ব্যারিস্টার কন্যা সহ তৈমূরের প্রশংসা

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:১৯ পিএম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০ শুক্রবার

ব্যারিস্টার কন্যা সহ তৈমূরের প্রশংসা

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সহ কাঁদছে সারা দেশ। শোকে ভাসছে পুরো নারায়ণগঞ্জ জেলা। এমনই এক ভয়াবহ ঘটনার স্বাক্ষী হয়ে রইলেন নারায়ণগঞ্জবাসী। আর এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা ঘটনাস্থলে ছুটে এসেছেন।

সেই সাথে অনেকেই বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন। তবে এই সহযোগিতার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছেন বিআরটিসির সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার ও তার বড় মেয়ে ব্যারিস্টার মার-ই-য়াম খন্দকার। তার তৎপরতায় প্রত্যেক হতাহতের পরিবারের সদস্যরা ৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ পেতে যাচ্ছেন।

আর এই টাকা প্রাপ্তির খবরে তল্লাবাসী অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার ও তার বড় মেয়ে ব্যারিস্টার মার-ই-য়াম খন্দকারের প্রশংসায় ভাসছেন। যদিও ক্ষতিপূরণ দিয়ে হতাহতের অভাব কখনও পূরণ হবে না। তারপরেও তাদের সাময়িক স্বস্থি এনে দিতে অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার ও ব্যারিস্টার মার-ই-য়াম খন্দকার বিনাস্বার্থে যে সময়টুকু ব্যয় করেছেন তা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছেন তল্লাবাসী।

আল আমিন নামে তল্লার এক বাসিন্দা বলেন, অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য একজন যোগ্য অভিভাবকের পরিচয় দিয়েছেন। তিনি হতাহতের পরিবারের দুঃখ বুঝতে পেরেছেন। আর তাই সবার আগে তিনি ও তার মেয়ে ব্যারিস্টার মার-ই-য়াম খন্দকার এগিয়ে আসেন। তাদের জন্যই হতাহতের পরিবারের সদস্যরা ৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ পেতে যাচ্ছে। আর এই ৫ লাখ টাকা হতাহতের পরিবারের সদস্যদের জন্য কতটা উপকার হবে একমাত্র তারাই বলতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, এর আগে তার ছোট ভাই মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ করোনাকালিন সময়ে যা করেছেন নারায়ণগঞ্জবাসী তা কখনও ভুলতে পারবে না। তারা সকলেই নারায়ণগঞ্জবাসীর কল্যাণকর বয়ে আনছে।

জানা যায়, বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকা-ের ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও দগ্ধদের প্রত্যেকের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে পাঁচ লাখ টাকা করে দিতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। ৯ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আগামী সাতদিনের মধ্যে এই টাকা দিতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে। এই টাকা নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দিতে হবে। জেলা প্রশাসক এসব টাকা বিতরণ করবেন।

নিহত ও আহতদের ৫০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ কেন দেয়া হবে না, তা-ও জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় সচিব, গণপূর্ত সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ, রাজউক চেয়ারম্যান, ডিপিডিসি, ডেসকো, মসজিদ কমিটি, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, এসপিসহ ১৩ জন বিবাদীকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, ব্যারিস্টার মার-ই-য়াম খন্দকার। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল নূর উস সাদিক। ওই বিস্ফোরণ ও অগ্নিকা-ের ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও দগ্ধদের প্রত্যেকের পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মার-ই-য়াম খন্দকার।

এরপর অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার রিটটি বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চে উত্থাপন করেন। আদালত বিষয়টি শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করে। শুনানি শেষে উপরোক্ত আদেশ দেয়।

প্রসঙ্গত, গত ৪ সেপ্টেম্বর ফতুল্লার পশ্চিমতল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটনায় দগ্ধ অবস্থায় ৩৭ জনকে জাতীয় শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও