রূপায়ন টাউনে পানির জন্য হাহাকার

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:২৯ পিএম, ১৭ জুলাই ২০২১ শনিবার

রূপায়ন টাউনে পানির জন্য হাহাকার

নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলার ভূঁইগড়ে রূপায়ন আবাসিক এলাকায় এক সপ্তাহ ধরে পানি সংকটে দুর্ভোগে কয়েক হাজার বাসিন্দা। রূপায়ন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানালেও কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় রাগে ক্ষোভে ফুঁসে উঠছেন বাসিন্দারা। যেকোন সময় বিক্ষোভ সহ আন্দোলন করার হুশিয়ারীও দিয়েছেন বাসিন্দারা। তবে এ বিষয়ে কথা বলতে নারাজ রূপায়ন কর্তৃপক্ষ।

১৭ জুলাই শনিবার বিকেলে রূপায়ন এলাকার বাসিন্দারা কর্তৃপক্ষের হেড অফিসে যোগাযোগ করলেও কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানান বাসিন্দারা।

বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, ‘রূপায়ন আবাসিক এলাকায় প্রথম ভাগে ২৮টি ভবন রয়েছে। এসব ভবনে প্রায় ৪ হাজার বাসিন্দা বসবাস করেন। গত এক সপ্তাহ ধরে ওইসব বাসিন্দাদের ব্যবহারে পানি পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে স্থানীয় তত্ত্বাবধায়কে জানালেও কোন পদক্ষেপ নেয়নি কেউ।’

স্থানীয় বাসিন্দা সেলিনা বেগম বলেন, ‘এক সপ্তাহ ধরে বাইরে থেকে পানি কিনে এনে খাওয়া সহ রান্নার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। অনেক বলার পর একটি পাইপ দিয়ে পানি দিচ্ছে কিন্তু সেটাও পর্যাপ্ত না। গোসল করলেই পানি শেষ হয়ে যায়। এছাড়া গৃহস্থালীর অন্যান্য কাজ করা যায় না। পানি জমে রাখার মতোও পানি থাকে না।’

তিনি বলেন, ‘এখানে ৪ হাজার বাসিন্দা বসবাস করে। সকলেই পানি সমস্যায় আছে। যে পানি দেয় তাতে সর্বোচ্চ ২০টা ফ্যামিলি চলতে পারবে। সেখানে এতো মানুষ কিভাবে চলে। তাদের বলতে বলতে অতিষ্ট হয়ে গেছি। এখন আন্দোলন ছাড়া অন্য কোন পথ খোলা নেই।’

কুলেন্দ্র বলেন, ‘পানির কষ্ট চরম পর্যায়ে চলে গেছে। অনেকেই রেগে নিয়ে গিয়ে কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে। কিন্তু কেউ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এখন না ঠিক করলে রোববার আন্দোলন শুরু করবে।’

তিনি বলেন, ‘পানি ছাড়া কি চলা যায়। পানির জন্য আমাদের রান্না বন্ধ। বাইরে থেকে কিনে এনে খেতে হচ্ছে। এভাবে কতদিন চলা যায়। রান্না করা যায় কিন্তু আসবাবপত্র ধোয়ার জন্য তো পানি প্রয়োজন। সেই পানিটুকুও দিচ্ছে না।’

মজিবর রহমান বলেন,‘বাইরে থেকে গোসল করে পরে বাসায় আসতে হচ্ছে। অজু করার মতো পানিও নেই ভবনে। মসজিদে গিয়ে অজু করে নামাজ পড়তে হচ্ছে। আমরা যে কি কষ্টে আছি একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কেউ বুঝবে না।’

তিনি বলেন,‘রূপায়ন কর্তৃপক্ষ ফ্ল্যাট বিক্রি করে ফেলেছে। এখন বাসিন্দারা পানির অভাবে মরে যাক এ নিয়ে তাদের কোন মাথা ব্যথা নেই। তাই তো এতোবার জানানো হলেও কোন ব্যবস্থা নেয় না। টাকা খাওয়ার জন্য মানুষকে পানি বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।’

হাবিবুর রহমান বলেন, ‘মূলত পানির পাম্প নষ্ট হয়ে আছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সেটা ঠিক করতে রাজি না। তারা পাম্প না ঠিক করে অজুহাত দেখাচ্ছে পানির স্তর নিচে নেমে গেছে তাই পানি উঠছে না। এখন বর্ষা মৌসুম। প্রতিদিন বৃষ্টি হয় আর আমাদের বলে পানির স্তর নিচে নেমে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘এককালীন কোম্পানি টাকা নিয়ে রেখেছে সকলের কাছ থেকে যেকোন প্রয়োজনে মেরামত ও ব্যবহারের জন্য। কিন্তু সেই টাকা দিয়ে ঠিক না করে এখন বলছে বাসিন্দাদের টাকা দিতে। এতে রাজি না হওয়ায় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে।’

রূপায়ন আবাসিক এলাকার ইনচার্জ আবু সাইনকে ফোন দিলে সে রিসিভ করেনি।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও