লকডাউনে অজুহাতের শেষ নেই!

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০০ পিএম, ২৪ জুলাই ২০২১ শনিবার

লকডাউনে অজুহাতের শেষ নেই!

লকডাউন অমান্য করে বের হতেই হবে। কয়েকটা দিন ঘরে থাকলে যেন মারাই যাবেন তারা। যদি জিজ্ঞাসা করি কেন বের হইসেন? তাহলে অজুহাতের শেষ থাকেনা। ডাক্তার আর ঔষধ তো আছেই। এত অজুহাত থাকলে কিভাবে করোনা ঠেকাবে? ইয়াং ছেলেপেলেদের শাস্তি দেয়া যায়। বয়সে মুরুব্বী এদের কিভাবে শাস্তি দেই? বয়স বাড়ার পরেও যদি বুদ্ধি না হয় তাহলে কিভাবে কি?

কথাগুলো বলছিলেন চাষাঢ়ায় দায়িত্বরত এক আনসার সদস্য। শনিবার ২৪ জুলাই ও শুক্রবার দিনভর পালাক্রমে আনসার, বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেছেন চাষাঢ়া গোল চত্বর এলাকায়। অব্যাহত মানুষের আগমন আর মিথ্যে অজুহাত শুনে ত্যাক্ত বিরক্ত হয়ে ক্ষোভ নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন তিনি।

মাত্র ৩০ মিনিট দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসাবাদ কার্যক্রম পর্যবেক্ষন করা হলো। একের পর এক মানুষ আসছেন আর নির্দ্বিধায় মিথ্যে অজুহাত বলে যাচ্ছেন। চোখ মুখের ভাষায় তার কথা মিথ্যে মনে হলেও তা প্রমানের সুযোগ নেই কারও হাতেই। বাধ্য হয়ে ছেড়ে দিতে হচ্ছে তাদের। অযথা ঘোরাঘুরির জন্য বের হওয়া বেশ কয়েকজন তরুনকে দেয়া হয়েছে শাস্তি। একপায়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর্যন্ত। একটু বয়সে বড় যারা তাদের পা উঠানো ছাড়াই দাঁড় করিয়ে রাখা হয় বয়সের সম্মানার্থে। তবুও মানুষের করোনা কিংবা পুলিশ ভীতি যেন কমেই না।

রোকসানা বেগম নামে এক নারী তার ছেলেকে নিয়ে হাঁটতে বের হয়েছেন। কারণ ডাক্তার পরামর্শ দিয়েছেন ছেলেকে নিয়ে হাঁটতে। অন্যথায় পায়ে সমস্যা হবার সম্ভাবনা আছে। বাড়ির ছাদে কিংবা বাড়ির সামনে হাটলে চলবে না। তাই মেয়েকে সাথে নিয়ে হাঁটতে এসেছেন চাষাঢ়ায়! এমন উদ্ভট অজুহাত শুনে রীতিমত থ হয়েছেন বিজিবি ও র‍্যাব সদস্যরা। আপাদমস্তক ভদ্র নারীকে কিভাবে বোঝাবেন তা নিজেরাও বুঝতে পারছিলেন না তারা।

সস্তাপুর থেকে নারায়ণগঞ্জে গামছা কিনতে এসেছেন রকিব। বাড়িতে গামছার সংকট চলছে। লকডাউনে গোছল না করে তো থাকা যায় না। তাই বিধি নিষেধের মাঝেই বাড়তি ভাড়া দিয়ে কিনতে এসেছেন গামছা।

জেলখানা এলাকায় দেবরের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া বউকে নিয়ে ফিরছেন আরেক যুবক। নব্য বিবাহিত স্ত্রীকে একদিন পূর্বে কেন আনলেন না জানতে চাইলে বলেন, বউ আসতে চায় না। এখন লকডাউনের ভেতর ১০/১২ দিন ঐ বাসায় থাকলে তো চলবে না। তাই আজ নিয়ে আসছি। আর বের হবো না।

নতুন জামা ও ভারী সাজ নিয়ে বের হয়েছেন তন্নি নামে এক তরুণী। জিজ্ঞেস করতেই বললেন বন্ধু অসুস্থ। ভিক্টোরিয়া যাচ্ছি তাকে দেখতে। লকডাউনের মাঝেই কেন দেখতে যেতে হবে এমন প্রশ্নে বলেন, ও আমার অনেক ক্লোজ ফ্রেন্ড। আমি না গেলে অনেক খারাপ দেখায় বিষয়টা।

এমন অসংখ্য অজুহাত আর উদ্ভট কারণ শুনে যেমন বিরক্ত হয়েছেন তারা তেমনি মানুষের অসচেতনতা দেখে হয়েছেন অবাক। ক্রমাগত বেড়ে চলা করোনা সংক্রমন ঠেকাতে যেই লকডাউন প্রদান করা হয়েছে তা না মানলে অচিরেই ঘরে ঘরে করোনা রোগী ছড়িয়ে যাবে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও