পুকুর পরিস্কারে কমবে জলজট

সাবিত আল হাসান,স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৪৪ পিএম, ১০ জুন ২০২১ বৃহস্পতিবার

পুকুর পরিস্কারে কমবে জলজট

ফতুল্লার লালপুর, পৌষারপুকুর পাড়, আলামিন নগর, উত্তর ইসদাইর এলাকার সকল পানি এসে জমা হয় পৌষারপুকুর সংলগ্ন রাস্তায়। আশেপাশের সকল উঁচু জমি থেকে এই এলাকাটি নিচু হওয়ায় বছরের ৮ মাস জলাবদ্ধতার ভোগান্তি বাসিন্দাদের সঙ্গী হয়েছে। নিস্তার পেতে দুই চেয়ারম্যানের চেষ্টা, স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন কমিটি উপ কমিটি গঠন করা হলেও সমাধান মেলেনি। পানি নিষ্কাশনের জন্য বসানো হয়েছে ৩টি মটর। তবুও কেন পানি সরছে না তা সকলের কাছে বড় একটি প্রশ্ন।

লালপুর, পৌষারপুকুর পাড় এলাকার যেকোন বাসিন্দার কাছে যদি জানতে চাওয়া হয় এই পানি না সরার কারন কি? তারা একবাক্যে উত্তর দিবে - যেই মটর বসানো হয়েছে বাংলাদেশ খাদ এলাকায় সেটি বন্ধ। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। বাংলাদেশ খাদ এলাকায় অবস্থিত মটরের কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে দেখা মিলেছে এর কার্যকারিতা। দিন রাত মিলে অন্তত ১৮ ঘণ্টা চলমান থাকে মটরে পানি নিষ্কাশনের কাজ। দীর্ঘ সময় মটর চালু রাখায় প্রায়ই জ্বলে যায় মটর। সেই মটর ঠিক করতে ব্যয় হয় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। এতসব প্রচেষ্টার পরেও পানি ঠিকমত না সরায় জনরোষের মুখে রয়েছেন এলাকার চেয়ারম্যান ও অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরা।

সরেজমিনে লালপুর, পৌষারপুকুর পাড় এবং আলআমিন নগর এলাকায় গিয়ে দেখা যায় অন্তত ৩টি বৃহৎ জলাধার ঘিরে আছে পুরো এলাকা জুড়ে। সাধারণত একটি শহর বা শহরতলীতে বৃষ্টির পানি ধরে রাখা ও অতিরিক্ত পানি গ্রহণের দায়িত্ব পালন করে জলাধারগুলি। সেখানে দীঘির সমান জলাধারগুলো সেই দায়িত্ব পালন না করে উল্টো পানি উপচে প্রবেশ করছে বাড়িঘরে। সড়কগুলোতে যানবাহনের বদলে চলাচল শুরু হয় নৌকার। কিন্তু এমন পরিস্থিতির জন্য যে এলাকার বাসিন্দারাই দায়ী তা জানালেন নগরবিদরা।

লালপুর এলাকার বাসিন্দা এবং আর্কিটেক্ট ইঞ্জিনিয়ার খালিদ মাহমুদ বলেন, আশেপাশে যেই ৩টি বৃহৎ পুকুর বা জলাধার আছে সেগুলো এই এলাকার জন্য আশীর্বাদ। কিন্তু মানুষ এর অপব্যবহার করে অভিশাপে রূপ দিয়েছে। গত ১০ বছরে ৩টি পুকুরের একটিও পরিষ্কার করা হয়েছে কিনা সন্দেহ। পুরো পুকুরের উপরে তৈরী হয়েছে জঙ্গল। এর পরিমাণ এতটাই বেশী যে প্রাপ্ত বয়স্ক একজন মানুষের এর উপর হেঁটে যেতে পারবেন। তার উপর স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিনিয়ত ময়লা ছুড়ে ফেলে পুকুরে। পলিথিন বর্জ্যে পুকুর এক প্রকার ভরাট হয়ে আছে। দৃশ্যত আমরা বিশাল পুকুর দেখতে পেলেও এটি পানি ধরে রাখার অবস্থায় নেই। যেটুকু অংশে তার পানি ধারন করার কথা ছিল সেখানে জঙ্গল জায়গা করে নিয়েছে।

বাংলাদেশ খাদ এলাকার বাসিন্দা আক্তার হোসেন জানান, বছর তিনেক আগে পুরো পুকুর পরিষ্কার করা হয়েছিলো ৪০ হাজার টাকা খরচ করে। এভাবে যদি পৌষারপুকুরটিও পরিস্কার এবং তার ভেতর থাকা অপদ্রব্য পরিষ্কার করা হয় তাহলে অর্ধেকে নেমে আসবে জলাবদ্ধতার সমস্যা। বছরের পর বছর মটর না চালিয়ে পুকুর সংস্কার করা গেলে সমাধান হবে অনেকাংশে। এককালে পৌষারপুকুরের মাঝে একটি হাসের ভাস্কর্য ছিলো। রাস্তায় দাঁড়িয়ে সেই ভাস্কর্য স্পষ্ট দেখা যেত। আজ পুরো পুকুরে কেবল জঙ্গল।

শুধু তাই নয়, পৌষারপুকুর থেকে বাংলাদেশ খাদ এলাকার পুকুরে পানির সংযোগ দিতে ব্যবহার করা হয়েছে ড্রেন। এই ড্রেনের প্রশস্থতা যেমন সরু তেমন বর্জ্যে ভরপুর। স্থানীয়দের মতে, গতবছরে এই ড্রেন পরিষ্কার করা হয়েছিলো। কিন্তু প্রতিনিয়ত পলিথিন বর্জ্যের কারনে ড্রেন ভরাট হয়ে যায়। সেই কারনে পৌষারপুকুর পাড় থেকে বাংলাদেশ খাদ এলাকায় পানি সরে যেতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশী সময় লাগে। ড্রেনটি যদি প্রশস্থ এবং সংস্কার করা হয় তাহলে দ্রুত পানি সরতে পারবে।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও