হাজী সাহেবের খোঁজে পুলিশ

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:২৩ পিএম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ শুক্রবার

হাজী সাহেবের খোঁজে পুলিশ

জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কৃত বহুল বিতর্কিত বজলুর রহমান ওরফে হাজী রিপনকে খুঁজছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে একটি চাঁদাবাজী মামলার গ্রেপ্তারী পরোয়ানা রয়েছে। ইতোমধ্যে রিপনের সঙ্গে আরমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে শহরের নলুয়াপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত আরমান নলুয়া পাড়া এলাকার মৃত হযরত আলী হযুর ছেলে।

সদর মডেল থানর উপ-পরিদর্শক আজহারুল ইসলাম জানান, সদর উপজেলার বারীর টেক কোরবানী গরুর হাটে চাদাবাজি করার ঘটনায় সোহেল বাদী সদর মডেল থানায় চাঁদাবাজি একটি মামলা দায়ের করেছিল। সে মামলার আসামি আরমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক রয়েছে হাজী রিপন। তাকে গ্রেফতার করার জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে ।

এর আগে গত মার্চে সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান প্রীতমকে পিটিয়ে ও রক্তাক্ত জখম করেছে একদল সন্ত্রাসী। এ হামলার নেতৃত্ব দেন বহু মামলার আসামী বিতর্কিত হাজী রিপন। এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল।

ওইদিন লিখিত অভিযোগে সাংবাদিক প্রীতম উল্লেখ করেন, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানাধীন লিংক রোডে অবস্থিত জেলা কারাগারের বিপরীতে একটি জমির উপর নির্মিত দোকানপাটে ভাঙ্গচুর ও লুটপাট চালানোর সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজের নিকন ডি ৭০০ মডেলের ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলেন তিনি। ছবি তুলতে দেখে সন্ত্রাসীরা তার দিকে তেড়ে আসে, পরে সে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিলে এক সময়ের শীর্ষ সন্ত্রাসী খ্যাত হাজী রিপন তার হাতে থাকা লোহার হাতল দ্বারা সাংবাদিক প্রীতমের মাথায় আঘাত করে রক্তক্ষরণ ঘটায়। একইসময়ে কাউন্সিলর শফিউদ্দিন প্রধান ও হারুন অর রশিদ এবং ৪০/৫০ জন হামলাকারী লোহার রড, লোহার পাইপ, কাঠ, বাঁশসহ দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র দ্বারা তাকে বেদম মারধর করে রক্তাত্ব জখমসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে তার সাথে থাকা নিকন ডি ৭০০ মডেলের ক্যামেরা, স্যামসাং এম ২১ মডেলের একটি স্মার্টফোন, পকেটে থাকা আট হাজার ৩০০ টাকা, জাতীয় পরিচয় পত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের মূল কপিসহ মানিব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এসময় তার মাথা ফাটিয়ে, হাত ভাঙ্গা, পিঠে অজস্র কাটা, রক্তাত্ব জখমসহ শরীরের সকল স্থানে নীলাফুলা জখম করে।

জানা গেছে, ২০০৯ সালে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পরে নিতাইগঞ্জের ট্রাক কভার্ডভ্যান ট্যাঙ্কলরীর চালক ইউনিয়নের সভাপতি বনে গিয়ে আলোচনায় আসেন হাজী বজলুর রহমান রিপন ওরফে হাজী রিপন। নিতাইগঞ্জের ট্রাক স্ট্যান্ড পঞ্চবটিতে স্থানান্তর নিয়ে বিলুপ্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র (বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র) ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ট্রাক চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে হাজী রিপনের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় ব্যাপক আলোচিত সমালোচিত হন হাজী রিপন। এছাড়া ট্রাকস্ট্যান্ড স্থানান্তর নিয়ে ট্রাক শ্রমিকদের ও এলাকাবাসীর মধ্যকার সংঘর্ষের ঘটনায় উস্কানীদাতা হিসেবেও আলোচিত ছিলেন। এছাড়া ট্রাক শ্রমিকদের থেকে বেপরোয়া চাঁদা দাবির অভিযোগ তো ছিলই। তাছাড়া সুতা ডাকাতি, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডেরও অভিযোগ উঠেছিল হাজী রিপনের বিরুদ্ধে।

২০১০ সালে বাংলাদেশ হোসিয়ারী এসোসিয়েশনের সদস্য পদে নির্বাচিত হওয়ার পরে ক্ষমতার দাপটে এসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি বিচার শালিস কমিটির চেয়ারম্যান বনে গিয়ে হোসিয়ারী ব্যবসায়ীদেরকে নাজেহাল করারও অভিযোগ ছিল হাজী রিপনের বিরুদ্ধে।

তবে ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোটাররা মুখ ফিরিয়ে নেয় হাজী রিপনের দিক থেকে। যার ফলে শনির দশা ভর করে হাজী রিপনের উপর। নভেম্বরে নির্বাচনে পরাজয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই ওই বছরের ডিসেম্বরে অভিজাত নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের টয়লেটে বড় ছেলে সালেহ রহমান সীমান্তের যৌন কেলেঙ্কারীর ঘটনায় ক্লাবের সদস্যপদ হারায় হাজী রিপন।

এর কিছুদিন পরেই ২০১৩ সালের ৭ জানুয়ারী শহরের পাইকপাড়ায় বিউটি পার্লারে অভিসারে গিয়ে নারীসহ জনতার হাতে আটকের পর লাঞ্ছিত হওয়ার পরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করে। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই বহুল আলোচিত জাপা ক্যাডার হাজী রিপনের সাথে শহরের পাইকপাড়া ভূইয়াপাড়া এলাকায় অবস্থিত একটি বিউটি পার্লারে সুন্দরী ললনা লিন্ডার সাথে চলছিল অসামাজিক কার্যকলাপ। স্থানীয় কাউন্সিলারের ঘনিষ্ট সহযোগী হওয়ায় অপকর্ম করেও পার পেয়ে যাচ্ছিল হাজী রিপন ও তার দোসররা। নিয়মিত ওই পার্লারে অসামাজিক কার্যকলাপের পাশাপাশি চলতো মাদক সেবনও। তবে সোমবার বিকেলে স্থানীয় বিক্ষুব্দ জনতা তাদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ মিটিয়েছেন হাজী রিপনকে গণধোলাই দেয়ার মাধ্যমে। পুলিশের উপস্থিতিতেই তাকে বেধড়ক মারধর করে উত্তেজিত জনতা।

২০১৩ সালের ৬ মার্চ আলোচিত ত্বকী হত্যাকান্ডের ঘটনায় হাজী রিপনের জামতলাস্থ বাসভবনে র‌্যাব-১১ এর অভিযান ও বড় ছেলে সালেহ রহমান সীমান্তের গ্রেফতারের পরে আবারো আলোচনায় আসেন হাজী রিপন। তবে নানা ঘটনার পরিক্রমায় ট্রাক চালক ইউনিয়নের সভাপতির পদে হাজী রিপনের আধিপত্য নেমে এসেছিল তলানীতে।

এরপর ট্রাক চালক ইউনিয়নের সভাপতির পদও হারিয়েছিল হাজী রিপন। পদ হারানোর আগে শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল থেকে সমিতির সভাপতি হাজী রিপন ও সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান মানিককে রক্তচোষা হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। ওই বছরের ১৩ অক্টোবর অস্তিত্ব রক্ষায় হোসিয়ারী এসোসিয়েশনের নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন হাজী রিপন। তবে তৎকালীন সভাপতি শাহজালালের নেতৃত্বাধীন প্যানেল থেকে ছিটকে পড়েছিলেন হাজী রিপন।

২০১৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ ট্রাক ট্যাঙ্কলরী কভার্ডভ্যান শ্রমিক কমিটির সভাপতি হাজী বজলুর রহমান রিপন বিরুদ্ধে মারধারের অভিযোগ এনে থানায় মামলা করেছেন তারই বন্ধু ও ব্যবাসয় র্পটনার এজাজ আহমেদ। ওইদিন রাতে নিজে বাদী হয়ে হাজী রিপন, মিঠু, শাহিন, টিটুসহ আরো কয়েকজনকে অজ্ঞাত করে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা করেন।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও