চাষাঢ়া জামতলায় সক্রিয় ধাক্কা পার্টি

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:১২ পিএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ বৃহস্পতিবার

চাষাঢ়া জামতলায় সক্রিয় ধাক্কা পার্টি

আপনি চাষাঢ়া থেকে জামতলার দিকে হাঁটছেন একাকী। তবে আপেক্ষিক ভাবে আপনি একা নন, আপনাকে ফলো করে কেউ দীর্ঘ সময় ধরেই আপনার আশেপাশে হেঁটে যাচ্ছে একদল যুবক। নির্ধারিত স্থানে পৌঁছাতেই সামনা সামনি ধাক্কা লাগবে আপনার সাথে। তারপরেই বিপরীত পাশের ব্যক্তির মোবাইল হাত থেকে পরে ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে। তাৎক্ষনিক ভাবে পুরো বিষয়টি হঠাৎ ঘটেছে মনে হলেও তা অনেক আগে থেকেই সাজানো। আর এর পেছনে রয়েছে সংঘবদ্ধ একটি প্রতারক চক্র।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ শহরের জামতলা, চাষাঢ়া, কলেজ রোড এলাকায় এই চক্রের উৎপাত প্রকট আকার ধারণ করেছে। কয়েকদিন পরপরেই ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের অসহায় অবস্থা ফুটে উঠে পথচারীদের কাছে। পেছনে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি প্রভাবশালী মহলের নাম ভাঙ্গিয়ে এসব অপকর্ম করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীরা পরবর্তী সময়ে ঝামেলা এবং প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস না পেয়ে আইনি আশ্রয় না নিয়ে পিছু হটে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শহরের জামতলা, মাসদাইর, কলেজ রোড এলাকা থেকেই সংঘবদ্ধ একটি চক্র প্রায়ই মানুষকে বিপদে ফেলে মোবাইল ও টাকা পয়সা ছিনিয়ে নেয়। মূলত তারা সময় বেছে নেয় অফিস টাইমের বাইরে। যখন পুরো শহর কিছুটা ফাঁকা হয়ে আসে। ঠিক এই সময়েই নির্ধারিত একজনকে টার্গেট করে তাকে অনুসরণ করতে থাকে চক্রটি। নির্জন স্থানে পৌঁছে তাদেরই একজন ধাক্কা দেয় টার্গেটকৃত ব্যক্তিকে। এরপর পূর্ব থেকে ভাঙ্গা একটি ফোন রাস্তায় ফেলে মোবাইল ভেঙ্গে যাওয়ার নাটক তৈরী করে। এরপরেই শুরু হয় দেন দরবার।

স্বাভাবিক ভাবেই কারও মোবাইল ভেঙ্গে যেতে দেখে অনুশোচনায় ভোগে টার্গেটকৃত ব্যক্তি। সাথে সাথেই পূর্ব পরিকল্পনা মত দুই চারজন জড়ো হয়ে যায় টার্গেটকৃত ব্যক্তির পাশে। তার হাত থেকে মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে বলা হয় ভাঙ্গা মোবাইল ঠিক করে দিতে কিংবা সমপরিমান অর্থ পরিশোধ করতে। ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ তর্ক করতে গেলে তাকে বোঝানো হয় তারা এলাকার প্রভাবশালীদের অনুগত। ফলে সাহস করে আর কিছু বলতে পারেননা ভুক্তভোগী।

দফারফার এক পর্যায়ে ভুক্তভোগীকে প্রস্তাব দেয়া হয় সিগারেট ও কোল্ড ড্রিংকস এনে দিলে ফিরিয়ে দেয়া হবে তার মোবাইল। ভুক্তভোগী ঝামেলা থেকে উত্তরণে এই প্রস্তাবে রাজি হয়ে দোকানে গেলেই পেছন থেকে চম্পট দেয় পুরো চক্রটি। ফলে মাঝ রাস্তায় আফসোস প্রকাশ করা ছাড়া কিছুই করার থাকেনা ভুক্তভোগীর।

ঠিক এমনই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে গার্মেন্টস কর্মী মনিরুল বলেন, আমি একদিন ছুটি নিয়ে আমার বোনের বাসায় যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে আমার সাথে এক লোকের ধাক্কা লাগে এবং তার ফোন নিচে পরে ভেঙ্গে যায়। তারপরেই সে আরও কয়েকজন জড়ো করে আমাকে ধমক দিতে শুরু করে। আমার পকেট থেকে মোবাইল বের করে নেয়। প্রায় ১৫ মিনিট অনুরোধ করার পর সে বলে তাকে কোক এবং সিগারেট কিনে দিতে। তাহলেই দিয়ে দিবে আমার ফোন। আমি একটি দোকান থেকে সেসব কিনে আনতেই দেখি ঘটনাস্থলে কেউ নেই। সবাই চলে গেছে। আমি এদের কাউকেই চিনি না। কি বলবো আর ১০ হাজার টাকার মোবাইলের জন্য কোন ঝামেলায় জড়াবো এই চিন্তা করে পুলিশের কাছেও যাইনি।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রকিবুজ্জামান বলেন, এই ধাক্কা পার্টি নিজেদের মোবাইল, ল্যাপটপ ইচ্ছা করে ফেলে দিয়ে টার্গেটকৃত ব্যক্তিদের কাছ থেকে মোবাইল টাকা হাতিয়ে নেয়ার কথা শুনেছি। তবে থানায় আনুষ্ঠানিক ভাবে কেউ অভিযোগ করেনি। যদি কোন ভুক্তভোগী এই বিষয়ে অভিযোগ করে তাহলে অবশ্যই আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিবো। পাশাপাশি যেই স্থানে এই ধরণের ঘটনা ঘটে সেখানে টহল বৃদ্ধি করবো।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও