লিংক রোড নিজেই ফিটনেসহীন

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:০২ পিএম, ২৩ আগস্ট ২০২১ সোমবার

লিংক রোড নিজেই ফিটনেসহীন

সড়ক মহাসড়কে চলাচলের জন্য যানবাহনকে ফিটনেস বজায় রাখতে হয়। নির্ধারিত সময় পর ফিটনেস নবায়ন এবং পরীক্ষা করানো বাধ্যতামূলক। ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচলে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। নির্দেশনা অমান্য করে চলাচল করলে ট্রাফিক আইনে মামলা করা হয় যানবাহনকে। আর এর অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে, সড়কে চলাচলরত যানবাহন দ্বারা যেন কোন দুর্ঘটনা ঘটতে না পারে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি সহজেই দুর্ঘটনায় পতিত হয় সড়কে।

কিন্তু যেই সড়কের উপর দিয়ে সব ধরণের যানবাহন চলাচল করে সেই সড়কই যদি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায় তবে ফিটনেস যুক্ত গাড়িও দুর্ঘটনার মুখোমুখী হয়। ভাঙ্গা আর টিউমারযুক্ত সড়কের উপর চলাচলের কারনে গাড়ির অভ্যন্তরীন পার্টস ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গাড়ি হয়ে পরে দুর্বল। বছরের পর বছর ঠিক এমনই পরিস্থিত বিরাজ করছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে।

গত ৩ বছরে দফায় দফায় মেরামত আর জোড়াতালি দিয়ে ঠিক করার চেষ্টা করা হয়েছে সড়কটিকে। কিন্তু প্রতিবারই মাস দুই না ঘুরতেই আবারও দেখা দেয় খানা খন্দক ও টিউমার। সড়কের পিচ ফুলে উঠে মাঝখানে। যানবাহনের লেন পরিবর্তন এবং চলাচলে বাধা তৈরী হয় এর কারণে। অসংখ্য টিউমার সড়কে স্পিডব্রেকারের মত কাজ করছে। একের পর এক টিউমারের কারণে যানবাহনগুলো চলছে ধীরগতিতে এবং একটু বেসামাল হলেই ঘটে যাচ্ছে দুর্ঘটনা।

সড়কে সিএনজি চালক নজরুল বলেন, ‘‘দিনের বেলা হুটহাট সামনে রাস্তার উচু নিচার ভেতর চাকা পরে যায়। গাড়িতে প্রচ- ঝাকি লাগে। যাত্রীরাও ব্যাথা পায়, আমার গাড়িরও ক্ষতি হয়। রাতের বেলা তো সমস্যা হয় আরও বেশী। এমন আর কতদিন চলতে হবে? এই রাস্তার নিজেরই ফিটনেস নাই। এইটার কারনে আমাগো গাড়ির ফিটনেস নষ্ট হইয়া যায়।’’

একই অভিযোগ করেন পাঠাও রাইড চালক আসিফ। তিনি বলেন, ‘রাতের বেলা এই রাস্তায় অসংখ্যা গাড়ী দুর্ঘটনার শিকার হয় প্রতিদিন। চোখের সামনে হটাৎ টিউমার বা গর্ত দেখলে গাড়ি লেন পরিবর্তন করতে চায়। এমন করে অনেক দুর্ঘটনা ঘটে। অল্প গতিতে গাড়ি চললেও টিউমারের উপর উঠে গাড়ি জাম্প করে মোটরসাইকেল পরে যায়। একটার পর একটা ঘটনা ঘটলেও এগুলো সমাধান যেন কেউ নেই।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৮ সালে এই সড়কের ৪ লেন পুরোপুরি পিচঢালাই দিয়ে মেরামত করা হয়। সেবার এই সড়কের ঠিকাদারি পায় মাসুদ হাইটেক ইঞ্জিনিয়ারিং নামক একটি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বছর ঘুরার আগেই রাস্তায় দেখা দেয় টিউমার। এরপর প্রায় ৬ মাস অন্তর অন্তর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সওজ থেকে সংস্কার করা হলেও কোনটিই এর স্থায়ী সমাধান এনে দিতে পারেনি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সড়কের উপর দিয়ে প্রতিনিয়ত ডিসি, এসপি, সাংসদ শামীম ও সেলিম ওসমান চলাচল করেন। তারা নিজেরাও এই সমস্যার সম্পর্কে অবগত। তারপরেও কিভাবে নারায়ণগঞ্জে প্রবেশ ও বর্হিগমের প্রধান পথটি ঝুঁকির ভেতর থেকে যায় তা বোধগম্য নয়। এই ব্যাপারে একটু দৃষ্টি দিলে বিষয়টি সমাধান করা সম্ভব। নজরদারির অভাবে বছরের পর বছর দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে লাখো মানুষ।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও