বাড়ি দখলের লোভে ফাঁসানো হলো আইসিটি মামলায়!

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১২:৪৩ পিএম, ২৬ অক্টোবর ২০২০ সোমবার

বাড়ি দখলের লোভে ফাঁসানো হলো আইসিটি মামলায়!

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার পূর্ব ইসদাইর এলাকায় বাড়ি দখল করতে না পারায় একজন দম্পতিকে আইসিটি মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। গ্রেপ্তারকৃত পরিবারের অভিযোগ মূলত বাড়ি নিয়ে তাদের উপর চরম অত্যাচারের কারণেই ফেসবুকে কয়েকটি স্ট্যাটাস দেন।

আইসিটি মামলায় ওই দপ্ততি বর্তমানে কারাভোগ ও পুলিশি রিমান্ডেও রয়েছেন। রিমান্ডপ্রাপ্তরা হলেন ফতুল্লা থানার পূর্ব ইসদাইর এলাকার আ. হাই মোল্লার ছেলে মো. মতিন মোল্লা (৪০) তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার পলি (৩২)।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ওই দম্পতি নিজ বাড়ীতে অবস্থান করে পরস্পর যোগসাজসে গত ২৩ মার্চ দুপুর ১টায় তাদের ব্যবহৃত মোবাইলের ফেসবুক আইডি দ্বারা অত্র মামলার বাদী তাজুল ইসলাম রাজিব ও তার পিতাকে বিরক্ত অপমান, অপদস্থ ও হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্য বাদীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান “আজাদ রিফাত ডাইং মালিকের কু-কীর্তির ইতিহাস” শিরোনামে একটি মিথ্যা বানোয়াট, কুরুচিপূর্ণ ও অপ্রচারমূলক লেখা প্রকাশ করে। যা তাদের মানহানি করেছে।

মামলায় এই অভিযোগ করা হলেও করলেও এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। এলাকাবাসীরা জানান, আজাদ রিফাত ফাইবার্স (প্রা:) লিমিটেড ও আজাদ নীট কম্পোজিট টেক্সটাইল (প্রা:) লিমিটেডের মালিক আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। এর আগে তারা আওয়ামী লীগ নেতা রবিউল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন সাজনু, মেহেবুবুল হক তালুকদার টগর সহ অনেকের বিরুদ্ধেই মামলা করেছিলেন।

আবুল কাশেমের বাড়ি আর গ্রেফতার মতিন মোল্লার বাড়ি পাশাপাশি। তারা একে অপরের প্রতিবেশি মতিন মোল্লা চাষাঢ়া এলাকার মোস্তফা মার্কেটে রিকসার সরঞ্জাম বিক্রি করে থাকেন। তিনি সহজে কারও সাথে ঝামেলায় জড়াতে চান না। আর এই মতিন মোল্লার জায়গায় দিকে লোভ পড়ে আবুল কাশেমের। সেই সাথে মতিনকে বলে জায়গা বিক্রি করার জন্য। কিন্তু এতে মতিন রাজী হয়নি।

আর এতেই বিপত্তি ঘটে আবুল কাশেমের। মতিন মোল্লা ও তার পরিবারের উপড় চলে নানা নির্যাতন নীপিড়ন। তাকে নানাভাবে মানসিক শারীরিক নির্যাতন নীপিড়ন চালায় আবুল কাশেম। ফলে এক পর্যায়ে অতিষ্ঠ হয়ে কারও কাছে কিছু বলতে না পেরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস দেন। যদিও তাদের আইসিটি সম্পর্কে তেমন একটা ধারণা নেই।

আর ওই স্ট্যাটাসের সূত্র ধরে আবুল কাশেমের ছেলে তাজুল ইসলাম রাজীব মতিন মোল্লা ও তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার পলির বিরুদ্ধে আইসিটি মামলা করে দেন। সেই সাথে ফতুল্লা থানা পুলিশও কোনো তদন্ত না করে সাথে সাথে আইসিটি মামলা নিয়ে নেন। একই সাথে মতিন মোল্লা ও তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার পলিকে গ্রেফতার করে সাথে সাথে কারাগারে পাঠিয়ে দেন।

যদিও আইসিটি মামলায় এত তাড়াতাড়ি গ্রেফতার এবং সাথে সাথে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়ার রেকর্ড খুব কমই রয়েছে ফতুল্লা মডেল থানায়। অনেক সময় আইসিটি মামলা করতে গিয়েও অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয় ভুক্তভোগীকে। কিন্তু এবার মামলার আবেদন করার সাথে সাথেই মামলা গ্রহণ সেই সাথে গ্রেফতার করা নিয়ে থানা পুলিশের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হিসেবে দেখা দিয়েছে।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও