হোসিয়ারী কারখানা কেমিক্যাল গোডাউনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৪৯ পিএম, ১ সেপ্টেম্বর ২০২১ বুধবার

হোসিয়ারী কারখানা কেমিক্যাল গোডাউনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ

নারায়ণগঞ্জ জেলায় অনেক ঝুঁকি আছে বলে মন্তব্য করেছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন। তার মধ্যে সব চেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন হোসিয়ারী কারখানাগুলোকে। এছাড়াও ৬তলার উপরে ভবন নির্মাণের জন্য ফায়ার সেফটি আইন মেনে চলার জন্য আহবান জানান তিনি।

৩১ আগস্ট মঙ্গলবার দুপুরে শহরের ডিআইটি আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার ও মিলনায়তনের ৫ম তলায় পরীক্ষণ হলে কমিউনিটি পার্টিসিপেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিডি) এর উদ্যোগে ঝুঁকিহ্রাস পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার ভূমিকা এবং নগরভিত্তিক দুর্যোগ সহনশীলতা বৃদ্ধি প্রকল্প-২ এর সমাপনী কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।

আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ জেলায় অনেক ঝুঁকি আছে। এখানে হোসিয়ারী কারখানা আছে ২ হাজার। এখানে দুর্ঘটনা ঘটলে মানুষ বের হওয়ার সুযোগ থাকবে না। তাছাড়া এ এলাকা অনেক সরু। যেখানে ফায়ার সার্ভিসের পানির ট্যাংকিগুলো পৌছাতে পারে না। এজন্য প্রতিটি ভবনের জন্য পানির রিজার্ভার থাকতে হবে। এখনকার মানুষ ও শ্রমিকদের সচেতন করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘কেমিকেল গোডাউন হলো আপদ, এ আপদগুলো চিহ্নিত করতে হবে। এগুলো ব্যবস্থা নিতে পারলে বিপদ থেকে মুক্তি পাবো।’

আরেফিন বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে মানুষকে সচেতন ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। যেকেউ প্রশিক্ষণ নিতে পারবে। শুধু মাত্র আমাদের কাছে একটি আবেদন করলেই আমরা বাসা বাড়ি কিংবা অফিস আদালতের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিবো। দুর্যোগ মোকাবেলায় সচেতন করে তুলবো।’

তিনি আরো বলেন, ‘হাসেম ফুড কারখানায় অগ্নিকান্ডে শুধু মাত্র চতুর্থ তলা থেকে আমরা ৪৮টি আগুনে পোড়া মরদেহ উদ্ধার করি। কিন্তু এ ভবনে ফায়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। তাছাড়া কারখানা সিড়ির সামনে লোহার ব্লক করে তালা দেওয়া ছিল। যার জন্য কেউ নিচে বা ছাদে নামতে পারেনি। তারা যদি ছাদে উঠে যেতে পারতো তাহলেও আমরা তাদের উদ্ধার করতে পারতাম। তাই এখন থেকে বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে বিশেষ করে ৬ তলার উপরে ভবন নির্মাণে ফায়ার সেফটি আইন মেনে চলতে হবে। যারা ফায়ার সার্ভিস নিবে না তাদের যেন ভবন নির্মাণের অনুমতি না দেওয়া হয়। কারণ একটি বহুতল ভবনের নূন্যতম দুটি সিড়ি, আগুন নির্বাপন যন্ত্র ও পানির ব্যবস্থা থাকতে হবে। তবেই বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের লোকবল কম। তাই আমরা সবাইকে প্রশিক্ষণ ও সচেতন করতে কাজ করে যাচ্ছি। জেলায় আরো তিনটি ফায়ার স্টেশন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।’

এসময় উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ মঈনুল ইসলাম, সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র-৩ মিনোয়ারা বেগম, ১৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস, ১৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফি উদ্দিন প্রধান, সেভ দ্যা চিলড্রেনের ডেপুটি প্রজেক্ট ম্যানেজার সাইফুন্নাহার, সিপিডি প্রজেক্ট কো-অডিনেটর মো. ফজলুল হক, পরিবেশ আন্দোলন বাপার সহ সভাপতি তারেক বাবু, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সহ সভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল, সিপিডি নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ও সহ প্রকল্প সমন্বয়কারী কাজী এনামুল কবির প্রমুখ।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও