সেলিম ওসমানের পাঞ্জাবী টান দেয় কারা

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:১২ পিএম, ১০ নভেম্বর ২০২০ মঙ্গলবার

সেলিম ওসমানের পাঞ্জাবী টান দেয় কারা

খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা তথ্য ফাঁস করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমান। তিনি যখনই ঐক্যের ডাক দেন সেই সময়টাতে কে বা কারা যেনো তাঁর পাঞ্জাবি ধরে পিছে টান মারে। অর্থাৎ ওসমান পরিবার নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ঐক্য ফিরিয়ে আনুক এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা করুক-এমনটা চায় না একটি বিশেষ মহল। বা উপরের মহলের কুশীলবদেরই একটি অংশ। যে অংশটাকে খোদ সেলিম ওসমান প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ নিজেই চিনেন না। কে বিশ্বাস করবে এই কথা।

কিন্তু বিষয়টি আসলেই সত্যি। কেননা এই শহরে বিভক্তির রাজনীতি জিইয়ে রাখতে অনেক পরগাছা কাজ করেন। তারা এতোটাই হুঁশিয়ার ও চালবাজ যে, তাদের মতিগতি ধরা যায় না। অভিনয় গুণের সাথে স্বভাবে এরা বেশ ধূর্ত বটে ! হয়তো এমপি সেলিম ওসমানের আশপাশেই থাকেন এমনকি সঙ্গী হয়ে সর্বত্র বিচরণ করেন। তবুও এদের গতি বোঝা যায় না। মতলবটা বেশ প্যাঁচ কষেই ফলাতে ওরা ওস্তাদ। ওরা কখনো প্রকাশ্যে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ আবার অন্তরালে বিপক্ষ অর্থাৎ রাজাকারের দোসর হয়েও কাজ করেন। এরা কারা ? এবার সেলিম ওসমান নিজে প্রশ্নটি তুলেছেন বলে বোদ্ধামহলে চলছে নানা গুঞ্জন।

এমপি ও মেয়রের এক টেবিলে বসার ব্যাপারে গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে একই ধরনের ইঙ্গিত বহন করে এমন কথা বলেছেন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ লাভলু। তিনি বাংলাদেশ মানবাধিকার কাউন্সিল নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি এবং তাঁর আরেক পরিচয় তিনি ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। লাভলুর মেয়ের সঙ্গে বিয়ে হয়েছে শামীম ওসমানের একমাত্র ছেলে অয়ন ওসমানের।

ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ লাভলু বলেছেন, এমপি ও মেয়র এক টেবিলে বসার ব্যাপারে মাঝখানে একটি পক্ষ আছে যারা চায়না এক টেবিলে বসুক। যদি তারা এক টেবিলে বসে পরে ওনাদের (তৃতীয় পক্ষ বা মধ্যভোগীদের) তো কোন কাজ থাকেনা। যেকারণে ওনারা এক টেবিলে বসতে দেয়না। শহরের রাজনীতির গতিবিধির খবর রাখেন এমন কয়েকজন জানান, ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ লাভলু কথাটি এমনি এমনি বলেন নি। তিনি ওসমান পরিবারের অনেক খবরই রাখেন। তাঁর কথার একটা বিশেষ মূল্যায়ন হয় রাজনৈতিক মহলে।

পর্যবেক্ষক মহলের মতে, নগরমাতা ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও ওসমান পরিবারের মধ্যে ঐক্য হোক এমনটা চায় না পরগাছা টাইপের কিছু পার্শ্ব চরিত্রের রাজনৈতিক নেতা। নামে নেতা হলেও তাদের মূল্যায়নটা বরাবরই হয় দালাল হিসেবে। ঐক্য হলেই তাদের ধান্দাবাজি ফুরাবে। নাম ধাম মুছে যাবে। স্যুটেড বুটেড কিছু চিড়িয়া হারিয়ে যাবে রাজনীতির আকাশ থেকে। এই দুষ্ট নক্ষত্রের দলই কায়মনো বাক্যে কামনা করে ঐক্যটা যেন না হয়।

এবার প্রাচ্যেরডান্ডি নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ব্লক কেন্দ্রিক রাজনৈতিক চর্চার আগল ভেঙ্গে ঐক্যের বাণী প্রচার করে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থন হলেন ওসমান পরিবারের সন্তান এমপি সেলিম ওসমান। এই মহানগরীর প্রধান প্রধান সমস্যা সমাধানে কি কি অন্তরায় রয়েছে এবং উন্নয়নে কিভাবে সকলের বলিষ্ঠ ভূমিকা থাকবে- সে কথাই বেশ দায়িত্ব নিয়েই বলেছেন ঐক্যের সাধক সেলিম ওসমান। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ব্যবসায়ী নেতা সেলিম ওসমানের আহবানে খোদ সিটির মেয়র সাড়া দিয়েছেন। আপন বৈশিষ্টে অনঢ় থাকার নজির যাঁর পাথরের মতই দৃঢ়- সেই নগরমাতা ডা. আইভী ও ঐক্য চাইছেন।

তিনি বরাবরই তা চেয়ে আসছিলেন। কিন্তু পারছিলেন না। না পারার কারণগুলো নগরবাসীর জানা। তিনি আর অতীতে ফিরতে চান না। সুন্দর আগামীকেই স্বাগত জানাতে তৈরী।

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি নিয়ে চর্চা করেন এমন লোকজনের মতে, নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ওসমান পরিবারের মধ্যমনি এখন সেলিম ওসমান। বীরমুক্তিযোদ্ধা, ব্যবসায়ী নেতা আবার এমপি। সবচেয়ে তাঁর বড়গুণ হচ্ছে তিনি নিজেকে যে কোন অবস্থাতে ‘ইগো’ সমস্যার ঊর্ধ্বে রাখতে পারেন। এ কারণেই তাঁর কথা সর্বমহলে গ্রহণযোগ্যতা পায়।

সবশেষ ৮ নভেম্বর রাতে ফতুল্লার উইজডম এটায়ার্সে নিজ নির্বাচনী আসনের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সেলিম ওসমান বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে যতটুকু উন্নয়ন হওয়ার প্রয়োজন ছিল সেটা হয়নি। এ শহরে ময়লার রাজনীতি হয়। হকার নিয়ে রাজনীতি হয়। যানজট নিয়ে রাজনীতি হয়। তাই আমাদের এখন বসতে হবে। আমি আগাতে গেলে পাঞ্জাবী ধরে টান দেওয়া হবে। কারো আঁচল টান দিয়ে ধরবে।

২২ অক্টোবর এক সভায় সেলিম ওসমান বলেন, ইতোমধ্যে আমি সম্মানিত মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর সঙ্গে আমি কথা বলেছি। মেয়র মহোদয়কে আহবান করেছি আমরা এক টেবিলে বসার জন্য। মুরুব্বিদেরও বলেছি। প্রয়োজনে আমরা দুই ভাই বসবো। করোনা আমাদের অনেক শিক্ষা দিয়েছে। আমাদের অনেকেই মারা গেছেন। এখন আমরা দ্রুত চেষ্টা করবো নারায়ণগঞ্জের মানুষের সুখ শান্তির জন্য একটেবিলে বসার জন্য। কারণ আমরা অনেক ঝগড়া করেছি, অনেক গালমন্দ করেছি। আমরা জানি না এর পরে আমরা কাকে আনবো। এমনো হতে পারে তাঁর ভালো কাজের জন্য তাকে আমরা অনুরোধ করবো আবারো মেয়র হওয়ার চেষ্টা করো। কারণ এত লং টাইম একটা চেয়ারে বসে অনেক কিছু শিখতে পারে।

৫ অক্টোবর বিকেলে গঞ্জে আলী খালের সৌন্দর্য বর্ধণের জন্য বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছিলেন, ‘আমাদের মাননীয় এমপি মহোদয় সেলিম ওসমান ওনি আমাদেরকে সহযোগীতা করেছেন। চাষাঢ়া থেকে থেকে যে উচ্ছেদ হয়েছিল সেখানে তিনি আমাদেরকে সহযোগীতা করেছিলেন। তাঁর প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমরা চাই নারায়ণগঞ্জবাসীর স্বার্থে সকলে মিলঝিল করে কাজ করি।’

রাজনৈতিক বিজ্ঞজনরা বলছেন, এমপি সেলিম ওসমান সত্যি কথাটাই বলেছেন। নগরমাতার সাথে ঐক্য গড়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। কিন্তু একটি মহল এই ভাল উদ্যোগটি নস্যাৎ করতে আগ বাড়িয়ে ওৎঁ পেতে রয়েছে। সুযোগ পেলেই ‘নারদ মুনি’ মত নারায়ণ নারায়ণ বলে দুই পক্ষের মধ্যে ফাঁটল ধরাতে সচেষ্ট হবে। এমপি সেলিম ওসমান এবার দৃঢ়চিত্তে এগোচ্ছেন। কোন নারদ মুনিকে ঝগড়া লাগানোর সুযোগ দেয়া হবে না। সেলিম ওসমান যে অঘটন কিছু ঘটার আগেই তা টের পেয়েছেন এ জন্য তিনি নগরবাসীর প্রশংসার হকদার হয়েছেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও