বিপন্ন মনুষ্যত্ব এবং বর্বরতার রূপ বদল!

|| নিউজনারায়ানগঞ্জ২৪.নেট ০১:০১ এএম, ১ জানুয়ারি ২০১৫ বৃহস্পতিবার

বিপন্ন মনুষ্যত্ব এবং বর্বরতার রূপ বদল!
মীর আব্দুল আলীম : এটাতো দেখি বিস্ময়ের বাংলাদেশ! কি না ঘটছে এদেশে? কত কিছুই তো দেখছি আমরা। দিন দিন যেন, বিস্ময়ের মাত্রা বাড়ছে। দেশে মনুষ্যত্বের অপমৃত্যু হচ্ছে। মানুষের ভেতরকার বিবেক বোধ হারিয়ে যাচ্ছে। মানুষ গুলো দিন দিন কেমন যেন দয়া-মায়াহীন হয়ে পরেছে। নিষ্ঠুর হয়ে যাচ্ছে। কখনো বিবেক বুদ্ধি; কখনো অর্থের তারনায় অহমিকাচ্ছনা মানুষ কেমন যেন পাল্টে যাচ্ছে। খুনের পর লাশ টুকরটুকর করে ফেলা, পুড়িয়ে মারা, নিজ সন্তানের হাতে মা-বাবা খুন হচ্ছে। পরকীয়ার জেরে গর্ভধারিণী মায়ের হাতে প্রিয় সন্তান খুনের মতো ভয়ংকর অপরাধও বেড়েছে। প্রেম ও পরকীয়া কেন্দ্র করে নারী ও শিশুকে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে। দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামী খুন করছে স্ত্রীকে, স্ত্রী স্বামীকে। তুচ্ছ ঘটনার জের ধরেই একের পর এক ঘটছে প্রাণসংহারের মতো ঘটনা। দুর্বৃত্ত বা সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি পরিবারের আপন মানুষটির কাছেই আরেকজন সদস্য ক্রমশ নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ছে। প্রাণ হারাচ্ছে। সামাজিক অপরাধের লাগামহীন বৃদ্ধি দেশের মানুষ উদ্বিগ্ন।   দেশে এমন নিষ্ঠুর ঘটনা ঘটছে যা আদিম বর্বরতাকেও হার মানায়। আমাদের নিষ্ঠুরতার ব্যারোমিটার কোথায় গিয়ে ঠেকেছে? সময়ের সাথে বেড়ছে পারিবারিক অস্থিরতা। বেড়েছে নৃশংসতা। ঈদের দিন রাতে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার এক অজো গাঁয়ে একই পরিবারের ৪ জনকে পুড়িয়ে মারার নৃশংস ঘটনা দেশব্যাপি তৈরি করেছে বিষাদময় আবহ। সিঙ্গাপুর প্রবাসী এক বখাটে দেশে ফিরে এক কিশোরীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল। এনিয়ে ক’মাস ধরে বিচার সালিশসহ নানা কান্ড ঘটেছে ঐ গ্রামে। স্থানীয় থানা পুলিশও জানে ওসব। জীবনের নিরাপত্তার জন্য মেয়ে পরিবার থানায় অভিয়োগ করলেও পুলিশ সহায়তার হাত বাড়ায়নি তাই  শেষ রক্ষা হয়নি। ঈদের গভীর রাতে ঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে জানালা দিয়ে পেট্রল নিক্ষেপের পর আগুন ধরিয়ে দেয়া ঐ পাষন্ড ও তার সহযোগীরা। মা ও তিন মেয়ে ভস্মীভূত হয় নিমিষেই।   অতিত নিকটে রাজধানীর ডেমরায় আপন মায়ের অনৈতিক সম্পর্কে বাধা দেওয়ায় ছেলে কামরুজ্জামানকে (৩০) হত্যা করা হয়। ঘাতক মা মরিয়ম বেগমের পরিকল্পনাতেই তার প্রেমিক আজিজুল হক ও তার সহযোগীরা তাকে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে যায়। মরিয়মের স্বামী আশোক আলী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ্য থাকায় আজিজুল হকের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন মরিয়ম। পরকীয়ার জের ধরে ডেমরায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে সেখানেই মিলিত হতেন তারা। গত রোজায় মরিয়মের ছেলে কামরুজ্জামান বিষয়টি টের পাওয়ার পর মায়ের সঙ্গে তার হাতাহাতি হয়। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত মরিয়ম ছেলেকে মেরে ফেলার দায়িত্ব দেন কামরুজ্জামানকে। একজন মা যখন তার নিজ সন্তানকে খুন করে তখন সেটা স্বাভাবিক ঘটনা নয়। এর পেছনে সামাজিক কারণ রয়েছে কি না সেটা খতিয়ে দেখতে হবে। একটা অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর তার যথাযথ তদন্ত হতে হবে। তদন্ত শেষে বিচারে দাঁড় করাতে হবে। বিচার কার্যক্রম যথাযথভাবে শেষ হলে অপরাধী শাস্তি পাবে। ঈদেও দু’দিন পরের আরেকটি ঘটনাও মনে বেশ  কষ্টেও উদ্রেগ হয়। ঘটনা ঘটে ত্রিশাল উপজেলার কানিহাড়ী গ্রামে। যৌতুকের জন্য শ্বশুর মকবুল হোসেনকে বাড়িতে দাওয়াত দিয়ে এনে মেয়ে জামাই সাহাব উদ্দিন মেয়ের সামনেই বাবাকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। ১০ অক্টোবর ভোরে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে সৎমায়ের হাতে মাইমুনা আক্তার নামে ৬ বছর বয়সী এক শিশুর প্রাণ গেছে। তার সৎমা সুমাইয়া টয়লেটের ড্রামে চুবিয়ে তাকে হত্যা করে। প্রতিহিংসার বশে সৎ মা শারমিনই মেয়েটিকে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।   ৫ সেপ্টেম্বর ভোর ৬ টা। সিলেট শহরতলীর জালালাবাদ ইউনিয়নের গৌরিপুর গ্রামে। লোমহর্ষক এক ঘটনার জন্ম দেয় নরপশুরূপী এক নানা। বঁটি দা হাতে নিয়ে তারই ফুটফুটে দুটি শিশুকে সে উপর্যুপরি কোপিয়ে আহত করে। আর কখনো ফিরবে না ইমন। ইভা ফিরবে কিনা তাও এখন অনিশ্চিত। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছে নিহত ইমনের সাত বছরের ছোট বোন ইভা। এ হৃদয়বিদারক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়।   এর আগে রাজধানীর কাছে ধামরাইয়ে মিথ্যে অপবাদে নাসিমাকে পুড়িয়ে মারে কয় সমাজপতি। কি নিষ্ঠুরই না ঘটনা বিবরণ। যৌতুকলোভী স্বামী বহু আগে ছেড়ে চলে গেছে। তবুও বাঁচতে চেয়েছিল নাসিমা। কিন্তু তাকে বাঁচতে দিল না কতিপয় সমাজপতি। তাদের কু নজর পরে তার তার গতরে। ঐ প্রস্তাব প্রত্যাখান করে নাসিমা। পরে চরিত্রহীনা অপবাদ দিয়ে নাসিমার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। ধামরাই থানার জয়পুর গ্রামের সমাজপতি পাষন্ড শহীদুল ও তার সাঙ্গোপাঙ্গরা প্রকাশ্যে নৃশংস এ ঘটনা ঘটিয়ে উল্লাস করেছিল। সেদিন নাসিমার রক্তমাংসের শরীর ছাই হয়ে গিয়েছিল। প্রাণটা কোন মতে আটকে ছিল দেহে। পুলিশ খবর পেয়ে নাসিমার দগ্ধ বীভৎস দেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ নাসিমা। মৃত্যুর আগে নাসিমা পুলিশকে জানিয়েছেন, ‘আমি চরিত্রহীনা নই। ওরা আমাকে চরিত্রহীনার অপবাদ নিয়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। আমার শত আকুতি মিনতিতে ওদের পাষাণ হৃদয় গলেনি। আমি ওদের বিচার চাই।’   ৫ মাস আগের কথা। পাঠক নিশ্চয় ভুলেনি সে সংবাদ। চলতি বছরের ১৮ মে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ডুমদিয়া গ্রামে নানি, নাতি-নাতনি ও শাশুড়িসহ একই পরিবারের চারজনকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে! আর এ হত্যা সংঘটিত করেছে বাইরে থেকে ঘরের শিকল আটকে দিয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে! পুলিশ এ ঘটনায় অভিযুক্ত আজাদ মোল্লাকে আটক করেছে। পারিবারিক কলহের জের ধরে সে এ হত্যাকান্ড ঘটায়। এ কেমন বর্বরতা! যখন একের পর এক খুন, অপহরণ, গুমসহ নানামুখী অপকর্মের শিকার হতে চলেছে মানুষ, তখন বিষয়টি আর কোনো ব্যক্তি বা পারিবারিক সমস্যা নয় বলেই আমরা মনে করি। এ ধরনের ঘটনাগুলো সব জাতির জন্যই একটি অশনি সংকেত বহন করে। ইঙ্গিত দেয় মানুষের হিংস্রতার উত্থানের। শুধু এ ঘটনাই নয় ক্রমাগত এমন সব ঘটনা ঘটছে তা বিশ্বাসযোগ্য না হলেও অবলীলায় সংঘটিত হচ্ছে। এটাতো কেবল মগের মুল্লুকেই সম্ভব!  নিষ্ঠর ঘটনার বর্ণনা এখানে শেষ হবার নয়। কয়েক মাস আগে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলাতে ঘটেছিল আরেক শিশু নির্যাতনের ঘটনা। ওই ঘটনায় হেনা নামের একটি মেয়েকে গুনে গুনে ১০১টি দোররা মারার সিদ্ধান্ত দিয়েছিল এলাকার ফতোয়াবাজরা। ১০০টি দোররা মারার আগেই মেয়েটি অচেতন হয়ে পড়েছিল। তার পরও থেমে থাকেনি দোররা। অচেতন অবস্খায়ই তাকে আরও দোররা মেরে ১০১টি পূর্ণ করা হয়। এরই  মধ্যে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিল হেনা। আমরাতো প্রতিদিন প্রতিনিয়ত মানবতা ও মনুষ্যত্ববোধের অস্থির অগ্নিপরীক্ষা প্রদানের মধ্য দিয়ে মানসিকভাবে সমাজে বসবাসের আপ্রাণ চেষ্টা করছি। নানাভাবে নানারূপ ক্ষয় ও ধ্বংসাত্মক পতনের অনিবার্য নিয়তির মধ্য দিয়েই যেন চলছে আমাদের সাম্প্রতিকের এইসব দিনরাত্রিÑ আমাদের আপ্রাণ চেষ্টার বেঁচে থাকার মুহূর্তগুলো।   প্রশ্ন হচ্ছে, সমাজের আইন ও নৈতিকতার কোন গভীর অসুখের আলামত এসব?  আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজনের নিষ্ঠুরতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা-অস্থিতিশীলতা, সমাজবিরোধী শক্তির দাপাদাপিথসব মিলিয়ে যে চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে, তা অবশ্যই গভীর অসুখের আলামত। এ অসুখ টোটকা-দাওয়াইয়ে সারবে বলে মনে হয় না। পেশাদার অপরাধী থেকে শুরু করে গৃহস্থ মানুষ, সরকারি সংস্থার কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সাধারণ কর্মজীবীদের মধ্যেও নিষ্ঠুরতা প্রকাশ পাচ্ছে ক্রমবর্ধমান হারে। সরকারের, রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক-পরিচালকদের নিশ্চয়ই এসব বিষয় অজানা নয়। তাঁদের এর পরও তাহলে নির্বিকারত্বের কারণ কী? শান্তিকামী মানুষ এরপর তাঁদের ওপর অন্তত নিরাপত্তার ভরসাটা রাখবে কী করে? একের পর এক বীভৎস ঘটনার মধ্য দিয়ে সমাজের যে কদর্য চিত্র ফুটে উঠছে, তা তাঁদের টনক এখনো নাড়াতে পারছে বলে বিদ্যমান পরিস্থিতি সাক্ষ্য দেয় না। বিস্ময়টা এখানেই। যে সমাজে নৃশংসতা-বর্বরতা অপরাধীদের নিত্যকর্মে পরিণত হয়, সে সমাজ যে কোনো ভাবেই মনুষ্য বসবাসের উপযোগী সমাজ নয় এবং তা নির্ণয় করতে রাষ্ট্র কিংবা সমাজবিজ্ঞানের আশ্রয় নেওয়ার কোনো দরকার নেই। ঢাকার একটি দৈনিক পত্রিকার প্রথম পাতায় তিনটি হৃদয়বিদারক সংবাদ পাশাপাশি কলামে মুদ্রিত হয়েছে। এরূপ খবরও এখন জীবনযাপনের ধারাবাহিক অংশে পরিণত। একটির শিরোনাম ‘মেয়েকে বাঁচাতে ছুটে বেড়ালেন মা : জেনীর লাশ গাছে’, অন্যটির শিরোনাম ‘নগ্নছবি কেড়ে নিলো সুপর্ণার প্রাণ’। এ ছাড়া আরেকটি সংবাদ ‘১১ বছরের টুকটুকিকে বাঁচতে দিলো না বখাটেরা’। জেনীর সংবাদটিতে বলা হয়েছে বখাটের উৎপাত থেকে মেয়েকে রক্ষার জন্য বাবা-মা যখন মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করলেন ঠিক তখনই তপু নামক কুখ্যাত বখাটে রাতের অন্ধকারে জেনীর সম্ভ্রমহানি করে তাকে হত্যা করে মৃতদেহ ঝুলিয়ে রাখে গাছের ডালে। দ্বিতীয় খবরটিও কম মর্মান্তিক নয়। প্রেম করে বিয়ে করে সুপর্ণা। কলেজ বন্ধু নজরুলের বিশ¡াসঘাতকতার শিকারে পরিণত হয় সে। নজরুল তার আপত্তিকর ছবি তুলে মোবাইল ফোনে ছড়িয়ে দিলে স¡ামী-স্ত্র্রীর মধ্যে যে অসন্তোষ তৈরি হয় তারই জের ধরে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয় সুপর্ণা। দুঃখ হয় তরুণদের এই বিপথগামিতা দেখে। পত্রপত্রিকান্তে প্রকাশিত খবরের বৈশিষ্ট্য দেখে অনুমিত হয় বাঙালির পারিবারিক জীবন কতটা দুর্বিষহ হয়ে ওঠছে। এ কথা সত্য যে, খানিকটা অসাবধানতা, খানিকটা অবহেলা আর কোনো কোনো ক্ষেত্রে খানিকটা অমানবিক আচরণের মধ্য দিয়ে এইসব মানবিক বিপর্যয়গুলো আমরাই কোনো না কোনোভাবে ডেকে আনছি। মানুষ কতনা বদলে গেছে। মানুষের এরূপ নিষ্ঠুরতা দেখে ভয়ে শিউরে ওঠতে হয়। এসব বন্ধ হওয়া দরকার। এই নৃশংস ঘটনার কঠিন ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া বাঞ্ছনীয়। এখন আমাদের সমাজ একটা পরিবর্তিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সমাজ যত আধুনিক হবে, মানুষের মধ্যে তত দ্বন্ধ বেড়ে যাবে। আমাদের ট্রাডিশনাল সমাজ আধুনিকায়নের দিকে যাচ্ছে। আধুনিক বিশ্বের সব ধরনের উপাদান প্রভাব বিস্তার করছে সমাজে। যার কারণে সামাজিক অপরাধ বাড়ছে। আমাদের বিচার ব্যবস্থা ওইভাবে অগ্রসর হচ্ছে না। পুলিশ, আদালতসহ ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেম একটা আরেকটার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই এখন সময় এসেছে পুরো প্রক্রিয়াটাই ঢেলে সাজানোর। না হলে এ ধরনের অপরাধ বাড়তেই থাকবে।   এটা খুবই উদ্বেগজনক ব্যাপার যে, হত্যাকান্ড বন্ধ হচ্ছে না। বর্তমান সময়ে চারপাশে যেসব ঘটনা ঘটছে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়। এমনও ঘটনা ঘটছে যা আদিম বর্বরতাকেও হার মানায়। ক্রমাগত এমন ঘটনা গুলো  বিশ্বাসযোগ্য না হলেও অবলীলায় তা সংঘটিত হচ্ছে। একজন মানুষের বিবেকবোধ, মনুষ্যত্ব কত নীচ হলে এমন ঘৃণ্য হত্যাকা- ঘটাতে পারে তা আমাদের বোধগম্য নয়। বর্তমান সময়ে নানা ইস্যুতেই যেভাবে হত্যাকা- সংঘটিত হচ্ছে, তা কোনো সভ্য মানুষের কাজ হতে পারে না। সমাজ থেকে ঘৃণ্যরূপী এ মানুষকে যথাযথ শাস্তির আওতায় না আনা গেলে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে দেশ। দেশজুড়ে কেবল গুম, খুন, হুঙ্কার আর অশান্তির দাবানল। জনগণ শান্তি চায়। ধন-দৌলত কিছুই চায় না, দেশে একটু শান্তি চায়। চুরি, ছিনতাই, গুম, হত্যা চায় না; দেশের প্রতিটা মানুষের সম্পদ আর স্বজনদের জীবনের নিরাপত্তা চায়, চায় একটু স্বস্তি। ঘুমানোর সময় নিশ্চিন্তে ঘুমোতে চায়। সকালে সংবাদপত্র খুলে ভাল খবর পড়তে চায়। কিন্তু যেভাবে দুর্বৃত্তদের অপরাধ প্রবণতা বেড়েই চলেছে, এরকম পরিস্থিতি পুরো জাতির জন্যই দুর্ভাগ্যের। আমরা মনে করি দেশের যে কোনো হত্যাকা-ের সঠিক তদন্ত নিশ্চিত করতে ও তার শাস্তি প্রদানে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে সরকারকেই।   চরম নৃশংসতা দেখছে; দেখেই চলেছে জাতি। শুধু গুলি মেরে হত্যা করে থামেনি ঘাতকেরা, পেট্রলবোমার আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে জনপ্রতিনিধিকে। যারা এদেশের জানমাল রক্ষা করবে তারাই কিনা একদল মানুষ (নারায়ণগঞ্জ) হত্যা করে ইটের বোঝা বেঁধে জলের তলে ডুবিয়ে গায়েব করে দিতে চেয়েছে লাশ। নাড়িছেঁড়া আদরের সন্তান জন্মদাত্রীর মাথা থেঁতলে দিচ্ছে শিলপাটায় ঠেসে ধরে। পরকিয়ার মোহে মা সন্তানকে হত্যা করছে, ঘুমন্ত বাবা-মাকে বুকে ছুরি চালিয়ে হত্যা করছে তারই সন্তান। এ কোন সময়ে মুখমুখি এসে দাঁড়িয়েছে জাতি? এসব সামাজিক ও পারিবারিক অপরাধ বৃদ্ধির জন্য মাদক, অসুস্থ রাজনীতি, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, সুস্থ বিনোদনের অভাব, বেকারত্ব, পারিবারিক শিক্ষার অভাব, মূল্যবোধের অবয়, দাম্পত্য কলহ ও স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক বিশ্বাসহীনতা, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট, ফেসবুক, আকাশ সংস্কৃতির কুপ্রভাব এবং সামাজিক উন্নয়নে রাষ্ট্রের উদাসীনতা দায়ী। এসব কারনে আজ দেশের মানুষ এক অসম্ভব মনোবৈকল্যের শিকার। এ অবস্থা থেকে যে কোন মূল্যে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। আর সরকারকেই সে পথটা খুঁজে বের করতে হবে।   (লেখক- মীর আব্দুল আলীম, সাংবাদিক, কলামিষ্ট ও সম্পাদক- নিউজ-বাংলাদেশ ডটকম।)

বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও