লোকজনের সমাগম বাড়ছে, খুলছে দোকানপাট

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:২৬ পিএম, ২৬ জুলাই ২০২১ সোমবার

লোকজনের সমাগম বাড়ছে, খুলছে দোকানপাট

ঈদের আগে ৯দিনের শিথিলের পর আবারও চলমান রয়েছে ১৪ দিনের বিধি নিষেধ বা কঠোর লকডাউন। এর ধারাবাহিকতায় ২৬ জুলাই সোমবার বিধি নিষেধের চতুর্থদিন। প্রথম দুইদিনের চেয়ে সোমবার সকাল থেকেই নগরীতে মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। নগরীর অন্যতম প্রধান বঙ্গবন্ধু সড়কেও ছোট যানবাহনের দৌড়াত্ব বেড়েছে। সেই সঙ্গে ফুটপাতেও বসতে শুরু করেছে হকাররা। প্রথম দুই দিন প্রশাসনের কঠোরতা থাকলেও ধীরে ধীরে তা কমে আসতে শুরু হয়েছে।

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে শহরের চাষাঢ়া থেকে ২নং রেল গেইট এলাকায় দেখা যায়, চাষাঢ়া গোল চত্ত্বর ও ২নং রেল গেইট এলাকায় প্রশাসনের চেকপোস্ট ও জনসাধারণকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জরুরী প্রয়োজনে বের হলে যেতে দেওয়া হচ্ছে আর অপ্রয়োজনে বের হলে জরিমানা করা হচ্ছে। কিংবা যানবাহন ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ দুটি পয়েন্ট ছাড়া নগরীর অন্যান্য পয়েন্টগুলোতে পুলিশের কোন তৎপরতা দেখা যায়নি। আর সেই সুযোগে ওইসব এলাকায় মানুষের উপস্থিতিও ছিল তুলনামূলক বেশি।

এ সুযোগে নগরীর বেশ কিছু দোকান খোলতে শুরু করেছে। বিশেষ করে নগরীর টঙ দোকান, রঙ সুতার দোকান, কনফেকশনারী ইত্যাদি। হকাররাও বসছে ফুটপাতে।

শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের চেয়ে এর আশে পাশের অলিগলিতে মানুষের উপস্থিতি অনেক বেশি। ওইসব গলিতে লকডাউন বা কঠোর বিধি নিষেধ মানার তেমন কোন লক্ষ্য দেখা যায়নি। যত্রতত্র আড্ডা, চায়ের দোকানে গল্পগুজব, অযথা ঘুরাফেরা করছেন সাধারণ মানুষ। এসব অলিগলিতে শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে টহল দিতে দেখা যায়নি বলেন স্থানীয়রা।

এদিকে বন্দর থেকে ট্রলার নৌকা পারাপার হচ্ছে অনেক যাত্রী। যা শুরুতে অনেক কম ছিল। এখণ প্রতিদিনই এ সংখ্যা বেড়ে চলেছে। অপ্রয়োজনে কেউ যেন নদী পার হয়ে শহরে আসতে পারে সেজন্য ম্যাজিস্ট্রেট থাকলেও সেখানেও লম্বা লাইন হয়ে যাচ্ছে।’

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ বলছেন, ‘লকডাউনে অধিকাংশ মানুষ বের হচ্ছে অপ্রয়োজনে। কেউ লকডাউন দেখতে এসেছে, কেউ বা ঘুরতে এসেছে আবার কেউ লকডাউনে আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে যাওয়া আসা করছে। এরকম ব্যক্তিদের মধ্যে নারীদের সর্তক করে ছেড়ে দিলেও পুরুষদের শাস্তি বা জরিমানা করা হচ্ছে। তবে যারা জরুরী প্রয়োজনে বের হয়েছেন তাদের সার্বিক ভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে।’

সরেজমিনে দেখা যায়, ‘লকডাউনে বের হওয়ায় অনেকের হাতেই পেসক্রিপশন বা ডাক্তারী পরীক্ষার রিপোর্ট ফাইল। আবার কারো কারো হাতে ওষুধের খালি পাতা কিংবা ব্যাগ। তবে তাদের মধ্যে অনেকেই ওষুধ কিনতে যাচ্ছেন না।

এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ‘শুধু মাত্র আইশৃঙ্খলা বাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেটের হাত থেকে ছাড়া পাওয়ার জন্য সঙ্গে করে ডাক্তারের রিপোর্ট ফাইল নিয়ে এসেছেন। এমনকি প্রেসক্রিপশনও নিয়ে এসেছেন।’

ফাহিম মিয়া বলেন, ‘সারাদিন ঘরে থাকা যায়? তাই ঘুরতে বের হয়েছি। আসার সময় মায়ের ওষুদের প্রেসক্রিপশন নিয়ে এসেছি। যাতে ম্যাজিস্ট্রেট ধরলে বলবো মায়ের জন্য ওষুধ কিনতে এসেছি।’

দুই নং রেল গেইট এলাকায় পুলিশ দুটি রিকশার যাত্রীদের চাষাঢ়া যেতে না দিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দেয়। তাদের মধ্যে একজন সেলিম। তিনি বলেন, ‘বাসার বিদ্যুতের লাইনে সমস্যা তাই বিদ্যুৎ মিস্ত্রী নিতে এসেছি। কিন্তু আমাকে যেতে দেওয়া হলো না।’

কিছু দূর গিয়ে রিকশা থেকে নেমে পা হেঁটে ঠিকই গন্তবে চলে যায় সেলিমের মতো সবাই।

প্রসঙ্গত গত ২৩ জুলাই থেকে কঠোর লকডাউন বা বিধি নিষেধ শুরু হয়। যা আগামী ৭ আগস্ট পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও