ট্রাফিক ম্যানেজ করেই মৌমিতার নৈরাজ্য

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:১১ পিএম, ২৫ আগস্ট ২০২১ বুধবার

ট্রাফিক ম্যানেজ করেই মৌমিতার নৈরাজ্য

দীর্ঘদিনের কঠোর বিধি নিষেধ বা লকডাউনের পর শিথিল হয়েছে নারায়ণগঞ্জ। সেই সঙ্গে ফিরে পেয়েছে চিরচেনা রূপের শহর। একই সঙ্গে পরিবহন মাফিয়ার নৈরাজ্যও দেখা যাচ্ছে আগের রূপে। যত্রতত্র বাস রেখে শহর জুড়ে যানজট সৃষ্টি করা সেই মৌমিতা পরিবহন আবারও তাদের অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশ কিংবা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না। কেন মৌমিতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না? কেন চাষাঢ়া গোল চত্ত্বর থেকে মৌমিতার অবৈধ স্ট্যান্ড সরানো যাচ্ছে না? মৌমিতা বাসের জন্য প্রশাসনের দুর্বলতা কোথায়? এমন সব প্রশ্ন নগরবাসীর।

২৪ আগস্ট মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে চাষাঢ়া শান্তনা মার্কেটের সামনে গিয়ে দেখা গেছে, ‘মৌমিতা পরিবহনের একটি বাস দাঁড়িয়ে আছে। ৫ থেকে ১০ মিনিট পর একটি বাস এসে যখন পিছনে দাঁড়িয়েছে তখনই দাঁড়ানো বাসটি ঢাকার দিকে যাচ্ছে। তারপর আবারও পরবর্তী বাসটি দাঁড়িয়ে আছে। এতে করে সারাক্ষণ মৌমিতা পরিবহনের একটি বাস দাঁড়িয়েই আছে। শুধু যে শান্তনা মার্কেটের সামনে এমনটা তা নয়। মেট্রো হল মোড় থেকে মৌমিতা ছেড়ে আসলেও খাজা মার্কেটের সামনে দাঁড়িয়ে যাত্রী উঠায়। সেখান থেকে শান্তনা মার্কেটের সামনে ১০ মিনিট দাঁড়িয়ে আবারও রাইফেল ক্লাবের উল্টো পাশে দাঁড়িয়ে থাকে। এতে করে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড মুখে, চাষাঢ়া গোল চত্ত্বর ও মেট্রো হল টু চাষাঢ়া সড়কেও যানজট সৃষ্টি হয়। এতে করে শহর জুড়েই ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে জনগনের ভোগান্তি।

এমন পরিস্থিতি চললেও চাষাঢ়া গোল চত্ত্বরে ট্রাফিক বক্সে পুলিশ থাকলেও এ বিষয়ে তাদের কোন নজরই নেই। চোখের নামে টাকা দিয়ে বাস দাঁড় করিয়ে রেখে শহর জুড়ে যানজট সৃষ্টি করলেও পুলিশ কোন পদক্ষেপ নেয় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আশে পাশের দোকানদাররা বলেন, ‘এ মৌমিতা পরিবহনের বাস মোড়ে দাঁড় করিয়ে রাখায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কে যাওয়া যানবাহনগুলো সব থেকে বেশি ভোগান্তিতে পরে। এই একটি বাসের জন্য বর্তমানে শহরে এ তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। সারাক্ষণ মৌমিতার কোন না কোন বাস দাঁড়িয়ে আছেই। এতো বললেও কোন কিছু হয় না।’

ট্রাফিক পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয় না? জবাবে তারা বলেন,‘এখানকার ট্রাফিক পুলিশ মৌমিতার প্রতিটি বাস থেকে টাকা নেয়। এখানে ১০ থেকে ১৫ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকলেই দেখবেন ট্রাফিক পুলিশ ও মৌমিতা বাসের চালক, হেলপার কিংবা পরিবহনের লোকজনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে টাকা নেয়। টাকা না দিলে ৫ মিনিট দাঁড়াতে দেয় ট্রাফিক আর টাকা দিলে ১০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকলেও কোন সমস্যা করে না। এতে শহর জুড়ে যানজট হোক তাদের কোন সমস্যা নেই। মৌমিতা বাস দিয়ে ট্রাফিক পুলিশের ইনকাম হচ্ছে তারা কেন কথা বলবে।’

লকডাউনের আগে নিয়মিত শিবু মার্কেট থেকে মৌমিতা বাসে চাষাঢ়া আসতেন মৃত্যুঞ্জয় রায়। তবে বর্তমানে আর মৌমিতা বাসে চড়েন না। তিনি বলেন,‘ মৌমিতা বাসের চালক চাঁদমারী বস্তির সামনে যাত্রীবাহী বাস দাঁড়িয়ে রেখে মাদক কিনতে দেখেছি। তাছাড়া এ বাসে প্রতিনিয়ত মোবাইল মানিব্যাগ চুরি ছিনতাই হয়। আমার মোবাইল চুরি হয়েছে। বাসের চালক ও হেলপারদের সঙ্গে এ চোর ছিনতাইয়ের যোগাযোগ রয়েছে। যার কারণে চুরি ছিনতাই হলেও এরা কোন ব্যবস্থা নেয় না। এসব কারণে এখন মৌমিতা বাসে চলাচল করি না। অন্যদেরও বলবো যাতে এ বাসে চলাচল না করে।’

মোশারফ হোসেন বলেন, ‘আমি জেলা পরিষদের সামনে থেকে মৌমিতা বাসে উঠি চাষাঢ়া আসবো সেজন্য। কিন্তু বাসে উঠে চাষাঢ়া আসতে এটুকু রাস্তার মধ্যে আমার নতুন মোবাইলটা চুরি হয়ে যাই। বাসের হেলপার চালককে বললে বলে নিজে খেয়াল রাখতে পারেন না। উল্টো আমার সঙ্গে বাজে ব্যবহার করে। তারপর থেকে এ পরিবহনে চলাচল করি না।’

ফরিদা বেগম বলেন,‘বাসের হেলপার ও চালকদের ব্যবহারও অনেক খারাপ। প্রায় সময় মানুষের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে। কেন যে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না?।

ট্রাফিক বক্সে উর্ধ্বতন কর্মকর্তা না থাকায় দায়িতরত ট্রাফিক সদস্যরা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সালেহ উদ্দিন আহম্মেদের নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও