‘গুলি করে মেরে ফেলেন’

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৩৫ পিএম, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১ শুক্রবার

‘গুলি করে মেরে ফেলেন’

নারায়ণগঞ্জ বন্দরের ২০নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শিউলি নওশাদের ছোট ভাই সোহেলের বিরুদ্ধে মাদক বিক্রি অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে এবার শিউলি নওশাদ নিজেই সোহেল তার ভাই নয় বলে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন। একই সাথে তার ভাইয়ের কোন অপকর্মে নিজেকে না জড়াতে অনুরোধ করেছেন গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে।

সম্প্রতি একটি ভিডিওতে দেখা যায় মাদক বিক্রিতা সোহেল তার বসতঘরের জানালা দিয়ে প্রকাশ্যেই মাদক বিক্রি করছে। বন্দরের দড়ি সোনাকান্দা এলাকার খেজুর গাছ তলা সংলগ্ন আধা পাকা ভবনে বসে চলছে তার মাদকের কারবার। তবে যেই কাউন্সিলরের ভাই হওয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে কিছু বলতে সাহস পান না স্থানীয়রা, সেই কাউন্সিলরই এবার তাকে নিজের ভাই নয় বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

৯ সেপ্টেম্বর বন্দরের ২০ নং ওয়ার্ডে আয়োজিত এক বিট পুলিশিং সভায় শিউলি নওশাদ বলেন, আমাদের সমাজ কিভাবে ভালো হয় সেদিকে আমাদের লক্ষ রাখতে হবে। ভাই চুরি করছে ডাকাতি করছে। তারে ধরেন, গুলি কইরা মাইরা ফালান। আমার সন্তান যদি অপরাধ করে, আমার স্বামী যদি অপরাধ করে তাহলে তার দায়িত্ব আমি নিবো না। পত্রিকায় এসেছে সোহেল অপকর্ম করছে। সোহেল আমার ভাই না আমি সাংবাদিকদের সামনে বলে দিলাম। সোহেল যদি চুরি করে ডাকাতি করে আমি তার দায় নিবো না। ওর কোন অপকর্মের বিষয়ে আমাকে জড়াবেন না এইটা সাংবাদিক ভাইদের কাছে আমার অনুরোধ।

তবে সেখানকার বাসিন্দারা নাম গোপন রাখার শর্তে জানান, সোহেল চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। কাউন্সিলরের ভাই হওয়ায় তাকে এলাকার কেউ কিছু বলতে সাহস পায় না। তার কাছ থেকে যদি মাদক সেবীরা মাদক না কেনে তাহলে তাদের রাস্তায় ধরে মারধর করে সোহেল। সেই ভয়েও অনেক মাদক সেবী তার কাছ থেকে মাদক ক্রয় করে।

এদিকে শিউলি নওশাদের এমন ঘোষণার পর নতুন করে আলোচনা তৈরী হয়েছে সোনাকান্দা এলাকায়। স্থানীয়রা বলছেন, তার ভাই মাদক ব্যবসা করে এটি নতুন কিছু নয়। ২০ নং ওয়ার্ডে পুরো বিষয়টি ওপেন সিক্রেট। কিন্তু গত ৪ বছরে এই বিষয়ে টু শব্দ করেননি তিনি। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিষয়টি গণমাধ্যমে উঠে আসতেই নতুন করে এই ঘোষণা দিয়েছেন কাউন্সিলর। নির্বাচনে ভোটে যাতে কোন প্রভাব না পরে সেই কারনেই তার এই ঘোষণা বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

বন্দর থানা সূত্রে জানা গেছে, সোহেল একজন চিহ্নিত মাদক বিক্রি। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে জেল ও খেটেছে। জামিনে বের হয়েই আবারও মাদক বিক্রি সাথে জড়িয়ে যায়।

তবে কাউন্সিলরের ভাই হোক কিংবা কোন জনপ্রতিনিধি যদি মাদকের সাথে জড়িত থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দীপক চন্দ্র সাহা। তিনি বিট পুলিশিং সভায় বলেন, বন্দরে প্রধান সম্যসা হল মাদক। সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে বন্দরকে মাদক মুক্ত করতে হবে। আপনারা অপরাধীদের বিরুদ্ধে আমাদের কাছে তথ্য দিন। আমরা তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থান গ্রহন করব।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও