জেলখানায় বঙ্গবন্ধুকে মশারী দিয়েছিলেন তিনি

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:১৭ পিএম, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ মঙ্গলবার

জেলখানায় বঙ্গবন্ধুকে মশারী দিয়েছিলেন তিনি

গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক খাজা মহিউদ্দিনের স্মৃতিচারণ করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

ছোট ভাই নূর উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘তিনি আমাদের জাতির কৃতি সন্তান, ভাষা সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য ঘনিষ্ঠ সহচর এবং নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন আন্দোলনের অগ্রপুরুষ খাজা মহিউদ্দিন। আপনারা তাঁর জন্য দোয়া করবেন এবং তাকে ক্ষমা করে দিবেন।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী গ্রন্থে আমার বড় ভাই খাজা মহিউদ্দিনের নামে তিন থেকে চার জায়গায় তিনি মন্তব্য করেছেন। বঙ্গবন্ধু বলেছেন, ‘খাজা মহিউদ্দিন একটি সংগ্রামী ছেলে। তার মধ্যে আমি যা দেখেছি ভবিষ্যতে সে বাংলাদেশের বড় কিছু একটা হবে’ তিনি এভাবে মন্তব্য করেছেন। এবং আমার এ ভাই ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে থেকে ডিগ্রি পরীক্ষা দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু সেই ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। জেলে যখন খুব মশা কামড়াতো তখন বঙ্গবন্ধু একটি মশারিও যোগাড় করে দিয়েছেন। সেই কথাও বঙ্গবন্ধু তার বইয়ে উল্লেখ করেছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমার বড় ভাই তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঢাকা জেলার সভাপতি হিসেবে সাড়ে তিন বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৬৭ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত। তার থেকে দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন আজকের জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, ‘তিনি (মুক্তিযোদ্ধা খাজা মহিউদ্দিন) একজন সাধারণ ও সংগ্রামী নেতা ছিলেন। বঙ্গবন্ধু তাকে দেখে মন্তব্য করেছিলেন এ ছেলে বড় নেতা হবে। খাজা ভাই একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। আমি তার কাছ থেকেই দায়িত্ব বুঝে নিয়ে ছিলাম ঢাকা ছাত্রলীগের।’

তিনি বলেন, ‘আজ থেকে ৫০ বছর পর আবারও ২০৭১ ফিরে আসবে। প্রতি শতকে একবার করে ৭১ ফিরে আসবে। আর কোন দিন ফিরে আসবে না আমাদের দেশের সেই ১৯৭১। কোন দিন ফিরে আসবে না আমাদের সেই মহান মুক্তিযুদ্ধ। কোন দিন ফিরে আসবে না আমাদের সেই মহান নেতা বঙ্গবন্ধু। কোন দিন ফিরে আসবে না নেই ভাষণ,‘আমি যদি হুমক দিতে নাও পারি যার যা কিছু আছে তা নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর সেই নির্দেশটি আমার নেতা খাজা মহিউদ্দিন ভাই অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছিলেন। আমি তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।’

খাজা মহিউদ্দিনের বড় ছেলে তানভীর রায়হান ফরহাজ বলেন, ‘আমার বাবা গতকাল রাত ১০টা ১৮ মিনিটে ইন্তেকাল করেছেন। সে নারায়ণগঞ্জের জন্য অনেক অবদান রেখে গেছেন। অনেক কিছু এখনও বাস্তবায়ন হচ্ছে। আমাদের মেয়র সেটা করছেন। তার আরো মিশন ও ভিশন পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আরো আসবে। যেগুলো নারায়ণগঞ্জের জন্য আরো উপকার নিয়ে আসবে।

তিনি বলেন, ‘আমার বাবা যদি কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকে তাহলে আমি তাঁর পক্ষ থেকে ক্ষমা চাইছি। আপনারা ক্ষমা করে দিবেন। তার জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন বেহেস্ত নসিব করে সেজন্য দোয়া করবেন।

প্রসঙ্গত সোমবার দিনগত রাত ১০টা ১৮ মিনিটে রাজধানী ঢাকার বিটিআই ভবনের বাসায় বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক খাজা মহিউদ্দিন ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। তিনি এক স্ত্রী, তিন ছেলে ও দুই মেয়ে সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও