জোড়া খুনের ৪ বছর

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:২২ পিএম, ১২ অক্টোবর ২০২১ মঙ্গলবার

জোড়া খুনের ৪ বছর

নারায়ণগঞ্জে ফতুল্লার কাশিপুরের আলোচিত জোড়া খুনের মামলার তদন্ত শেষ হয়নি ৪ বছরেও। এই ৪ বছরের ব্যবধানে মামলাটি দু’জন তদন্তকারী কর্মকর্তা বদল হয়ে দীর্ঘদিন ধরেই পিবিআইয়ের তদন্তাধীন। ওই হত্যাকান্ডের পরে কয়েকজন আসামীকে ডিবি পুলিশ ও গেল বছরে একজনকে পিবিআই গ্রেফতার করতে সক্ষম হলেও অধরাই ছিল বেশীরভাগ আসামী। অন্যতম আসামী বর্ষীয়ান বিএনপি নেতা আব্দুল মজিদ ওরফে মজিদ কমিশনার আদালত থেকে জামিন নিয়ে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। জোড়া খুনের মামলায় এজাহারনামীয় কয়েকজন আসামীসহ মোট ১৫ জনকে গ্রেফতারের পরে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ এবং এর মধ্যে একজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিলেও তৎকালে মামলার প্রধান আসামী জাহাঙ্গীর বেপারীসহ কিলিং মিশনে থাকা প্রথম ৭ জন আসামীর কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১২ অক্টোবর রাতে মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধে কাশীপুরের হোসাইনি নগর এলাকাতে একটি রিকশার গ্যারেজে সশস্ত্র হামলাকারীরা কুপিয়ে তুহিন হাওলাদার মিল্টন (৪০) ও পারভেজ আহমেদ (৩৫) নামে দুইজনকে হত্যা করা হয়। পরে নিহত পরিবারগুলোর পক্ষে মামলা না হওয়ায় ১৪ অক্টোবর দুপুরে ফতুল্লা মডেল থানার এস আই মোজাহারুল ইসলাম বাদী হয়ে ওই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির উপদেষ্টা ও বিলুপ্ত শহর কমিটির সহ সভাপতি এম এ মজিদ ও তার ভাই বিলুপ্ত শহর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আহমেদের নাম উল্লেখ করে বলা হয়, হত্যাকান্ডের ঘটনায় তাদের ইন্ধন থাকতে পারে।

মামলার আসামীরা হলো এক নং বাবুরাইলের শুক্কুর মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া জয়নাল আবেদীনের ছেলে জাহাঙ্গীর বেপারী (৪০), ১নং বাবুরাইল তারা মসজিদ এলাকার কাজল মিয়ার ছেলে বাপ্পী (২৮), রবিন (৩০), রকি (২৮), ভূইয়াপাড়া এলাকার মজনু মিয়ার ছেলে আমান (৩২), বাবুরাইল শেষমাথা এলাকার খোকা মিয়ার ছেলে শহিদ (৩০), বাবুরাইল তারা মসজিদ এলাকার আসলাম (৫০), বাবুরাইল ঋষিপাড়া এলাকার মৃত জাকিরের ছেলে মাহাবুব (৩০), বিএনপি নেতা হাসান আহমেদের ভাতিজা শিপলু (৩০) ও রাসেল (৩৩), বাবুরাইল এলাকার মুক্তা (২৮), পাইকপাড়া জিমখানা ডিমের দোকান এলাকার শরীফ (৩৩), বাবুরাইলের রানা (২৮), বাবুরাইলের কিরণ (৩০), মানিক (৩০), বাবুরাইলের আবদুল মান্নানের ছেলে ফয়সাল (২৬), বন্দর এলাকার রাব্বি (৩০), ১নং বাবুরাইলের নিলু সরদারের ছেলে সোহাগ (৩২), বাবুরাইল শেষমাথা এলাকার রাকিব (২৭), বাবুরাইল ঋষিপাড়া এলাকার সিরাজ মিয়ার ছেলে রাজন (৩০), বাবুরাইল এলাকার রিক্সা আবুল (৩৫), একই এলাকার ফরহাদ (৫২) সহ অজ্ঞাত আরো ১শ থেকে ১২৫ জন। মামলার আসামীরা সকলেই বিএনপি নেতা মজিদ বাহিনীর লোক হিসেবে পরিচিত।

ওই বছরের ২১ নভেম্বর কাশীপুরে ডাবল মার্ডারের এজাহারভুক্ত আসামী কিরণসহ আরো ৪ সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন, বাবুরাইল এলাকার কিরণ, আলাল, জালাল, মনির ও বরিশাইল্লা ইমরান। পরদিন ২২ নভেম্বর ভোরে মোঃ তৌফিকুল ইসলাম নামে আরো একজনকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ৫ নভেম্বর বাবুরাইলের মাদক স্পটের নিয়ন্ত্রক জুম্মন আহম্মেদকে আদালত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ২৩ অক্টোবর কিলিং মিশনে থাকা মাহবুব স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে আদালতকে জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জ বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক কমিশনার এম এ মজিদের নির্দেশেই সদর উপজেলার ফতুল্লার কাশীপুরে ডাবল মার্ডারের ঘটনা ঘটেছে। একইদিন জোড়া খুনের মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে নিজামুদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯ অক্টোবর আবুল ও জসিমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এর আগে ১৭ অক্টোবর ডাবল মার্ডারের এজাহার নামীয় আসামি রাকিবকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এছাড়া ১৫ অক্টোবর সকালে কাশিপুর খিল মার্কেট এলাকা থেকে মামলার ১০নং আসামী মো. মোজাম্মেল হক রাজনকে গ্রেফতার করা হয়। আদালত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলাটি প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ কর্তৃক তদন্তাধীন অবস্থায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এর নির্দেশক্রমে মামলাটি পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলায় তদন্তাধীন রয়েছে। পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোঃ মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে এবং দিক নির্দেশনায় বর্তমানে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা হলেন এসআই শাকিল হোসেন। ২০২১ সালের ১৮ জুন শহরের ১নং বাবুরাইল শেষ মাথা এলাকা থেকে কাশিপুরের আলোচিত জোড়া খুনের মামলার এজাহারনামীয় অন্যতম আসামী শহীদ হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জ শাখা। গ্রেফতারকৃত শহীদ হোসেন ওই এলাকার খোকা মিয়ার পুত্র। পরে তাকে রিমান্ডে নিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই। তবে গ্রেফতারকৃত শহীদ আদালতে স্বীকারোক্তি দেয়নি।

বর্তমানে জোড়া খুনের দুই নির্দেশদাতা মজিদসহ আসামীদের বেশীরভাগই আদালত থেকে জামিন নিয়ে এলাকায় বহাল তবিয়তে রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোঃ মনিরুল ইসলাম জানান, কাশিপুরের জোড়া খুনের মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। কয়েকমাস আগে এক আসামীকে তারা গ্রেফতার করলেও সে আদালতে স্বীকারোক্তি দেয়নি। আশা করছি দ্রুতই তদন্ত শেষে চার্জশীট প্রদান করতে পারবো।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও