সেন্ট্রাল ঘাটে অভিযানের সময়ে যাত্রী ভারে ডুবলো নৌকা

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৫৮ পিএম, ২৩ জুন ২০২১ বুধবার

সেন্ট্রাল ঘাটে অভিযানের সময়ে যাত্রী ভারে ডুবলো নৌকা

লকডাউনের দ্বিতীয় দিন ২৩জুন নদী পারাপারে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব পাড়ের কয়েক লাখ মানুষের। বিকেলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযানের সময়ে ট্রলার বন্ধ হয়ে গেলে হুমড়ি খেয়ে পরে নৌকার উপর। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেউ অধিক যাত্রী বোঝাইয়ের কারণে মানুষের ভারে একটি নৌকা ডুবে গেলে যাত্রীদের ভিজতে হয় শীতলক্ষ্যার পানিতে

তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন জানান, যখন বিকেলে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ট্রলার চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয় তখন যাত্রীরা নৌকা যোগে নদী পারাপারের সময় অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়ার কারণে নৌকা থেকে কয়েকজন যাত্রী পানিতে পড়ে যায়। এ দৃশ্য স্বচক্ষে দেখার পরও নীরব ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

এদিকে ২৩জুন সন্ধ্যায় সরেজমিনে সেন্ট্রাল খেয়াঘাট এলাকা ঘুরে দেখা যায় ঘাটে যাত্রীদের উপচে পড়া ভীড়। যাত্রীর তুলনায় নৌকার সংখ্যা অপ্রতুল থাকায় অনেকই ঝুকি নিয়ে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই নৌকায় লাফিয়ে লাফিয়ে উঠছে। আবার যারা ঝুঁকি নিতে না চাচ্ছে তারা নদীর পাড়ের ওয়াক ওয়েতে ঝটলা পাকিয়ে খোশ গল্পে মেতে উঠেছে। যেখানে তাদের মুখ থেকে বেরিয়ে আসছে লকডাউনের নামে সাধারণ মানুষের হয়রানী আর ভোগান্তির কথা। খেয়াঘাটে নদী পারাপারে প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থান নিয়েও সমালোচনা করেন তারা। তাদের কথায় উঠে আছে সরকারী নির্দেশনা থেকেই গার্মেন্টস খোলা রাখা হয়েছে। আমরা যদি সঠিক সময় গার্মেন্টে উপস্থিত হতে না পারি তাহলে সেই দিনের বেতন কাটা যাবে। নদী পাড় না হতে পারলে আমরা কিভাবে সময় মত গার্মেন্টে পৌছাবো। যে ম্যাজিস্ট্রেটরা এসে ট্রলার বন্ধ করে দিচ্ছেন নৌকা দিয়ে পারাপার হওয়ায় সময় যদি কোন দুর্ঘটনা ঘটে মানুষ মারা যায় তখন সেই ম্যাজিস্ট্রেটরা ওই পরিবারের দায়িত্ব নিবেন না। এই নদীতে অহরহ নৌকা ডুবিতে সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে। আসলে আমাদের বন্দরবাসী কপালই খারাপ।

এদিকে সেন্ট্রাল খেয়াঘাটের পরিচালক দিদার খন্দকার জানান, গার্মেন্টের শ্রমিকদের পারাপারে জন্য একটা নির্দিষ্ট সময় বেধে দিলো ভাল হয়। বিশেষ করে সকাল ৬টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এবং বিকাল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শ্রমিকদের নদী পারাপারের জন্য ট্রলার চলাচলের অনুমতি প্রদান করলে শ্রমিকদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে। বাকি সময় টা ট্রলার নৌকা উভয় বন্ধ রাখলেও খুব বেশি সমস্যা হবেনা।

উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসের প্রকোপ ঠেকাতে ২২ জুন ভোর ৬টা থেকে ৩০ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত সর্বাত্মক কঠোর লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জরুরী সেবা ছাড়া সব ধরনের যানবাহন বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও