সিদ্ধিরগঞ্জের দুই গরুর হাটের টাকা লোপাট!

|| নিউজনারায়ানগঞ্জ২৪.নেট ০১:০১ এএম, ১ জানুয়ারি ২০১৫ বৃহস্পতিবার

সিদ্ধিরগঞ্জের দুই গরুর হাটের টাকা লোপাট!
পুলিশ ও আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের নাম ভাঙ্গিয়ে গরুর হাটের টাকা নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের একজন নেতা নিজেই আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে গত কয়েকদিন যাবত ক্ষোভ বিরাজ করছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগ, মহিলালীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মাঝে। ৩৬ লাখ টাকার মধ্যে প্রায় ৮ লাখ টাকা শেয়ারসহ অন্যান্যদের মধ্যে বিলি বন্টন করে বাকী ২৮ লাখ টাকা মজিবুর রহমান আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন নেতা-কর্মীরা। এ নিয়ে তাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।   নেতা-কর্মীরা জানায়, ঈদ উপলক্ষ্যে সিদ্ধিরগঞ্জের আইয়ুব ফাউন্ডেশন মাঠ ও মজিব বাগ মাঠের প্রধান ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব নেয় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগর সভাপতি মজিবুর রহমান। সেভেন মার্ডারের পর নূর হোসেন ও ইয়াছিনের শূন্যতায় হাটের ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব নেয় মজিবুর রহমান। ওই দুই গরুর হাট থেকে আয় হয় ৩৬ লাখ টাকা। এতে শেয়ার ছিল ৩৪ জন। যার মধ্যে মজিবুর রহমানের নামেই ছিল ৬ টি শেয়ার। আইয়ুব ফাউন্ডেশনের জায়গার হাটের ক্যাশিয়ার ছিলেন সেভেন মার্ডারের প্রধান আসামী নূর হোসেনের অন্যতম উপদেষ্টা তাজিম বাবু ও সাদেকুর রহমান। অপরদিকে মজিব বাগ এলাকার হাটের ক্যাশিয়ার ছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগর সাংগঠনিক সম্পাদক আবু বকর ও মজিবরের ভাতিজা বাদল মেম্বার। ঐ চার ক্যাশিয়ার প্রতি রাতে টাকাগুলো প্রধান ক্যাশিয়ার মজিবর রহমানের কাছে জমা রাখত। এতে করে ঐ চার ক্যাশিয়ার লাভের ৩৬ লাখ টাকা  জমা দেয় মজিবরের কাছে। ঈদ শেষে দফায় দফায় মজিবরের বাসায় বৈঠক শেষে  ৩২ জন শেয়ার হোল্ডারকে ২০ হাজার টাকা করে ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। যার ৬ টি শেয়ারের ১ লাখ ২০ লাখ টাকা পায় মজিবর রহমান নিজেই। বাকী ২ শেয়ার হোল্ডারকে দেয়া হয় ৪০ হাজার করে ৮০ হাজার টাকা। ১ নং ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীদের দেয়ার জন্য ৩৫ হাজার টাকা দেয়া হয় ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুর রহিম মেম্বারকে। একই কারণে ৪৫ হাজার টাকা নিজের পকেটে রাখেন মজিবর রহমান। কিন্তু ঐ ৪৫ হাজার টাকা মজিবর রহমান নেতা-কর্মীদের না দিয়ে তার বাসা এবং গার্মেন্টের দারোয়ান, পিয়ন ও ড্রাইভারদের মাঝে বন্টন করে দেন। জাতীয় পার্টি নেতা অসুস্থ্য মোহাম্মদ আলীকে তার ভাই সিরাজের মাধ্যমে দেয়া হয় ১০ হাজার টাকা। মোহাম্মদ আলীর ভাই সিরাজকে দেয়া হয় ৫ হাজার টাকা। থানা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কালীপদ মল্লিককে দেয়া হয় ১০ হাজার টাকা। এতে সর্বমোট ৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা খরচ করেন মজিবর রহমান।   বাকী টাকা নারায়ণগঞ্জের আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতা, প্রশাসন ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগ, মহিলালীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের দেয়া হবে বলে মিটিংয়ে উপস্থিত লোকজনের কাছে প্রচার করে নিজের কাছে রেখে দেয় আওয়ামী লীগের একজন নেতা। কিন্তু রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের কাউকে কোন টাকা দেয়া হয়নি বলে জানতে পেরেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগ, মহিলালীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এতে করে তাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও