লকডাউন অমান্য রাজাকার ছেলের বিক্ষোভ

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:০৬ পিএম, ২৭ এপ্রিল ২০২১ মঙ্গলবার

লকডাউন অমান্য রাজাকার ছেলের বিক্ষোভ

সরকারী নির্দেশনা লকডাউন বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে গ্রামবাসীদের নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন চিহ্নিত রাজাকার রফিক চেয়ারম্যানের পুত্র বন্দরের মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জাতীয় পার্টির নেতা মাকসুদ হোসেন।

মঙ্গলবার ২৭ এপ্রিল সকালে মুছাপুর এলাকায় কয়েকশত গ্রামবাসীকে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন তিনি। যেখানে ছিলনা কোন স্বাস্থ্যবিধির বালাই। এমনকি অনেকের মুখে মাস্কও ছিলনা। অথচ সরকার যে কোন ধরনের সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

জানা গেছে, মুছাপুর ইউনিয়নের দক্ষিনপাড়া নয়াগাও বাইতুল ইজ্জত জামে মসজিদের উন্নœয়ন ও কবরস্থানের গাছ বিক্রিকে কেন্দ্র করে মুছাপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবরের সাথে একই এলাকার সাখাওয়াত হোসেনের সাথে দীর্ঘ দিন ধরে পূর্ব শত্রুতা চলছিল। এ নিয়ে গত শুক্রবার বাদ আছর উল্লেখিত মসজিদের সামনে আওয়ামীলীগ নেতা মজিবর ও একই এলাকার সাখাওয়াতের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির জের ধরে ওই দিন রাত সাড়ে ৮টায় উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে সংঘর্ষের ঘটনায় আওয়ামীলীগ নেতা মজিবুরসহ উভয় পক্ষের আব্দুর রহিম মিয়া (২২), শান্ত (২১), দেলোয়ার (৪৫), ছগির (২৭), আনোয়ার (৪৫), সিরাজ (৭০), মোকলেছ (৬০) সহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। আহতদের স্থানীয় এলাকাবাসী জখম অবস্থায় উদ্ধার করে বন্দর, নারায়ণগঞ্জ জেনারেল সহ ঢামেক হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। এ ঘটনায় মনির হোসেন বাদী হয়ে আওয়ামীলীগ নেতা মজিবর এবং তার বড় দুই ভাই সিরাজ ও মোকলেসসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১০-১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে বন্দর থানায় মামলা দায়ের করেন। এছাড়াও সংঘর্ষের ঘটনায় আওয়ামীলীগ নেতা মজিবর রহমান বাদী হয়ে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসী সাখাওয়াত ও মনির হোসেনসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে বন্দর থানায় অপর একটি মামলা দায়ের করেন। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবর গণমাধ্যমকে জানান, আমার বড় ভাই রিয়াজুল নয়াগাও বাইতুল ইজ্জত জামে মসজিদ কমিটি সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করে আসছে। মসজিদের উন্নয়ন ও কবরস্থানে গাছ কাটার জের ধরে সন্ত্রাসী সাখাওয়াতসহ তার সাঙ্গপাঙ্গদের সাথে আমার কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে সাখাওয়াত, মনির, দেলোয়ারসহ অজ্ঞাত ২০/৩০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল আমার ভাতিজার বাড়ীতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। ওই সময় হামলাকারিরা একটি প্রাইভেট কার ভাংচুর করে প্রায় ১৭ লাখ টাকা ক্ষতি সাধন করে পালিয়ে যায়।

এদিকে নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে এই মহামারী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে লকডাউন থাকার পরও মঙ্গলবার ২৭ এপ্রিল সকালে বন্দর উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের নিয়ে নিজের পক্ষে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন রাজাকার পুত্র মাকসুদ চেয়ারম্যান। যা নিয়ে উঠেছে বিরূপ সমালোচনার ঝড়

এ বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি দিপক চন্দ্র সাহা বলেন, লকডাউন চলা অবস্থায় গ্রামবাসী নিয়ে এভাবে বিক্ষোভ মিছিল করা সম্পর্কে আমাকে কেউ জানায়নি বা পূর্বানুমতিও নেয়নি।

জানতে মাকসুদ চেয়ারম্যানকে তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে (০১৮১২-০৮১৯০৫) একাধিক বার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুক্লা সরকার বলেন, লকডাউন থাকা অবস্থায় এমন জনসমাগম করে বিক্ষোভ মিছিল সম্পর্কে কেউ আমাকে কিছু জানায়নি। আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। আমি অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

উল্লেখ্য গত বছরের ৩ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মুসাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেনকে রাজাকার পুত্র আখ্যায়িত করে চেয়ারম্যান মাকসুদ কর্তৃক অসহায় মানুষদের অর্থ ও ভূমি আত্মসাতের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক তদন্তসহ সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, বন্দর উপজেলার মুসাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেনের বাবা চিহ্নিত রাজাকার রফিক গংদের অগ্নিসংযোগসহ নির্মম খুনের লোমহর্ষক কাহিনী যা এরশাদ শিকদারকেও হার মানিয়েছিল। ইতিহাসবিদ মুনতাসির মামুনের বই ”শান্তি কমিটি ১৯৭১”এ রাজাকারের তালিকায় চেয়ারম্যান মাকসুদের পরিবারের ৪ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে তারা হলো তার বাবা রফিক, দাদা মাইনুদ্দীন, চাচা আব্দুল মালেক ও সামাদ। রাজাকার রফিকের জীবদ্দশায় পূর্ব পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতার দিন পর্যন্ত অসংখ্য নিরীহ ব্যক্তিকে খুন করা হয়। যার মধ্যে বন্দর থানার রামনগর গ্রামের মগা প্রধান (দুঃইখ্যার বাবা), ধামগড়ের আইছাইল্লা মুন্সিকে প্রকাশ্য দিবালোকে, ধামগড় ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির মাষ্টারের বড় ভাই গিয়াসউদ্দীন, তার নিকট আত্বীয় আমিনুদ্দীন, মতিউর রহমান এবং আবদুল হামিদকে হত্যা করে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেয়। রাজাকার রফিক গংরা কুড়িপাড়া, ধামগড়, হরিপুর, গোকুলদাসের বাগসহ ১৮টি গ্রাম জালিয়ে দিয়েছিল। এসময় তাদের হাতে ১২ জনের অধিক হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও