সোনার কেল্লায় রাক্ষুসির নজর!

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩২ পিএম, ১০ অক্টোবর ২০২০ শনিবার

সোনার কেল্লায় রাক্ষুসির নজর!

এ যেন রাজনীতির রূপকথা! সোনার কেল্লায় রাক্ষুসি ডাইনির নজর পড়েছে। ভালই ছিল সোনার কেল্লার বাসিন্দারা। সুজলা-সুফলা শস্য শ্যামল মাটিতে ফসল ফলিয়ে প্রজারা ভালই চলছিল। ছিলনা কোন অভাব-অনটন। বিচার-নালিশ। দলাদলি। হঠাৎ এক রাজনৈতিক দমকা হাওয়ায় কোত্থেকে এক দৈত্য এলো। দৈত্যটা প্রথমে ছিল বেশ ভাল। প্রজারাও ভাল দিন কাটাচ্ছিল। কিন্তু সেই দৈত্যের জীবনে কোন মধুর ক্ষণে আগমন ঘটে এক ডাইনি রাক্ষুসির। প্রথমে সে চুপচাপ থাকলেও এখন তার নজর পড়েছে সোনার কেল্লায়। এ কারণে দুঃশ্চিন্তায় ঘুম হারাম হওয়ার যোগাড় হয়েছে কেল্লার নিরীহ বাসিন্দাদের। রাক্ষুসি ডাইনিটা প্রথমে বেশ মিষ্টি করে কথা বলতো। ভাল ভাল পরামর্শ দিত। আসলে এসব ছিল তার বাহানা মাত্র। গল্পের রাক্ষুসি যেমন যা বলে তার উল্টো ঘটনা ঘটায়। তেমনি এই রাক্ষুসিও প্রথমে ভাল ভাল কথা বলছে। এখন তার উল্টোটি করছে।

এমন নানান মুখরোচক বয়ান শোনা যায় সোনারগাঁও পৌর এলাকার বিভিন্ন চায়ের দোকানে ও জনসমাগম হয় এমন পয়েন্টগুলোতে। এদের অধিকাংশই ভোটার। সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এর পালিত কন্যা পরিচয় দানকারি অনন্যা হুসেইন এর ফেসবুক স্ট্যাটাসটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে গল্পের পালে হাওয়া লেগেছে। দিনভর এখন একটাই আলেচনা। কে এই মেয়র প্রার্থী। যাকে রাক্ষুসি ও ডাইনী বলে সম্বোধন করেছে এরশাদ কন্যা।

তবে এখানে উল্লেখ্য যে, সোনারগাঁ পৌরসভার বর্তমান মেয়র সাদেকুর রহমান রহমানেরও সমর্থন আদায় করেছেন জাতীয় পার্টির স্থানীয় এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা। ৩ অক্টোবর শনিবার তিনি তার স্ত্রী ডালিয়া লিয়াকতকে সঙ্গে নিয়ে মেয়র সাদেকুর রহমানের বাসায় হাজির হয়েছিলেন। ওই সময়ে সাদেকুর রহমান নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন আগামী নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হবেন ডালিয়া। সঙ্গে তখন খোকা সহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ডালিয়াকে তখন দুইবার সাদেকুর রহমানের পা ধরে সালাম করতে দেখা গেছে।

সোনারগাঁও পৌরসভার কয়েকজন প্রবীণ রাজনৈতিক কর্মী ও ভোটাররা তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এরশাদ সাহেবের কন্যা খারাপ কিছু বলেননি। সামনে পৌরসভা নির্বাচন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের ওয়ার্মআপ চলছে। এই মোক্ষম সময়ে মোক্ষম চালটি চালতে চাইছেন একজন জনপ্রতিনিধি। তিনি তার সহধর্মীনিকে মেয়র বানাতে মাঠে নেমে পড়েছেন। তার সহধর্মীনিও দম দেয়া পুতুলের মত চলছেন। শিখিয়ে দেয়া বক্তব্য দিতে জানেন। সোনারগাঁবাসীর মঙ্গলের কথা বলেন। আমাদের মন্তব্য হচ্ছে, এটা গণতন্ত্র চলছে। যে যার ইচ্ছেমত নির্বাচনে দাঁড়াতেই পারেন। যোগ্যতা থাকলে ও পছন্দ করলে তাকে জনগণ ভোট দিতে পারে আবার নাও পারে।

কয়েকজন জাপা ও আওয়ামীলীগ কর্মী বলেন, পৌরসভার মেয়র হওয়ার ব্যাপারটি হাতের মোয়া নয়। ইচ্ছে করলেই বাজারে গিয়ে কিনে নিয়ে খেতে পারবেন। এটা জনগণের ম্যান্ডেটের ব্যাপার। তাছাড়া সোনারগাঁয়ের স্থানীয় নিবেদিত প্রাণ নেতারা থাকতে বহিরাগত কেউ হঠাৎ করে ভোটার তালিকায় নাম উঠালেই মেয়র হয়ে যাবেন তেমনটি ভাবার কারণ হয়তো আগে ছিল। এখন সেই কারণ বিলুপ্ত হয়েছে। বার বার লটারীতে ভাগ্য খোলেনা। বাস্তবতা বড়ই কঠিন। এরশাদ কন্যার স্ট্যাটাসের মতই সত্যি। রূপকথার দিন ফুরিয়েছে। ঠাকুরমার ঝুলির গল্প শীঘ্রই ফুরোবে, নটে গাছটিও মুরোবে।

জানা গেছে, সোনারগাঁও পৌরসভার নির্বাচনের ডামাঢোল বাজার সঙ্গেই সঙ্গেই শুরু হয়েছে নানা মেরুকরণ। সবাইকে ছাড়িয়ে নির্বাচনের মাঠে আলোচনার তুঙ্গে এখন এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার স্ত্রী ডালিয়া লিয়াকত। পোস্টার ছাপা শেষ হয়ে তা দেয়ালে স্থান পাচ্ছে। অন্যান্যরা যেন এখনো ঘুমে। তবে সবাইকে একটা ঝাঁকুনি দিল অনন্যা হোসাইন মৌসুমী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ঝড় তুলেছেন অনন্যা হোসাইন মৌসুমী। গত সংসদ নির্বাচনে তিনি জাতীয় পার্টির প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। পরিচয় দিতেন প্রয়াত এরশাদের পালিত কন্যা। কিন্তু হালে পানি পায়নি। মনোনয়ন পায়নি এ নারী নেত্রী। কিন্তু তখন তিনি ফেসবুকে ঝড় তুলতেন একের পর এক স্ট্যাটাস দিয়ে।

২ অক্টোবর শুক্রবার বিকেলে ‘অনন্যা হুসেইন’ আইডিতে একিট পোস্ট দেওয়া হয়েছে। আর এটা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা ধরনের গুঞ্জন। কাকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন তিনি সেটাও নিশ্চিত না। তবে অনেকেই ধারণা করছেন স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধিকে। যদিও তিনি কারো নাম উল্লেখ করেনি। এতে তিনি লিখেছেন, ‘সোনারগাঁও পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে কিছু কথা বলা দরকার। অনেক প্রার্থী দেখলাম। ভালো লেগেছে খারাপও লেগেছে। গত নির্বাচনেও অনেক প্রতিযোগিতা হয়েছে, সাদেক সাহেব সম্মানিত ব্যক্তি কিন্তু ওনি তো চলতেই পারেনা তবুও ক্ষমতায় থাকার মজা আর স্বাদ পেলে কেউ ছাড়তে চায়না নতুনদের সুযোগ দেয়া উচিৎ। নতুন নতুন অনেককেই দেখছি। সবই ঠিক আছে।’ ‘কোন কোন ভাড়াটিয়াও নাকি নতুন ভোটার হইছে? মানুষ কি এতোই বোদাই পুরান পাগলে ভাত পায়না নতুন পাগলের আমদানি? পেট ভরেনা এক এক জনের। পৌরবাসীর সবাইকে বলবো, মার থেকে মাসির দরদ বেশী দেখলে মনে করবেন সে রাক্ষুসি। মানুষ খেকু। রক্ত চোষা। এরা ধান্দাবাজ, ধান্দা করে চলে যাবে। এদের সাথে যাহারা আছে ওরাও ফায়দা লুটতে আসছে। সাবধান পৌরসভার মা বোন ভাইয়েরা। পৌর মেয়র যেই হক সে যেনো পৌরসভার হয়, তার নাড়ির সাথে যেনো মাটির সম্পর্ক থাকে। তার বাবা মার দাদা দাদীর বাড়ী এখানে হয়। তা হলে সোনারগাঁ পৌরসভার উন্নতি হবে, উন্নয়ন হবে। কিন্তু এখানে নতুন ভাড়াটিয়া পৌর মেয়র হলে ধান্দা করতে আসবে, পয়সা কামাই করে চলে যাবে। এটাই সত্য। ভুল করলে পরে বুঝবেন। আর মনে রাখবেন আমার কথাটা।’

সূত্রমতে, বর্তমানে সোনারগাঁও পৌরসভার মেয়র সাদেকুর রহমান। তিনি টানা কয়েকবারের জনপ্রতিনিধি। আগামীতেও তার পরিবারের একজন এ মেয়র পদে আগ্রহী। ইতোমধ্যে প্রচারণায় নেমেছেন এর আগে নির্বাচন করা যুবলীগ নেতা গাজী মুজিবুর। পোড় খাওয়া এ ত্যাগী নেতার বড় দুর্বলতা ‘আর্থিক অস্বচ্ছলতা’বলে মনে করেন অনুগামীরা। তবে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তার ‘ত্যাগ’ নিয়ে কারোই কোন সন্দেহ নাই। সবশেষ নির্বাচনে তিনি দলের প্রতি আনুগত্য দেখিয়েই সরে যান।

এদিকে, প্রার্থী হতে চান গত নির্বাচনে প্রার্থী হয়েও পরাজয় বরণ করা আইনজীবী এটি ফজলে রাব্বি। তিনি আড়াইহাজারের এমপি এক সময়ের তুখোড় ছাত্রলীগের সেক্রেটারী নজরুল ইসলাম বাবুর ভগ্নিপতি। প্রার্থীর তালিকাতে আছেন ছগির আহমেদও।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ডিসেম্বরের শেষের দিকে সোনারগাঁও পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘনিয়ে আসছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ পৌরসভা নির্বাচন। আর এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা নিজেদের পক্ষে প্রচারণা শুরু করেছেন। পিছিয়ে নেই বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের শরিক দল জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীরাও।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও