বিএনপির সময়ে সেন্টু চেয়ারম্যানের হাত পা টিপতেন : পলাশ

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২২ পিএম, ১২ অক্টোবর ২০২০ সোমবার

বিএনপির সময়ে সেন্টু চেয়ারম্যানের হাত পা টিপতেন : পলাশ

জাতীয় শ্রমিকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যান বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহমাদ পলাশ বলেছেন, এক সময়ে আমরা পাগলার রাজপথে মিছিল করেছি। আওয়ামী লীগ যখন বিরোধী দল তখন আমরা মিছিল করতাম। ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকী করতে দেওয়া হতো না। আমাদের দাঁড়াতে দেয়নি। এ পাগলায় এখন নব্য আওয়ামী লীগকে দেখা যায়। অনেক হাইব্রিডকে দেখা যায়। তাদের অনেক ভাবসাব রয়েছে। তারা কথায় কথায় বলেন আমরা ‘এমপির লোক’ আমরা দল করি। ঠ্যাঙ ভেঙে হাতে ধরিয়ে দিব। আওয়ামী লীগের জোতের মালিক আমরা। আমরা এখানে আওয়ামী লীগের জন্ম দিয়েছি। কেউ যদি আওয়ামী লীগকে বিক্রি করে জুলুম করেন, কায়েমী স্বার্থ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন তাহলে কিন্তু আমরা দাঁড়িয়ে যাবো রাজপথে। আমরা কিন্তু আঙুল চুষবো না। দাত ভাঙা জবাব দিব। আমরা কয়েক বছর দেখছি হাইব্রিডদের আনাগোনা। আপনি এমপি সাহেব না কার লোক সেটা দেখবো না। আমরা দেখবো আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে ছিলেন কি না সেটা দেখবো। এমপির নাম ভাঙিয়ে স্বাধীনতা বিরোধী বিএনপি-জামায়াত সন্ত্রাসীদের নিয়ে এই এলাকায় নিরীহ মানুষের উপর জুলুম অত্যাচার সহ যা খুশি তা করে জননেত্রী শেখ হাসিনার দুর্নাম করে বেড়াবেন তা এই এলাকার প্রকৃত নেতারা মেনে নিবেননা। নব্য আওয়ামী লীগারদের এসব অপকর্মের জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে।

১২ অক্টোবর সোমবার বিকেলে পাগলা বাজার এলাকায় জাতীয় শ্রমিকলীগ ফতুল্লা আঞ্চলিক শাখা আয়োজিত শ্রমিকলীগের ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিএনপির সময়ে আপনারা সেন্টু চেয়ারম্যান (কুতুবপুরের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা) এর হাত পা টিপতে টিপতে ব্যস্ত ছিলেন। বিএনপি ক্ষমতা গেছে এখন আওয়ামী লীগে দৌড় পারেন। ওই একটা বালাখানা আছে। বালাখানায় দৌড়া আর এমপি সাহেব জিন্দাবাদ। কাল যদি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকে তাহলে আপনাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না।

শ্রমিক নেতা পলাশ আরো বলেন, বাংলার মেহনতি কৃষক শ্রমিক জনতা জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলো বলেই আজ আমরা স্বাধীনতা অর্জন করতে পেরেছি। কোন শিল্পপতি ব্যবসায়ী পুঁজিবাদিরা এই দেশে স্বাধীন করেনি। অথচ আজ তারাই কৃষক শ্রমিক মেহনতি মানুষের রক্ত চুষে নিচ্ছে। তাদেরকে ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করছে।

তিনি বলেন, এক শ্রেনীর মালিক আছে যারা এদেশের শিল্পকে ধ্বংস করার জন্য ঠিকমতো শ্রমিকদের বেতনভাতা প্রদান না করায় শিল্প কারখানাগুলোতে শ্রমিক অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। আর এর রেশ ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। ওই সব ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রমিকবান্ধব বলেই পরপর তিনবার শ্রমিকের নূন্যতম মজুরি বৃদ্ধি করেছেন। শ্রমিক কল্যান ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এখন একজন মৃত শ্রমিকের পরিবার ২ লাখ টাকা পাচ্ছেন। শ্রমিকের প্রতি প্রধানমন্ত্রী এই সকল ভালোবাসা ও সু-দৃষ্টি শিল্পপতি ব্যবসায়ী পুঁজিবাদিরা আজও মন থেকে মেনে নিতে পারছেনা। শেখ হাসিনার সরকারের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে তরান্বিত করতে শ্রমজীবী মানুষকে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানান তিনি।

জাতীয় শ্রমিকলীগ ফতুল্লা আঞ্চলিক শাখার সাধারণ সম্পাদক এস এম হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৭ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো: জাহাঙ্গীর আলম, আওয়ামীলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম রাহাত, জেলা শ্রমিকলীগের সহসভাপতি মো: হুমাযুন কবির, জাতীয় শ্রমিকলীগ ফতুল্লা আঞ্চলিক শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম, ইউনাইটেড ফেডারেশন অব গার্ম্ন্েটস ওয়ার্কার্স নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সেন্টু, সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন রাজু, বাংলাদেশ আন্ত:জিলা ট্রাক চালক ইউনিয়ন পাগলা শাখার সম্পাদক জজ মিয়া, যুগ্ম সম্পাদক ফিরোজ মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক বশির মিয়া, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো: উবাইদুর রহমান উবাইয়েদ, ফতুল্লা থানা লোড আনলোড শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক পিয়াস আহম্মেদ সোহেল, ইমারত নির্মান শ্রমিক ইউনিয়ন নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাত্তার, ফতুল্লা থানা দোকান কর্মচারী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফারুক আকন, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা রিক্সা চালক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক ও ইমান আলী প্রমুখ।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও