‘আন্দোলন দমনের জন্য ‘ফাঁসির মুলা’ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে’

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:০৭ পিএম, ১৬ অক্টোবর ২০২০ শুক্রবার

‘আন্দোলন দমনের জন্য ‘ফাঁসির মুলা’ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে’

ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অনিক রায় বলেছেন, ‘আমরা এমন একটি দেশে বসবাস করছি। যে দেশে আন্দোলন যখন হয় তখনি সরকার কোনো না কোনো মুলা সামনে নিয়ে আসে। যে দেশে ১০০ টি ধর্ষণের ঘটনা ফাইল হলে বিচার হয় তিনটি। সেখানে আমাদের সরকার একটি মুলা ঝুলিয়ে দিল, ফাঁসির মুলা। ফাঁসির মুলা সামনে দিয়ে আমাদের আন্দোলন দমন করতে চায়।’

১৬ অক্টোবর শুক্রবার দুপুরে ‘ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ ব্যানারে ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী গণজাগরণ তৈরির লক্ষ্যে এবং ৯ দফা দাবিতে নোয়াখালীর পথে লংমার্চ শুরু করে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া শহীদ মিনারে এস সংক্ষিপ্ত অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ‘পুলিশের কাছে জানতে চাই, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চাই। বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা নির্ধারণের দায়িত্ব ছিল ওই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। ওই দায়িত্ব ছিল বাংলাদেশ সরকারের। কিন্তু নোয়াখালীর ঘটনা ঘটে গেলো। ওই মহিলা প্রথম ৩৫ দিন পুলিশের কাছে যেতে পারেনি। ওই মহিলা নির্যাতিত হলো, ওই মহিলাকে এলাকা ছাড়া করা হলো। তাহলে যে পুলিশ বাহিনীর বেতন আমার ট্যাক্সের টাকায় হয়, আমার ট্যাক্সের টাকায় রেশন হয়। সেই পুলিশ বাহিনী আমার নিরাপত্তা না দিয়ে কার নিরাপত্তা দিচ্ছে? বাংলাদেশের মানুষের এই প্রশ্নের সমাধান করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আজকের লড়াই শুধু ধৈর্যের নয়। বছরের পর বছর ধরে মামলা কোর্টে ঝুলে। কিন্তু সেই মামলার রায় হয় না এরও বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের মানুষের ল এন্ড অর্ডার মেনটেইন করার যে দায়িত্ব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছিল। তিনি তো ব্যর্থ হয়েছেন-ই তার উপর তিনি ধর্ষণের মত ঘটনাকে সাধারণ করতে চেয়েছেন। তিনি বলেছেন সারা পৃথিবীতে ধর্ষণ হয়। এই বক্তব্য দিয়ে তিনি প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে ধর্ষণ একটি সাধারণ ঘটনা। দায়িত্বশীল জায়গায় বসে এরকম দায়িত্বহীনের মত, নির্বোধের মত বক্তব্য যে সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেয়। তাঁকে আমাদের ট্যাক্সের টাকায় বেতন পরিশোধ করতে চাই না। বাংলাদেশের জনগন এই ব্যর্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বয়কট করেছে। আমরা দাবি করব এই ব্যর্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। তাঁকে অপসারণ করতে হবে। না হয় এই লংমার্চ দিয়েও আন্দোলন শেষ হবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের উপর পুলিশ দিয়ে আঘাত করা হচ্ছে। আমরা যারা আন্দোলন করিছ। তাঁদেরকে গালিগালাজ করা হয়েছে। নানা রকম ভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমরা বলতে চাই যদি এই লংমার্চে কোনো রকম আঘাত হানা হয় তাহলে দ্বিগুণ জোরে তা ফেরত দেওয়া হবে। এই ব্যর্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের আগে পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলবে। পুলিশ যদি লাঠি দিয়ে মারতে আসে। বাংলাদেশের পতাকা হাতে নিয়ে বুক উচিয়ে দাঁড়াবো।’

ছাত্র ইউনিয়ন নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি শুভ বণিকের সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি গোলাম মোস্তফা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাসিরুদ্দিন প্রিন্স, যুব ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুম, উদীচি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপনসহ শতাধিক আন্দোলনকারী।

জানা যায়, লংমার্চটি শাহবাগ, গুলিস্তান হয়ে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় আসে। তারপর তারা সোনারগাঁও; সেখান থেকে কুমিল্লার পথে রওনা দেয়। কুমিল্লা শহরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করার পর লংমার্চ যাবে ফেনীতে। শনিবার ফেনী শহরে সমাবেশ শেষে দাগনভুঞা, নোয়াখালীর চৌমুহনী হয়ে যাবে বেগমগঞ্জের একলাসপুর। শনিবার বিকালে সেখান থেকে মাইজদী কোর্ট এ। সেখানে সমাবেশের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে লংমার্চ।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও