নৌকার পাশাপাশি ট্রলার সার্ভিস চালু থাকলে নৌকার উপরে চাপ কম পড়ে। এতে করে গাদাগাদি করে নদী পারাপারের সম্ভাবনা কমে যায়। তাই উভয় নৌযান চালু করে কড়া নির্দেশনা জুড়ে দেয়া উচিত যাতে করে কেউ বেশি যাত্রী নিয়ে নদী পারাপার না করে।

যাত্রী আক্তার হোসেন বলছেন, ট্রলারের ধারণ ক্ষমতা নৌকার তুলনায় অনেক বেশি। ট্রলারে যাত্রীর সংখ্যা কমিয়ে চলাচল করলে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করার কোন বালাই থাকতো না। তাছাড়া নৌকায় গাদাগাদি করে যাত্রী আরোহন করার ফলে উল্টো ঝুকি বেড়ে যাচ্ছে।

রফিক মিয়া বলছেন, মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা দরকার যাতে করে ট্রলার নৌকা কেউ বেশি যাত্রী তুলতে না পারে। সবাই নির্দিষ্ট সংখ্যক যাত্রী নিয়ে নদী পারাপার হবে। এতে করে করোনার ঝুকি কমে যাবে। কিন্তু ট্রলার বন্ধ করে নৌকা চালু রাখা-এটা কোন সমাধান হতে পারেনা। উল্টো নৌকাতে গাদাগাদির পরিমাণ বেশি হবে। এতে বরঞ্চ করোনার ঝুকি কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। যার ফলে লাভের তুলনায় লোকসান বেশি হবে।

সালাম মিয়া বলছেন, ট্রলার বন্ধ থাকায় এখন বাধ্য হয়ে নৌকা দিয়ে যেতে হচ্ছে। অতিরিক্ত যাত্রী উঠালেও কিছু করার নেই। আগে অতিরিক্ত যাত্রী উঠালে প্রতিবাদ করতে পারতাম, অন্তত পক্ষে নৌকা ছেড়ে ট্রলার দিয়ে নদী পারাপার হওয়া যেত। কিন্তু এখন বাধ্য হয়ে এসব কিছু মেনে নিতে হচ্ছে। তাই ট্রলার সার্ভিস চালু না করলে আরো দুর্ভোগে পড়তে হবে।
বন্দর সেন্ট্রাল খেয়াঘাট পরিচালক দিদার খন্দকার জানান, প্রতিদিন বন্দর থেকে হাজার হাজার শ্রমিক নদী পাড় হয়ে বিভিন্ন গার্মেন্টে কাজে যোগ দেন। সকাল থেকে যাত্রী পারাপারে জন্য ট্রলার চালু ছিল। দুপুর আড়াইটার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বার্হী কর্মকর্তা আরিফা জোহরার নেতৃত্বে একটি ভ্রাম্যমান আদালত এসে ট্রলার চলাচল বন্ধ করে দেন। তিনি বলেন ট্রলারে যাত্রী সংখ্যা বেশি হয় তাই ট্রলার বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেন। আর প্রতি নৌকায় ১০জন করে যাত্রী পারাপার করতে বলেন।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও