বোস কেবিন, জগৎবন্ধু’তে নোংরা পরিবেশ!

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:৫৪ পিএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ বুধবার

বোস কেবিন, জগৎবন্ধু’তে নোংরা পরিবেশ!

কাজে নেমেই হতবাক হলেন নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা। বোস কেবিন, জসৎবন্ধুসহ নারায়ণগঞ্জের স্বনাম ধন্য হোটেল- রেস্তোরা ও মিষ্টির দোকানে ভেতরে নোংরা পরিবেশ। একদিকে, নোংরা স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে মিষ্টান্নসহ তৈরী হচ্ছে নানা উপাদেয় খাবার। অন্যদিকে যারা খাবার তৈরী করছেন সেই কারিগরদের নেই শারীরিক ফিটনেস সার্টিফিকেট। খাদ্য কর্মকর্তা সব অসঙ্গতি দূর করার নির্দেশ দিলেন পরামর্শের আকারে। তিনি পুণরায় ফলোআপ করার কথাও বলে আসলেন এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। ছয়টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭ দিনে সে কথা একটি প্রতিষ্ঠানও কানে তোলেনি। যথা পূর্বং তথা পরং।

নারায়ণগঞ্জ জেলায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে কাজ শুরু করেছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। সামান্য লোকবল নিয়েই সরকারী সংস্থাটি মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। এই সংস্থাটি এ পর্যন্ত হোটেলের ম্যানেজার, ওয়েটার ও কর্মচারী মিলিয়ে ৭০ জনকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। পর্যায়ক্রমে তাদের কাজ চলবে। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাথে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের একটি মিটিং হয়েছে। সেখানে আলোচনায় উঠে এসেছে সিটি করপোরেশন এলাকার খাদ্য নিরাপত্তার দিকগুলো। শহরের অধিকাংশ হোটেল-রেস্তোরা অবস্থিত ১৫ নং ওয়ার্ডে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ সিটি করপোরেশনের সাথে যৌথভাবে ১৫ নং ওয়ার্ডের হোটেল-রেস্তোরাতে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, নারায়ণগঞ্জ এর নিয়মিত মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে গত ২৯ আগস্ট নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা ফারজানা ইয়াসমিন সোনিয়ার নেতৃত্বে জগৎবন্ধু মিষ্টান্ন ভান্ডার, আশীর্বাদ মিষ্টান্ন ভান্ডার, মিঠাই, বোস কেবিন, রসরাজ মিষ্টিমূখ এবং নিউমিষ্টি মূখে মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ সময় খাদ্য স্থাপনার ভেতরে অনেক নোংরা পরিবেশে খাদ্য তৈরি এবং সংরক্ষণ করতে দেখা যায়। নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরে খাদ্য ব্যবসায়ীদের সতর্ক হয়ে স্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিরাপদ খাদ্যপণ্য প্রস্তুত, সংরক্ষণ সহ প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান এবং খাদ্য ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন অসংগতিগুলো তুলে ধরে সমাধানের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। উক্ত মনিটরিং এ নিরাপদ খাদ্য আইনের লিফলেট ও পালনীয় নির্দেশাবলি সম্বলিত সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।

সূত্রমতে, কিসে ভেজাল নেই? ফল খেতে যান, পাবেন কার্বাইড, নয়তো ফরমালিন। মাছ, শাকসবজি তাতেও মেশানো একই জিনিস। রোজার সময় মুড়ি খাবেন ? তাতেও ইউরিয়া মেশানো। মিষ্টিজাতীয় খাবার কিনতে যান, সঙ্গে বিনামূল্যে পাবেন রং। মসলার ক্ষেত্রেও তাই। দুধ আজকাল ফরমালিন, আটা, গুঁড়া দুধ, ময়দা, চালের গুঁড়া, পামঅয়েল মেশানো হয়। ভেজাল দুধে ছানা তৈরি হবে না। ফরমালিন থাকলে সামান্য পরিমাণ দুধ নিয়ে দু’তিন ফোঁটা লেবুর রস দিলেই বোঝা যাবে অর্থাৎ ছানা হবে না। দুই চামচ দুধ একটি কাপে নিন। এতে দুই ফোঁটা টিংচার আয়োডিন মিশিয়ে দিন। দুধের রঙ হালকা নীল হলে বুঝবেন এতে ভেজাল হিসেবে আটা বা ময়দা মেশানো রয়েছে। পামঅয়েল মিশিয়ে দুধের নকল ননি তৈরি করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, সময় আমাদের কাছ থেকে অনেক কিছুই কেড়ে নিয়েছে কিন্তু সবচেয়ে বড় ক্ষতি করছে খাদ্যে ভেজালকারীরা। মহামান্য হাইকোর্টে যে ৫২টি নি¤œমানের পণ্যের তালিকা উঠেছিল, তার মধ্যে রয়েছে সরিষার তেল, চিপস, খাওয়ার পানি, লবণ, হলুদ গুঁড়া, ধনিয়া গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া, লাচ্ছা সেমাই, সুজি, বিস্কুট, ঘি, দই, কারি পাউডার, নুডলস, মধু। এর বাইরেও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বেরিয়ে আসছে চমকপ্রদ সব নেতিবাচক তথ্য। চালের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে অ্যারারুট। চাল সাদা করতে দেওয়া হচ্ছে সোডিয়াম হাইড্রো-অক্সাইড, ওজন বাড়াতে মেশানো হচ্ছে গুঁড়া পাথর, কাঁকর, ইটের গুঁড়া। চালকে কয়েকবার সেদ্ধ করাতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ভিটামিন-বি। ভেজাল চাল শুধু ক্ষুধামান্দ্য, পেটের পীড়ার জন্যই দায়ী না, এটি আমাদের ফুসফুস, কিডনি, লিভারের জন্যও ক্ষতিকর। দুধে মেশানো হচ্ছে পানি ও ময়দা। খাঁটি দুধের সঙ্গে সয়াবিন তেল, চিনি ও রং মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে দুধ। দুধের ছানায় দেওয়া হচ্ছে ফরমালিন। কাঁচা আম কেমিক্যাল দিয়ে পাকিয়ে বিক্রি হচ্ছে, ফলে এবং মাছে দেওয়া হচ্ছে ক্ষতিকর মাত্রার ফরমালিন। অস্বাস্থ্যকর, নোংরা পরিবেশে কারাখানার রং দিয়ে তৈরি হচ্ছে মিষ্টি। নামীদামি ফুডকোর্টগুলো বিক্রি করছে পচা-বাসি খাবার। দীর্ঘদিন আগের গরুর মাংস তাজা দেখাতে মেশানো হচ্ছে রং। মহিষের মাংস বিক্রি হচ্ছে গরুর মাংস বলে। চায়নিজ রেস্তোরাঁর খাবারে মিলছে তেলাপোকা। জিলাপির খামিতে দেওয়া হচ্ছে ক্ষতিকর হাইড্রোজ। রাইস মিলের আড়ালে গড়ে উঠেছে নি¤œমানের তেল, সাবান, জুস উৎপাদন কারখানা। নোংরা পরিবেশে পোড়া তেলে তৈরি হচ্ছে লাচ্ছা সেমাই। জালিয়াতি চক্র নামীদামি কোম্পানির মোড়কে ভরে দিচ্ছে নকল চিপস। খাবার উৎপাদনের তারিখ পরিবর্তন করে কারখানা থেকে বিক্রির জন্য যাচ্ছে দই। হলুদে মেশানো হচ্ছে রং।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও