এবার পুলিশকে প্রকাশ্যে শাসালেন দুর্ধর্ষ সেই মিরু

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:০৮ পিএম, ১৪ অক্টোবর ২০২০ বুধবার

এবার পুলিশকে প্রকাশ্যে শাসালেন দুর্ধর্ষ সেই মিরু

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার কুতুবপুর এলাকার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মিরু হোসেন মিরুর বিরুদ্ধে পুলিশের একজন সদস্যকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠানে ওই পুলিশ সদস্যকে আঙুল উচিয়ে শাসান মিরু। প্রকাশ্যেই তিনি ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে শাসিয়ে দেন।

জানা গেছে, মীরুর বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা, মারামারি ও চাঁদাবাজী মামলাসহ সর্বমোট ১৯ মামলা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে অর্ধশত। পাগলা বউ বাজার ও শাহী মহল্লার মাদকসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা করতে মীরুর রয়েছে বিশাল বাহিনী। মীরু এক মূর্তমান আতঙ্ক। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাও রয়েছে। মাদক ব্যবসার আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় হত্যা করতেও দ্বিধাবোধ করেনি মীরু।

সম্প্রতি পাগলায় খুন হন রাজীব ওরফে ভিপি রাজীব। এর বিচার দাবীতে ১২ অক্টোবর ফতুল্লার পাগলা বাজার বাসস্ট্যান্ড মানববন্ধন আয়োজন করা হয়।

সেখানে মিরু সহ অন্যরা উপস্থিত হন। সেখানে পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) কর্মকর্তা আবদুল মতিন উপস্থিত হলে তাকে শাসাতে থাকে।

তাকে মিরু বলেন, ‘আপনি কি আলাউদ্দিনের লোক। কেন এখানে আসছেন। আপনি আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ করেন। যদি না করেন তাহলে কেন আমাদের লোকজনদের দৌড়ানি দিবেন। এসব ভালো না। আগের ইতিহাস করাবেন না।’

২০১৯ সালের ১৮ জানুয়ারী মীরু ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে নগদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ ছিল। ওই ঘটনায় সে গ্রেপ্তারও হয়।

২০১৬ সালের ১৮ অক্টোবর ফতুল্লার পাগলায় আওয়ামী জনতা লীগের নেতা শেখ স্বাধীন মনির হোসেনকে (৩৫) কুপিয়ে হত্যা করে মিরু বাহিনী। ২০ অক্টোবর বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে জনতা লীগ ও এলাকাবাসীর ব্যানারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল থেকে ফতুল্লার কুতুবপুরের সেচ্ছাসেবক লীগ ক্যাডার মীর হোসেন মীরু ও তার বাহিনীর ফাঁসির দাবী করা হয়। পরে ৪ ছাত্রলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছিল ল্যাংড়া মিরু।

২০১৫ সালের ১০ জুন ফতুল্লার পাগলা রসুলপুরে মাদক ব্যবসায় রাজি না হওয়ায় ব্যবসায়ী নূরুল হককে হত্যার হুমকি দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পর বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে বৃদ্ধ মায়ের সামনে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ও এলোপাতাড়ি পিটিয়ে হত্যা করে সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা পরিচয় দানকারী মির হোসেন মিরু বাহিনীর লোকজন। ২০১৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারী পাগলা শাহী বাজার এলাকায় ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্ক (ডিশ) ব্যবসার নিয়ন্ত্রন নিতে শাহজাহান নামের এক ডিস কর্মচারীকে কুপিয়ে হত্যা করে মিরু বাহিনী।

২০১২ সালের ৩ নভেম্বর রাতে নিজ বাসা থেকে মীরু এবং তার সহযোগী ইকবালকে ৫ রাউন্ড গুলিভর্তি একটি পিস্তল ও ১৩ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে র‌্যাব-১০। ২০১৩ সালের ১৪ অক্টোবর এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে মীরু বাহিনী ভাঙ্গাপুল এলাকায় গিয়ে জাকের পার্টি নেতা হোসেনের বাড়ির সামনে বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় ও গুলি করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। ২০১৪ সালে বিরুদ্ধে মিছিলে অংশ নেয়ার অপরাধে এই বছরের ২৮ এপ্রিল রাতে স্থানীয় দুই সহোদর আব্দুর রহমান ও সজলকে শাহী বাজার এলাকার একটি দোকান থেকে তুলে নিয়ে যায় মীরু বাহিনী। ২০১৫ সালের ১০ জুন নূরুল হককে নামে এক ব্যবসায়ীকে তার মায়ের সামনেই পিটিয়ে হত্যা করে এই সন্ত্রাসী বাহিনী। ফতুল্লা মডেল থানায় মীরুর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের হয়। একই বছরের ১৯ মার্চ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানোর অভিযোগে এক ব্যবসায়ী সন্ত্রাসী মীরুসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এর দু’দিন আগে এক এএসসি পরীক্ষার্থীকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় এলাকাবাসীর উপর হামলা চালায় মীরু বাহিনী। এ হামলায় ২০ জন নিরীহ এলাকাবাসী আহত হয়।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও