পাগলায় সাংবাদিক মুন্নাকে ছুরিকাঘাত,আটক ২

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:০৫ পিএম, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ মঙ্গলবার

পাগলায় সাংবাদিক মুন্নাকে ছুরিকাঘাত,আটক ২

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা পাগলা এলাকায় সাংবাদিক মামুনুর রশীদ মুন্নাকে (৩২) হত্যার উদ্দ্যেশে হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করেছে। এসময় ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত অবস্থায় নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেয় সন্ত্রাসীরা। মারধরের এক পর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে মৃত ভেবে সন্ত্রাসীরা ফেলে চলে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার হাসপাতালে নেয়া হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

দুপুরের ওই ঘটনার পর ফেসবুক লাইভে এসে মুন্না ঘটনার জন্য পাগলার বিতর্কিত মির হোসেন মিরুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেও মামলায় নাম দেয়নি।

বিবাদীরা হল মো. খলিলুর রহমান (৩০), মো. গেব্দু (২৮), মো. কাদির ওরফে বোম কাদির (৩০), মো. স্বাধীন (২২), কালা জাহাঙ্গীর (৪০), নিহাদ (২২ ), নাঈম (২০), দুর্জয় (১৮)। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত নিহাদ ও নাঈমকে আটক করেছে বলে জানা যায়।

মামুনুর রশীদ মুন্না অভিযোগ করে বলেন, আমি একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। উক্ত বিবাদীরা দীর্ঘদিন যাবত পাগলাস্থ বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম ও অসামাজিক কাজ কর্ম পরিচালনা করে আসছে। যেকারণে আমি আমার অনলাইন পত্রিকা ‘আওয়ার নারায়ণগঞ্জ’ তে বিবাদীদের কার্যকলাপের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করলে বিাবদীরা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। যে বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একাধিকবার লিখিত জিডি ও অভিযোগ করা হয়েছে। এমতাবস্থায় এর জের ধরে গত ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টায় আমি ফতুল্লা থানাধীন পাগলাস্থ আমার বাড়ীতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেল যোগে পাগলাস্থ পূর্ব শাহী মহল্লা আলী মেম্বারের বাড়ীর সামনে আসা মাত্র উক্ত ১ নং বিবাদীর নির্দেশে বাকি বিবাদী সহ অজ্ঞত সন্ত্রাসী বাহিনী অতর্কিতভাবে আমার উপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে আমাকে ১ নং বিবাদী চুলের মুঠি ধরে আমার মাথার বাম পাশের কপালে ছুড়িকাঘাত করে ও ২নং বিবাদী আমাকে কিল, ঘুষি মারে এবং ৩ ও ৪ নং বিাবদী আমার কোমড়ে রশি বেধে দুই দিক হতে ধরে রাখে। এছাড়া ৫ ও ৬ নং বিবাদী আমার সাথে থাকা ১৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি এ্যান্ডয়েড বিভো মোবাইল, প্যান্টের পকেটে থাকা ৭৫৫০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এসময় ৭ ও ৮ নং বিবাদী লোহার রড দিয়ে আমার মোটর সাইকেল ভাংচুর করে। এরপর দুই দফায় এই সন্ত্রাসীরা আমাকে এলোপাথাড়ী কিল, ঘুষি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে আমি অচেতন হয়ে পড়লে তারা আমাকে মৃত ভেবে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। অতপর আশেপাশের লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় দ্রুত ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং সেখানে আমার কপালে ৪টি সেলাই প্রদান করা হয়।

ফতুল্লা মডেল থানার ইনচার্জ রকিবুজ্জামান জানান, অভিযোগ পেয়েছি। বাদীর দায়ের করা লিখিত অভিযোগের দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও