কুনতং অ্যাপারেলস শ্রমিকদের বিক্ষোভ

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:১৯ পিএম, ৮ অক্টোবর ২০২১ শুক্রবার

কুনতং অ্যাপারেলস শ্রমিকদের বিক্ষোভ

আদজমী ইপিজেডে অবস্থিত কুনতং এ্যাপারেলস লিঃ (ফ্যাশন সিটি)র শ্রমিকরা আইনগত বকেয়া প্রাপ্য পাওনা পরিশোধের দাবিতে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও শহরে মিছিল করেছে।

৮ অক্টোবর শুক্রবার কারখানার শ্রমিক মঞ্জু আরার সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ। সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন রি-রোলিং স্টিল মিলস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক এস এম কাদির, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সভাপতি রুহুল আমিন সোহাগ, কাঁচপুর শিল্পাঞ্চল শাখার সহ-সভাপতি আনোয়ার খান, কারখানার শ্রমিক সিমা, তাছলিমা, নাজমা, নাসিমা প্রমুখ।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, ফ্যাশন সিটি মালিক কর্তৃক্ষ ২০২০ সালের ১২ সেপ্টেম্বর বেপজা আইন অনুযায়ী ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১১ অক্টোবর ১ মাস কারখানা লে-অফ করে। পরবর্তীতে আরও ৩ মাস কারখানা অবৈধভাবে বেপজা আইন লঙ্ঘন করে বন্ধ করে রাখে। শ্রমিকদের বকেয়া বেতনের জন্য ২০২১ সালের জানুয়ারী ৭ তারিখে ইপিজেড এর গেইটে অবস্থান করলে শিল্প ও থানা পুলিশ এবং বেপজার সিকিউরিটি মিলে বেপজা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে শ্রমিকদের ব্যাপক মারধোর, টিয়ারশেল ও জলকামান দিয়ে হামলা চালায়। উক্ত ঘটনায় ৫০-৬০জন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়। আবারও ৯ জানুয়ারী শ্রমিকেরা বকেয়া বেতনের জন্য ইপিজেড গেইটে গেলে ঐদিনও কঠোর হামলা চালানো হয়। তারপর শ্রমিকরা গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের নের্তৃত্বে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ১২ জানুয়ারী মালিক কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে ৭ দফার ভিত্তিতে শ্রমআইন মেনে লাগাতার কঠোর কর্মসূচী পালন করে। ১৪ জানুয়ারী জেলা প্রশাসক ও বিকেএমইএ বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে। ১৬ জানুয়ারী বেপজা কর্তৃপক্ষ শ্রমসংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ও শ্রমিক সংগঠন গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টসহ অন্যান্য শ্রমিক সংগঠনের নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার নের্তৃবৃন্দদের সাথে নিয়ে সংকট নিরসনের জন্য জরুরী বৈঠক করে। ০৩ ফেব্রুয়ারী আদমজী ইপিজেড কর্তৃপক্ষ, ৫ ফেব্রুয়ারী সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি ও ০৮ ফেব্রুয়ারী নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে। তীব্র আন্দোলনের ফলে বেপজা কর্তৃপক্ষ ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের ১৫, ১৬ ও ১৭ তারিখে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও আইনগত প্রাপ্য পাওনা ৩৬% পরিশোধ করে। এমনকি শ্রমিকদের পে-স্লিপ দেয় ও অঙ্গীকার করে বেপজা কর্তৃপক্ষ বলে বকেয়া প্রাপ্য পাওনা আমরা অচিরেই পরিশোদের ব্যবস্থা করব কিন্তু আজ পর্যন্ত বকেয়া আইনগত প্রাপ্য পাওনা শ্রমিকেরা পায় নাই।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি, অর্জিত ছুটি, টার্মিনেশন ও অন্যান্য সুবিধার টাকা শ্রমিক কাজ করা অবস্থায় মালিকের নিকট আইন অনুযায়ী জমা থাকে, তাহলে টাকা পরিশোধে এত গড়িমসি, অজুহাত দেখিয়ে বিলম্ব কেন? শ্রমিকদের বকেয়া প্রাপ্য পাওনা আত্মসাৎকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে বিচার করার দাবি জানান। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারী থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ৯ মাস অতিক্রান্ত হয়ে গেল আজ অবধি পরিশোধ হয় নাই কেন? ইপিজেডস্থ শ্রম আইন আলাদা করেছে সরকার মালিকদের রক্ষা করার জন্য, যেন শ্রমিকেরা নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও শ্রম অধিকার নিশ্চিত ভাবে পায় সেজন্য আইন। শ্রমিকেরা পাওনাদার-তাদের অধিকার আদায়ের জন্য তারা আন্দোলন সংগ্রাম করবে সেখানে শ্রমিকদের উপর হামলা, তাদের নামে মামলা দেয়া হয়েছে। অবিলম্বে শ্রমিকদের নামে অজ্ঞাত দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে বকেয়া প্রাপ্য পাওনা পরিশোধ করার আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ। অন্যথায় শ্রমিকেরা কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও