লঞ্চডুবির ঘটনায় ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দাবি গণসংহতির

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:১৩ পিএম, ৫ এপ্রিল ২০২১ সোমবার

লঞ্চডুবির ঘটনায় ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দাবি গণসংহতির

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলাধীন সৈয়দপুর কয়লারঘাট এলাকায় মর্মান্তিক লঞ্চডুবির ঘটনায় নিহতের প্রতিটি পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলা।

৫ এপ্রিল সোমবার বিকেলে গণসংহতি আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়কারী তরিকুল সুজন এবং নির্বাহী সমন্বয়কারী অঞ্জন দাস যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানিয়েছেন। এর আগে দুপুরে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শোকার্ত পরিবারের স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানান গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, নির্বাহী সমন্বয়ক অঞ্জন দাস ও নারী সংহতি জেলার সম্পাদক পপি রাণী সরকার।

গণসংহতি আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়কারী তরিকুল সুজন এবং নির্বাহী সমন্বয়কারী অঞ্জন দাস যৌথ বিবৃতিতে জানান, ‘প্রায় দেখা যায় দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থদের হাস্যকর ও তামাশাপূর্ন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। জীবনের ক্ষতিপূরণ কখনো হয় না। তবে একজন মানুষের জীবনের আয় বিবেচনা করেই ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত। আর সেটাই আইনসম্মত ও ন্যায্য প্রক্রিয়া। এই ক্ষতিপূরণের অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে নয়, বরং সংশ্লিষ্ট নৌযান মালিকদের কাছ থেকেই আদায় করতে হবে। এবং প্রত্যেক মৃত ব্যাক্তির একজীবন সমপরিমাণ আয় নির্ধারণ করে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করতে হবে।’

তরিকুল সুজন বলেন, ‘লঞ্চ ও সড়ক দুর্ঘটনার নামে অধিকাংশ মৃত্যুই যে রাষ্ট্রের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতাজনিত অব্যবস্থাপনাগত হত্যাকান্ড। দুর্ঘটনার নামে কাঠামোগত হত্যাকান্ড রোধে মালিক এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যাক্তিদের জবাবদিহিতা ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে ঘটনার জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দায়ী প্রতিটি ব্যাক্তিকে আইনের আওতায় আনা এবং যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করবার দাবি জানাচ্ছি। নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিবছর হাজার হাজার মৃত্যু ঘটে। এই মৃত্যুর মিছিল ঠেকাতে একটা কার্যকর বিশেষজ্ঞ পর্ষদ গঠন করে নিজস্ব সুপারিশমালা বাস্তবায়নের নির্বাহী ক্ষমতা তাদের হাতে প্রদান করতে হবে। তবেই হয়তো এই ধরনের অনাকাঙ্খিত মৃত্যু বন্ধ করা সম্ভব।’

নির্বাহী সমন্বয়কারী অঞ্জন দাস বলেন, ‘প্রতি বছর বহু মানুষ লঞ্চ দুর্ঘটনার নামে এই নৈমিত্তিক হত্যাকান্ডের শিকার হন। অধিকাংশ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী দুর্বল কাঠামোর নৌযান, অতিরিক্ত যাত্রী বহন কিংবা কার্গো নামের বেপরোয়া মালবাহী নৌযান। যেগুলোর মালিক ক্ষমতাশালী ব্যাক্তিরা। এই তিনটি কারণেই প্রতিবছর অজস্র মানুষ মৃত্যুর শিকার হন। সর্বশেষ এই দুর্ঘটনাটিও ঘটেছে বেপরোয়া কার্গোর ধাক্কাতে। এই তিনটি কারণকেই যথাযথ তত্ত্বাবধান এবং আইনের বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে দূর করা সম্ভব। কিন্তু মানুষের জীবন নিয়ে এইভাবে জুয়া খেলা মালিকপক্ষের প্রতি প্রশাসনের পক্ষপাতের কারণে কখনোই তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হয় না। যার ফলে একের পর এক ঘটনা ঘটেই চলেছে। আর ঘটনা ঘটার পরই তা দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে। এমন দুর্ঘটনার নামে হত্যাকান্ড রোধ করতে মালিকপক্ষের পাশাপাশি যান চলাচলের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকেও আইনী জবাবদিহিতা ও শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও