জনকল্যাণ সমিতি ও সাধারণ পাঠাগার এখন কাউন্সিলর অফিস

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১২ পিএম, ১৯ জুলাই ২০২১ সোমবার

জনকল্যাণ সমিতি ও সাধারণ পাঠাগার এখন কাউন্সিলর অফিস

স্বাধীনতার যুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে স্থাপিত বাংলাদেশের প্রথম জনকল্যান সমিতি ও সাধারণ পাঠাগারের নাম চিহ্ন বিলীন করে কাউন্সিলর ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ১৭ জুলাই বন্দর শাহীমসজিদ জনকল্যান সমিতি ও সাধারণ পাঠাগারের নামফলক সম্বলিত প্রধান ফটকের উপর কাউন্সিলর ভবন নামক একটি ব্যানার সাটানো হয়। নাসিক ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হান্নান সরকারের নেতৃত্বে জনকল্যান সমিতি ও সাধারন পাঠাগারের নামফলক ঢেকে দিয়ে কাউন্সিলর ভবন নির্মান লেখা সম্বলিত ব্যানারটি উন্মেচন করেন তিনি।

বন্দরের স্থানীয় সচেতন ব্যাক্তিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের মধ্যে বন্দরের শাহীমসজিদ এলাকায় এই জনকল্যান সমিতি ও সাধারণ পাঠাগারটি প্রথম উদ্বোধণ হয়। দেশের অনেক বরেন্য জ্ঞানীগুনি ব্যাক্তিরা এখানে মুক্ত বুদ্ধি চর্চা করতে এই পাঠাগারে বিচরণ করে গেছেন। মুক্তিযুদ্ধের অনেক দলিলগ্রন্থ এখানে রক্ষিত আছে।

বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন আওতাধীন হওয়ায় ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা হান্নান সরকার তৎকালীন কমিটি ভেঙ্গে নিজে একটা মনগড়া কমিটি তৈরী করে এবং সে নিজেই ওই কমিটির সভাপতি হয়।

কাউন্সিলর হান্নান সরকার জনকল্যান সমিতি ও সাধারন পাঠাগারের নামের উপর দিয়ে কাউন্সিলর ভবন নির্মাণের ব্যানার সাটিয়ে দেয়।

তথ্যসূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২১নং ওয়ার্ড আওতাধীণ শাহীমসজিদ এলাকায় অবস্থিত জনকল্যান সমিতি ও সাধারন পাঠাগার। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের এই প্রথম পাঠাগারটি প্রথম উদ্বোধণ হয়। তৎকালীন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার খানে আলম খান এই পাঠাগারটি উদ্বোধণ করেন। স্বাধীনতার পরে সর্বপ্রথম এই পাঠাগারের উদ্যোগে বন্দরে গ্রন্থমেলা হয়। এই পাঠাগারে তৎকালীন সময়ে ৬টি ভ্রাম্যমান গ্রন্থাগারও ছিল যা বর্তমানে বিলিন হয়ে গেছে। বন্দরে এই জনকল্যান সমিতি ও সাধারণ পাঠাগারে মুক্তিযুদ্ধের ২৫বছর পূর্তি অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেছিলেন দেশবরেন্য সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব হাসান ইমাম ও চরমপত্রের লিখক ও পাঠক এমআর আক্তার মুকুল।

মুক্তিযুদ্ধের পর বন্দরের স্থানীয় গুনি ব্যাক্তিরা শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বহাল রাখার জন্য এই পাঠাগারটি নির্মাণ করেন দেশ বরেন্য ব্যাক্তিবর্গ শিক্ষামুলক এই প্রতিষ্ঠানে বিচরন করেছিলেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যাক্তিরা হচ্ছে সাবেক ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার খানে আলম খান, প্রখ্যাত অভিনেতা ও চলচ্চিত্রকার হাসান ইমাম, চরমপত্র লেখক ও পাঠক এম আর আক্তার মুকুল, বিশিষ্ট রাজনৈতিক আলী আহাম্মদ চুনকা, ব্যারিস্টার রাবেয়া ভূইয়া, লেখিকা শহীদ জননী জাহানারা ইমাম, লেখিকা জাহানারা বেগম, প্রখ্যাত অভিনেতা ও চলচ্চিত্রকার গোলাম মোস্তফা, জাতীয় অধ্যাপক আবুল ফজল, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক সরদার জয়েন উদ্দিন, প্রখ্যাত সাংবাদিক নির্মল সেন, গিয়াস কামাল চৌধুরী, আহম্মদ ছফা, ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিন, প্রখ্যাত অভিনেতা ও চলচ্চিত্রকার খালেদ হায়দার, সাবেক সংসদ সদ্য একেএম সামসুজ্জোহা।

এ ব্যাপারে জনকল্যান সমিতি ও সাধারন পাঠাগারের সাধারন সম্পাদক পিয়ার জাহান কমল বলেন, স্বাধীনতার পর দেশের প্রথম সাধারন পাঠাগার হিসেবে বন্দরে জনকল্যান সমিতি ও সাধারন পাঠাগারটি সুপরিচিত। দেশ বরেন্য অনেক খ্যাতিমান লোক এই প্রতিষ্ঠানটিতে বিচরন ছিল। কিন্তু কাউন্সিলর হান্নান সরকার হঠাৎ করে এই পাঠাগারের নাম পরিবর্তন করে কাউন্সিলর ভবন নামকরন কার ইশারায় করল আমরা কিছুই জানিনা। বর্তমানে জনকল্যান সমিতি ও সাধারন পাঠাগারটি ৭মতলা করে উন্নয়ন করতে চায় নাসিক কর্তৃপক্ষ এতেও আপত্তি নাই কিন্তু আমাদের সাধারন পাঠাগারের জায়গা উন্নয়নের নামে নামকরন পাল্টে ফেলবে এটা তো কখনোই সহ্য করা যায়না। শতশত সাহিত্যপ্রেমীর প্রতিষ্ঠান এই সাধারন পাঠাগার। নামকরন পাল্টে ফেলবে এটা কখনোই করতে দেয়া হবেনা।

নাসিক ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা হান্নান সরকার বলেন, সাধারণ পাঠাগার সরকারী জায়গা এটা আমিও জানি কিন্তু কাউন্সিলর কমপ্লেক্স হলে পাঠাগারও ৩য় তলায় উন্নত মানের করে দেয়া হবে। জরাজীর্ণ অবস্থায় পাঠাগারটি ছিল। এটার কোন মা বাপ ছিলনা।

সাধারন পাঠাগারের নাম পরিবর্তন প্রশ্নে তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের অর্থায়নে এখানে ৭তলা ভবন হবে। এখানে পাঠাগারের নাম তো থাকবেই। সরকারী সিদ্ধান্ত মোকাবেকই এটা করা হচ্ছে।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও