চাষাঢ়া পঞ্চবটি সড়কে ‘লীজ বাতিল’

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৪২ পিএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ বুধবার

চাষাঢ়া পঞ্চবটি সড়কে ‘লীজ বাতিল’

চাষাঢ়া ডাকবাংলো থেকে পঞ্চবটি পর্যন্ত নতুন সড়ক ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের মাঝখানে এলজিইডি বা জেলা পরিষদের অনেক জায়গা রয়েছে। সে জায়গা তড়িঘড়ি করে লীজ দেয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশন এই জায়গায় পার্কের আদলে সবুজের সমারোহ ঘটানোর পরিকল্পনা নিয়েছিল। লীজ দিয়ে দেয়ায় ওই যায়গায় সবুজ বেষ্টনী ও মিনি পার্ক করা যায়নি। নাসিক মেয়র ডাঃ সেলিনা হায়াৎ আইভী অচিরেই এ সকল লীজ বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি।

মেয়রের অভিযোগ, এই যায়গায় সবুজ বেষ্টনীসহ মিনিপার্ক তৈরী করলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে। প্রাণভরে নিঃশ্বাস নিতে পারবে। অথচ লীজ নিয়ে কিছু লোক ওই সরকারী যায়গায় হোটেল, রেস্তোরা, ফার্ণিচার, গ্যারেজসহ নানান দোকানপাট গড়ে তুলেছেন। এতেকরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নগরবাসী। রাস্তার পাশে দোকান। মানুষ ঠিকমত হাঁটা-চলা করতে পারেন না।

সরেজমিনে দেখাগেছে, ডাকবাংলো থেকে সোজা পশ্চিমে নতুন সড়কটির ডানপাশে লীজ নেয়া সরকারী যায়গায় লাইন ধরে বাহারী দোকানপাট। কিছু রেস্তোরাতো ঢাকার অভিজাত রেস্তোরর আদলে গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে অভিজাত পরিবারের লোকজনই কাস্টমার। সাধারণ মানুষ বিলের ভয়ে ভেতরে ঢোকেন কম। না জেনে ঢুকে পড়লে পকেট ফাঁকা হতে সময় লাগে না। উপরে টিনশেড দেখতে হলেও স্থাপনাগুলো যথেষ্ঠ শক্তপোক্ত।

একাংশে রয়েছে মিনিবাজার। মাছ, মাংস, মুরগী, তরিতরকারী থেকে শুরু করে সবই মিলে। ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠছে ঔষধের দোকান। চায়ের দোকান, ভাতের হোটেলের অভাব নেই। জামতলা, চাষাড়া ও আশপাশ এলাকার মানুষ ও চলতি পথের লোকজন এসব চা স্টলে বা ভাতের হোটেলে সকাল-সন্ধ্যা খাবার খায়। তাই বিক্রি-বাচ্চাও বেশ। কয়েকটি নার্সারীও চোখে পড়ে। তবে নার্সারী হারিয়ে যেতে বসেছে অন্যান্য দোকানের চাপে।

নগরবিদ ও স্থানীয়দের মতে, জেলা পরিষদের এই যায়গা লীজ দিয়ে জনগণের কোন উপকার হচ্ছে না। বরং লীজ বাতিল করে জনস্বার্থে সিটি করপোরেশনকে দিলে এখানে সবুজ বেষ্টনী ও মিনিপার্ক গড়ে তোলা হত। মেয়র ডাঃ আইভী এক কথায় রাজি আছেন। তিনিই এই প্রস্তাবটা রেখেছেন। কিন্তু মেয়র মহোদয়কে পাশ কাটিয়ে কিছু ব্যক্তির কাছে জনগনের যায়গা লীজ দেয়া হয়েছে। সবুজ বেষ্টনী গড়ে তুললে রাস্তায় যানজটও অনেকাংশে কমে যেত। শুধু চলাচলের রাস্তায় গাড়ি থামে না। কিন্তু রাস্তার পাশে দোকান-পাট, রেস্তোরা বা কোন বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকলে যার যেখানে দরকার রাস্তার পাশে গাড়ি চাপিয়ে দেয়। এতেকরে যানজট বাড়ে।

জামতলা ও হাজী ব্রাদার্স রোডের বাসিন্দারা জানান, আজকাল এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে কষ্ট হয়। অথচ এক সময় এখানে ছিল পুকুরের ন্যায় ডোবা-নালা। মেয়র আইভী এই ডোবা-নালা ভরাট করে বাইপাস রাস্তা তৈরী করে দিল। তবুও জনগণের ভোগান্তি দূর হচ্ছে না। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী লোক লীজ নিয়ে সরকারী যায়গায় হোটেল, রেস্তোরা বা দোকানপাট গড়ে তুলেছে। এখন এ এলাকার দোকানপাট বেশ জমজমাট। একেকটি দোকানের পজিশন বিক্রি হয় চড়া দামে।

শাহীন ডাক্তারের গলির বাসিন্দা মোকারম হোসেন এর মতে, মেয়র আইভীর কাছে আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তিনি এই ডোবা-নালাকে ভরাট করে রাস্তা বানিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু তিনি রাস্তার মাঝখানের যায়গার উপযুক্ত ব্যবহার করতে পারেননি। জেলা পরিষদ বা এলজিইডি থেকে কিছু লোক রাতারাতি ওই যায়গা লীজ এনে গড়ে তুলেছে দোকানপাট। এখন এ সকল দোকানপাট তুলে সবুজ বেষ্টনী ও মিনিপার্ক গড়ে তোলা খুব জরুরী। দেওভোগ বড় পার্ক হল। চাসাড়াতেও পার্ক বানানো জরুরী। নইলে আমাদের ছেলে মেয়েরা যাবে কোথায় ? কাজেই এই যায়গার লীজ বাতিল করে মিনিপার্ক গড়ে তোলাটাই শ্রেয়।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও