পাশে বন্ধু বেয়াই

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩৮ পিএম, ১৫ নভেম্বর ২০২০ রবিবার

পাশে বন্ধু বেয়াই

সত্যিই নগরমাতা ডা. আইভী সবার মধ্যমনি। তিনি যেখানে যান সেখানেই চাঁদের জোছনা নেমে আসে। পাশে এসে ভিড় করে কত চেনামুখ। হাজার মুখের সেই ভিড়েও চিনতে কষ্ট হয় না হাতেগোনা ক’জনকে। যাঁরা রাজনীতিতে অভিজ্ঞ ও মর্যাদায় ভিআইপি।

ছবিতে নগরমাতার ডানপাশে যিনি দাঁড়িয়ে আছেন তিনি এমপি শামীম ওসমানের বিয়াই। যিনি বায়ে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন তিনি শামীম ওসমানেরই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। অর্থাৎ ডানপাশে দাঁড়িয়ে মেয়র আইভীকে সাদর সম্ভাষণ জানাচ্ছেন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ লাভলু। ইদানিং আগের সব পরিচয় মনে রেখেই সকলে তাঁকে এমপির বিয়াই বলেই ডাকেন। লাভলুও হাসিমুখে তা মেনে নেন।

মেয়র আইভীর বামপাশে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মো: ইব্রাহিম চেঙ্গিস। ছবিটি একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের। দু’জনের মাঝখানে হাস্যোজ্বল দেখাচ্ছিল সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে। কুশল বিনিময়ের পর তাদের সাথে আর কিকি বিষয়ে কথা হয়েছে-এ বিষয়ে অকুস্থলে উপস্থিত অনেকে বলেছেন, আসলে কুশল বিনিময়টা হতেইতো দেখলাম।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এমন কয়েকজন রাজনৈতিক অভিজ্ঞ লোক বলেন, ভাই বলার কিছুই নাই। আইভীর তুলনা আইভীই। যে যা বলুক। আগে পরে বিরোধীতা বা শত্রুতা করুক। সামনে পড়লে বদলে যান। বদলে যেতে বাধ্য হন। এটা ঐশ্বরিক ব্যাপার! তুমুল বিরোধীতাকারীও ডা. আইভীর সামনে পড়লে অটোমেটিকলি পরিবর্তন হয়ে যায়। নগরমাতাকে যথাযথ সম্মান দিয়ে কথা বলেন। লাভলু ও চেঙ্গিসতো এই শহরে অপরিচিত নন যে, তাঁরা রাখডাক করে কোন কথা বলবে। হয়তো সাম্প্রতিক ঘটনা প্রবাহ নিয়ে দু’চার কথা হয়েছে। আমাদের মেয়র তাঁর স্বভাবচরিতভাবেই বলে দিয়ে থাকতে পারেন ভাই দোয়া করবেন। আমাকে সহায়তা করবে একমাত্র আল্লাহপাক। আমি মহান আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করি না। আমি জনগণের জন্য কাজ করি। আপনারা জানেন জনগণ আমাকে ভালবাসেন। জনগণের ভালবাসাতেই আমি টিকে আছি। বঙ্গবন্ধু’র কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নারায়ণগঞ্জবাসীর স্বার্থে আমি যা চাই তাই দিয়ে যাচ্ছে। এত উন্নয়ন নারায়ণগঞ্জে আগে কখনো হয় নাই। আমার মূল শক্তিই জনগণ।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, শহরের রাজনৈতিক মন্ডলে যখন ঐক্যের ঢংকা বেঝে উঠতে যাচ্ছিল তখনি একটি পক্ষ অযথা ঢিল ছুঁড়ে না নষ্ট করে দিতে চাইলো। সম্ভবত এসব বিষয়ও তাদের মধ্যে হয়ে থাকতে পারে। ঐক্যের কথা বলেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এমপি সেলিম ওসমান। তিনি আবার এও আশঙ্কা করেছিলেন ঐক্যের ডাক দিলে কে বা কারা যেনো তাঁর পাঞ্জাবি ধরে টান মারে। কারো আঁচল টানে ! সেলিম ওসমানের কথার রেশ না কাটতেই তাঁর পাঞ্জাবি ধরে টান মারা হলো। কে টান মারলো-তা বন্ধু ও বিয়াই মশাইয়ের সবাই জানেন। কেউ নাম বলেন নি। তবে জিউস পুকুর ইস্যুর জন্য শামীম ওসমানকে দোষারোপ করেছেন মেয়র আইভী।

শহরের দেওভোগের জিউস পুকুর সহ লক্ষ্মীনারায়ণ জিউর মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের অভিযোগ এনে যে মানববন্ধন, প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে সেটা নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানের নির্দেশে হয়েছে দাবী করেছেন সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। ১১ নভেম্বর বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন শেষে ডা. সেলিনা হায়াত আইভী তার পরিবার স্বজনদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি জমা দেন জেলার সংখ্যালঘু সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। মানববন্ধনে বক্তব্য ও প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া স্মারকলিপিতে এ ঘটনায় আইভী ও তার পরিবারকে পুরোপুরি দোষারোপ করা হয়।

সেখানে কেন্দ্র থেকে আসা বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কমিটির সভাপতি নিম চন্দ্র ভৌমিক ও সাধারণ সম্পাদক নির্মল চ্যাটার্জী কেউ সরাসরি মেয়র আইভীর নাম উচ্চারণ করেনি। তবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন দুইজন হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা যাদের একজন খোকন সাহা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও অপরজন চন্দন শীল সহ সভাপতি। এ দুইজনই এমপি শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠজন।

এর আগে শামীম ওসমানের বিয়াই ফয়েজউদ্দিন আহমেদ লাভলু যিনি বাংলাদেশ মানবাধিকার কাউন্সিল নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি বলেন, এমপি ও মেয়র এক টেবিলে বসার ব্যাপারে মাঝখানে একটি পক্ষ আছে যারা চায়না এক টেবিলে বসুক। যদি তারা এক টেবিলে বসে পরে ওনাদের (তৃতীয় পক্ষ বা মধ্যভোগীদের) তো কোন কাজ থাকেনা। যেকারণে ওনারা এক টেবিলে বসতে দেয়না। শহরের রাজনীতির গতিবিধির খবর রাখেন এমন কয়েকজন জানান, ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ লাভলু কথাটি এমনি এমনি বলেন নি। তিনি ওসমান পরিবারের অনেক খবরই রাখেন। তাঁর কথার একটা বিশেষ মূল্যায়ন হয় রাজনৈতিক মহলে।

পর্যবেক্ষক মহলের মতে, নগরমাতা ডাঃ সেলিনা হায়াৎ আইভী ও ওসমান পরিবারের মধ্যে ঐক্য হোক এমনটা চায় না পরগাছা টাইপের কিছু পার্শ্ব চরিত্রের রাজনৈতিক নেতা। নামে নেতা হলেও তাদের মূল্যায়নটা বরাবরই হয় দালাল হিসেবে। ঐক্য হলেই তাদের ধান্দাবাজি ফুরোবে। নাম ধাম মুছে যাবে। স্যুটেড বুটেড কিছু চিড়িয়া হারিয়ে যাবে রাজনীতির আকাশ থেকে। এই দুষ্ট নক্ষত্রের দলই কায়মনো বাক্যে কামনা করে ঐক্যটা যেন না হয়। এবার প্রাচ্যেরডান্ডি নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ব্লক কেন্দ্রিক রাজনৈতিক চর্চার আগল ভেঙ্গে ঐক্যের বাণী প্রচার করে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থন হলেন ওসমান পরিবারের সন্তান এমপি সেলিম ওসমান। এই মহানগরীর প্রধান প্রধান সমস্যা সমাধানে কিকি অন্তরায় রয়েছে এবং উন্নয়নে কিভাবে সকলের বলিষ্ঠ ভূমিকাথাকবে- সে কথাই বেশ দায়িত্ব নিয়েই বলেছেন ঐক্যের সাধক সেলিম ওসমান। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ব্যবসায়ী নেতা সেলিম ওসমানের আহবানে খোদ সিটির মেয়র সাড়া দিয়েছেন। আপন বৈশিষ্টে অনঢ় থাকার নজির যাঁর পাথরের মতই দৃঢ়- সেই নগরমাতা ডাঃ আইভী ও ঐক্য চাইছেন। তিনি বরাবরই তা চেয়ে আসছিলেন। কিন্তু পারছিলেন না। না পারার কারণগুলো নগরবাসীর জানা। তিনি আর অতীতে ফিরতে চান না। সুন্দর আগামীকেই স্বাগত জানাতে তৈরী।

সবশেষ ৮ নভেম্বর রাতে ফতুল্লার উইজডম এটায়ার্সে নিজ নির্বাচনী আসনের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সেলিম ওসমান বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে যতটুকু উন্নয়ন হওয়ার প্রয়োজন ছিল সেটা হয়নি। এ শহরে ময়লার রাজনীতি হয়। হকার নিয়ে রাজনীতি হয়। যানজট নিয়ে রাজনীতি হয়। তাই আমাদের এখন বসতে হবে। আমি আগাতে গেলে পাঞ্জাবী ধরে টান দেওয়া হবে। কারো আঁচল টান দিয়ে ধরবে।

২২ অক্টোবর এক সভায় সেলিম ওসমান বলেন, ইতোমধ্যে আমি সম্মানিত মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর সঙ্গে আমি কথা বলেছি। মেয়র মহোদয়কে আহবান করেছি আমরা এক টেবিলে বসার জন্য। মুরুব্বিদেরও বলেছি। প্রয়োজনে আমরা দুই ভাই বসবো। করোনা আমাদের অনেক শিক্ষা দিয়েছে। আমাদের অনেকেই মারা গেছেন। এখন আমরা দ্রুত চেষ্টা করবো নারায়ণগঞ্জের মানুষের সুখ শান্তির জন্য একটেবিলে বসার জন্য। কারণ আমরা অনেক ঝগড়া করেছি, অনেক গালমন্দ করেছি। আমরা জানি না এর পরে আমরা কাকে আনবো। এমনো হতে পারে তাঁর ভালো কাজের জন্য তাকে আমরা অনুরোধ করবো আবারো মেয়র হওয়ার চেষ্টা করো। কারণ এত লং টাইম একটা চেয়ারে বসে অনেক কিছু শিখতে পারে।

এর আগেও বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামীলীগ নেতা ইব্রাহিম চেঙ্গিস নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষ্যৎ করেছেন।
এসময় তিনি স্থানীয় একটি মসজিদের উন্নয়নে মেয়র আইভীর প্রতি আহবান জানান। যার প্রেক্ষিতে মেয়র আইভী সব ধরনের সহযোগিতা সহ দ্রুত মসজিদ নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

১৯ অক্টোবর দুপুরে শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকায় সিটি করপোরেশনের নগর ভবনে মেয়র কার্যলয়ে গিয়ে তিনি এ সাক্ষাৎ করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ‘ইব্রাহিম চেঙ্গিস মেয়র আইভীকে ছোট বোন হিসেবে সম্মান করেন। একে অপরের কুশল বিনিময় করেন। পরে মেয়র আইভী চা খাওয়ার জন্যও অনুরোধ করেন। একই সঙ্গে মেয়র খেলাধুলার বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন।’

এর আগে গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে গণসংযোগ করতে ইসদাইর এলাকায় মেয়র আইভীর সঙ্গে ইব্রাহিম চেঙ্গিসের সাক্ষাৎ হয়। সেই সময়ও মেয়র আইভীকে ছোট বোন হিসেবে আখ্যা দিয়ে দোয়া করেন ইব্রাহিম চেঙ্গিস। নির্বাচনের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর আবারও দুইজনকে এক সঙ্গে দেখা যায়।

প্রসঙ্গত আওয়ামীলীগ নেতা ইব্রাহিম চেঙ্গিস নারায়ণগঞ্জ জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এছাড়াও তিনি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি একেএম শামীম ওসমানের অন্যতম সহযোগী। বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সভা সমাবেশে যাকে শামীম ওসমানের সঙ্গে এক মঞ্চে দেখা যায়। তবে শামীম ওসমানের সঙ্গে মেয়র আইভী রাজনৈতিক মত পার্থক্য রয়েছে। এ নিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে একাধিকবার জোরালো বক্তব্য দিতেও দেখা যায়।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও