মামা ভাগ্নের তলোয়ার বাহিনী (ভিডিও)

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:১৪ এএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০ শনিবার

মামা ভাগ্নের তলোয়ার বাহিনী (ভিডিও)

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের তিলক থাকা মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সেক্রেটারী ও ২৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন আহমেদ দুলাল প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। তার উপরে নতুন করে যুক্ত হয়েছে আরেকটি সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ। সম্প্রতি যুবলীগ নেতা খান মাসুদের বাড়িতে হামলার ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশিত হয়েছে। সেই ভিডিও ফুটেজেও দুলালের অনুগামীদের তলোয়ার ও অস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসী হামলার একটি মহড়া দেখা গেছে।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, দুলালের ভাগ্নে ও মহানগর ছাত্রলীগ নেতা অনিক তালুকদার অপুর নেতৃত্বে বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে খান বাড়ি এলাকার সড়কের মোড়ে ছুটোছুটি করছে। সন্ত্রাসী বাহিনীর কারো হাতে বিশাল আকার তলোয়ার, কারো হাতে ধারালো ছুরি, হাত কুড়াল, রাম দা সহ বিভিন্ন অস্ত্র দেখা যায়।

ভিডিও ফুটেজের ব্যাপারে দুলাল প্রধান নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ভিডিও ফুটেজে যা আছে তার বিষয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। যা আছে সেটা তো দেখা যাচ্ছে। তবে ঘটনার দিন পুলিশ প্রশাসনের সামনে খান মাসুদের পক্ষের প্রায় এক দেড়শ লোকজন হাতে অস্ত্র নিয়ে সেখানে উপস্থিত ছিল। শুধু প্রশাসনের কারণে হামলা করতে পারে নাই। সেখানে আমাদের লোকজনও উপস্থিত ছিল তবে তাদের হাতে অস্ত্র ছিল কিনা আমার জানা নাই। হামলা প্রতিহত করার জন্য তারা কিছু ব্যবহার করেছে কিনা আমার জানা নাই।

স্থানীয়রা বলছেন, ভাগ্নে অপু মামার ক্ষমতাবলেই বেপরোয়া ও ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। দুলালের সেল্টার ছাড়া অপু প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে হামলা চালাতে পারতো না। বিতর্ক এড়াতে দুলাল প্রকাশ্যে না এসে ভাগ্নেকে দিয়ে তার সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা করে থাকে।

৬ সেপ্টেম্বর বন্দরে ডিস ব্যাবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বের জেরে যুবলীগ নেতা খান মাসুদের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত হয়েছেন খান মাসুদের বোন স্বপ্না বেগম, আসিফ ও অপুকে জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, কোয়াবর অনুমতিপ্রাপ্ত শ্যামল দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর যাবত ডিস ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। প্রায় একবছর আগে থেকে শহরের পাইকপাড়া এলাকার কাউন্সিলর আব্দুল করিম ওরফে ডিস বাবুর লাইন বন্দরে ঢোকানোর জন্যে বিভিন্নভাবে পায়তারা চালিয়ে আসছে একটা সিন্ডিকেট। কয়েকমাস পূর্বে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে স্থানীয় সাংসদ সেলিম ওসমানের নির্দেশে ওই চক্রের অপতৎপরতা বন্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত জাপা নেতা আবুল জাহের সম্প্রতি মৃত্যুবরণ করার পর থেকেই পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠে সেই সিন্ডিকেট। বিভিন্ন এলাকায় ডিসের কেটে দিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা সহ ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাসনাত রহমান বিন্দু ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন আহমেদ দুলাল প্রধানের লোকজন।

এমন ভীতিকর অবস্থায় স্থানীয় ক্যাবল ব্যাবসায়ী এসএম পারভেজ আলম বাদী হয়ে ছাত্রলীগ নেতা বিন্দু সহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। কিন্তু গত রাতে লাইন টেকনিশিয়ান হাসান ও সাব্বিরকে মারধর করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে বিন্দু ও দুলালের লোকজন।

যুবলীগ নেতা খান মাসুদ অভিযোগ করে বলেন, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে মাঠে নেমেছে এসব অনুপ্রবেশকারীরা। যেসব ব্যবসায়ীরা আগে থেকে এলাক্য ক্যাবল ব্যাবসা করে আসছেন তাদের পেটে লাথি দিয়ে ডিস বাবুর লাইন বন্দরে ঢুকতে পারে না উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, বিষয়টি মিমাংসার জন্য দুই পক্ষকে অফিসে ডাকেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোরশেদ আলম। কথামতো সার্কেল অফিসে যান। তাদের অনুপস্থিতিতে কাউন্সিলর দুলাল ও বিন্দুর নির্দেশে দুলালের ভাই রিপন প্রধান, জাকির প্রধান, সুমন প্রধান, ভাগ্নে অপু, মাদক ব্যবসায়ী কুদ্দুস, দিলা, জয়নাল, বাঘা ফয়সাল সহ ৩০/৪০ জন ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় তারা বাড়িতে থাকা একটা মোটর সাইকেল ও দরজা জানালা ভাংচুর করে। বাধা দিলে খান মাসুদের বোন স্বপ্না বেগম ও স্থানীয় আসিফ এবং অপুকে বেদম পিটিয়ে আহত করে। আহতদের জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। যারা এসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করেছে তারা লেবাসধারী, অনুপ্রবেশকারী। আজকে যদি আমি প্রতিবাদ করতাম তারা একটা লোকও সুস্থ যেতে পারতোনা। সেই ক্ষমতা সেই যোগ্যতা আমার ছিল। কিন্তু আমি আমার লোকজনদের ফোন করে সবাইকে পাল্টা হামলা করতে নিষেধ করে দিয়েছি। আওয়ামীলীগ সরকারের ও দলের ক্ষতি করার জন্য সারা বাংলাদেশে যে খেলা হচ্ছে এটা তেমনই একটি ঘটনা।

এ ব্যাপারে দুলাল প্রধান বলেন, গতকাল (ওই দিন) রাত ১২ টায় প্রায় ১শ থেকে দেড়শ ছেলেরা যাদের মধ্যে বেশিরভাগ কিশোর বয়সী তারা খান বাড়ির মোড় থেকে ডিসের তার কাটতে কাটতে আমার অফিস পর্যন্ত আসে। পাশের হোটেলের দোকানিকে মারধর করে মেসিন নিয়ে যায়। এরা বন্দরের মধ্যে কিছু হলেই রাম দা চাকু নিয়ে বেরিয়ে যায়। একারণে আমাদের এলাকার ছেলেরা এখানে জড় হয়েছিল। ওই দিকে খান মাসুধের ছেলেরা হামলা করে। এতে আমাদের ছেলেরা খান মাসুদের ছেলেদের প্রতিহত করে। পরবর্তীতে আমি এলাকার ছেলেদের বুঝিয়ে নিয়ে চলে আসি। আমরা শান্তি চাই, বন্দরের মধ্যে কোন বিশৃঙ্খলা চাইনা।

ছাত্রলীগ নেতা হাসনাত রহমান বিন্দু বলেন, শনিবার রাত ১০টায় খবর পেলাম কে বা কারা লেজারার্স এলাকা হতে আমার স্থাপিত ক্যাবল নেটওয়র্কের মেশিন ও তার কেটে নিয়ে গেছে। গভীর রাতে দেওয়ানবাড়ি এলাকা হতে আমার মেশিন চুরি ও তার কাটার সময় আমি পারভেজ মিয়ার ২ কর্মীকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশকে খবর দেই।

এই ঘটনার পরে ৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে বন্দর উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান এমপির নির্দেশে বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম এ রশিদ, মহানগর আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ন কবির মৃধা, মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান কমল, মনিরুল ইসলাম মনু উপস্থিত থেকে বিরোধের অবসান করে তাদের (কাউন্সিলর দুলাল প্রধান, যুবলীগ নেতা খান মাসুদ ও ছাত্রলীগ নেতা হাসনাত রহমান বিন্দুকে) মিলিয়ে দেন এবং অতীত ভুলে আগামীতে দল চাঙ্গা ও আরো গতিশীল কিভাবে করা যায় তা নিয়ে কাজ করার আহবান জানান।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১ আগস্ট শহরের নবীগঞ্জ খেয়াঘাট এলাকা থেকে কাউন্সিলর ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সেক্রেটারী সাইফউদ্দিন আহমেদ দুলাল প্রধান সহ ৫জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সেসময় তাদের কাছ থেকে ৫০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। পরে রিমান্ড শেষে দুলাল নিজেই ফেনসিডিল ব্যবসার কথা স্বীকার করেছেন বলে জেলা পুলিশের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও