বিসিক খাল দখলমুক্ত হয়নি ৩ বছরেও

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:০১ পিএম, ২৯ এপ্রিল ২০২১ বৃহস্পতিবার

বিসিক খাল দখলমুক্ত হয়নি ৩ বছরেও

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরী, মাসদাইর সহ আশেপাশে এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ৩ বছর আগে উদ্যোগ নিয়েছিলেন প্রভাবশালী দুই সহোদর এমপি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান। তৎকালে খুব জোরেশোরেই শুরু হয়েছিল খাল দখলমুক্তের কার্যক্রম। এমনকি ফতুল্লার এনায়েতনগর ইউনিয়নের খালগুলোর অবৈধ দখলদারদের তালিকাও তৈরী করা হয়েছিল। তবে কিছুদিন যেতে না যেতেই সেই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। গেল ৩ বছরেও দখলমুক্ত হয়নি এনায়েতনগর ইউনিয়নের খালগুলো। বরং দিনের পর দিন বেড়েছে অবৈধ দখলদার।

জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২৫ এপ্রিল প্রভাবশালী দুইজন এমপি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি ও বিকেএমইএ’র সভাপতি সেলিম ওসমান এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান বিসিক এলাকার বিভিন্ন খাল পরিদর্শন করেন। ওই সময় থেকে ভেকু দিয়ে খাল খনন শুরু হয়।

ওই সময়ে সেলিম ওসমান বলেন, কোনভাবেই পানি নিস্কাশনের খাল দখল করা যাবে না। যত প্রভাবশালী ব্যক্তিই হউক না কেন খাল দখল করে স্থাপনা করলে সেটা উচ্ছেদ করতে হবে।

তখন শামীম ওসমান বলেন, এখনো বর্ষা শুরু হয় নাই। আগামীতে বৃষ্টির মৌসুম আসছে। এখন থেকে আমাদের সচেতন ও সচেষ্ট হতে হবে। কোন অবস্থাতেই খাল দখল করতে দেয়া হবে না। পানি নিস্কাশনের খালগুলো দখলমুক্ত করতে হবে।

তবে কিছুদিন যেতে না যেতেই মুখ থুবড়ে পড়ে খাল খনন কার্যক্রম। পরবর্তীতে বরাদ্দের অভাবের কথা বলে বন্ধ করে দেওয়া হয় খাল খনন কার্যক্রম।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার এনায়েতনগর ইউনিয়নের মাসদাইর ও বিসিক শিল্পাঞ্চলকে ঘিরে রয়েছে কাইল্যাণী খালসহ কয়েকটি খাল। ফতুল্লার মাসদাইর পুলিশ লাইন থেকে শুরু হওয়া কাইল্যানী খাল শাসনগাঁও হয়ে কাশিপুর বুড়িগঙ্গা নদীতে মিশেছে। এক সময় বড় বড় নৌকা চলাচল করত এই খালে। কিন্তু কালের বিবর্তনে, খালটি বেদখল হয়ে যাওয়ায় এখন জরাজীর্ণ। অবৈধভাবে দোকানপাট, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান আর দ্বি-তল ভবন গড়ে তোলায় খালটিতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা প্রায় বন্ধ। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই মাসদাইর, শাসনগাঁও, ফাজিলপুরসহ কয়েকটি শিল্পনগরীর রাস্তায় দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। এছাড়া ফাজিলপুর খাল, হরিহরপাড়া খালসহ সবক’টি খালও দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা। এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার খালগুলো অবৈধ দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে অবৈধ দখলদারদের তালিকা করা হয়েছিল। তবে তালিকা হলেও অবৈধ দখলদাররা রয়েছে বহাল তবিয়তে। এতে খাল সরু হয়ে ময়লা-আবর্জনা জমে সদর উপজেলা ও ফতুল্লার শিল্পাঞ্চলের পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় নাকাল হতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও শিল্প মালিকরা অবৈধভাবে খাল দখল করায় পানি বুড়িগঙ্গায় পৌঁছাতে পারে না। ফলে জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হয় এলাকাবাসীসহ কয়েক লাখ শ্রমিককে। এ বিসিকে আড়াই তিন লাখ শ্রমিক প্রতিদিন যাতায়াত করে, সে রাস্তায় এখন হাঁটু পানি। শুধুমাত্র এই কল্যাণী খাল বেদখল হওয়ায়। অথচ এ বিষয়ে প্রভাবশালী দুই এমপি জনগণকে আশার আলো দেখালেও সেটা আর আলোর মুখ দেখেনি।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও