দম থাকতে লড়াই চলবে

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৪১ পিএম, ১৫ নভেম্বর ২০২০ রবিবার

দম থাকতে লড়াই চলবে

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়ন সহ আরো কয়েকটি এলাকার ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণেই ‘থামিয়ে’ দেওয়ার চেষ্টা করছেন দাবী করেছেন ওইসব আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। তিনি বলেছেন, আমাকে বিভিন্ন সময়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ তৈমূর আলম খন্দকারের গায়ে রক্ত আর দম থাকতে লড়াই চলবেই।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তৈমূর বলেন, ‘আমি সত্যের উপর দাঁড়িয়ে আছি। এ থেকে এক চুলও নড়বো না। একমাত্র মৃত্যুই পারে আমাকে এ আন্দোলন থেকে সরিয়ে নিতে। রূপগঞ্জ সহ অনেক বাঘা বাঘা নেতারা এসব ভূমিদস্যুদের কাছে জিম্মি। তারা সকলে ম্যানেজ। কিন্তু একমাত্র তৈমূর আলম খন্দকারই সচল আছে এবং থাকবে। আমি রূপগঞ্জবাসীর সঙ্গেই থাকবো।’

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সংসদ নির্বাচনের পরে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই তৈমূর আলম খন্দকারের নাম উচ্চারণ করেন।

একাদশ জাতীয় সংসংদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসন থেকে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। কিন্তু তাকে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়নি। প্রাথমিক বাছাইপর্বে রাখলেও চূড়ান্ত পর্যারে গিয়ে তৈমূর আলম খন্দকারকে রাখা হয়নি। ফলে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অনেক নেতাকর্মীদের মাঝেই ক্ষোভ রয়েছে।

২০১৯ সালের ১০ জানুয়ারী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যারা নমিনেশন নিয়ে ট্রেড (বাণিজ্য) করেছে, অকশন (নিলাম) করেছে, তারা কী করে আশা করে যে নির্বাচনী জয়ী হবে। সিলেটে ইনাম আহমেদ চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি, যে বেশি টাকা দিয়েছে তাকেই নমিনেশন দেওয়া হয়েছে। ইনাম আহমেদ চৌধুরীকে নমিনেশন দিলে তিনি হয়তো জিততে পারতেন। ধামরাইয়ে আতাউর রহমান খানের ছেলে জিয়াউর রহমান খান নমিনেশন পাবে বলেই ধারণা ছিল। তিনি হয়তো জিততেনও কিন্তু তাকে নমিনেশন দেওয়া হয়নি, নারায়ণগঞ্জে তৈমুর আলম খন্দকারকে নমিনেশন দেওয়া হয়নি- এরকম আরও অনেক জায়গায় তারা যে বেশি টাকা দিয়েছে তাকে নমিনেশন দিয়েছে।’

এর আগে ৩১ ডিসেম্বর গণভবনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেখতে আসা দেশি বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং বিদেশি গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে শেখ হাসিনা বিএনপির প্রার্থীতা বাছাই প্রসঙ্গে তৈমূর আলম খন্দকারের নাম উচ্চারণ করে নিজের মতামত জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন বলেন, ‘যে বেশি টাকা দিতে পেরেছে সেই মনোনয়ন পেয়েছে এবং এ কারণে তারা তাদের অনেক জয়ী হওয়ার যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়নি। এমন অনেকেই মনোনয়ন পাননি। ‘আমি উদাহরণ দিয়ে দেখাতে পারি, ঢাকার ধামরাইয়ে জিয়াউর রহমান তাদের যোগ্য প্রার্থী ছিলেন, কিন্তু তিনি মনোনয়ন পাননি। নারায়ণগঞ্জের তৈমূর আলম তিনিও তাদের বিজয়ী প্রার্থী হতে পারতেন। তাঁকেও মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। সিলেটে তাদের বিজয়ী হওয়ার মতো নেতা ইনাম আহমদ চৌধুরীকেও তারা মনোনয়ন দেয়নি।’

জানা গেছে, চারবার নির্বাচন করতে গিয়ে ব্যর্থ হলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকার। কখনো নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে কোরবানি হয়েছে এই বর্ষীয়ান নেতা। আবার কখনো মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন।

২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে তৈমূর আলম খন্দকারকে বিএনপি থেকে সমর্থন দেয়া হয়েছিল। নির্বাচনী মাঠে রাত দিন পরিশ্রম করে জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। কিন্তু ভোটের মাত্র ৭ ঘণ্টা আগে তাকে বসিয়ে দেওয়া হয়। ওই সময়ে অনেকেরই মন্তব্য ছিল অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে গোসল ছাড়াই কোরবানী দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০০৭ সালে ওয়ান এলেভেনের পর নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন পান তৈমূর আলম খন্দকার। সেবার কেন্দ্রীয় ভাবে বিএনপি জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় তৈমূর আলম খন্দকার নিবার্চন থেকে সরে দাঁড়ান।
এদিকে ১৪ নভেম্বর শনিবার নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের সাদাছড়ি বিতরণের সময়ে সুপ্রীর্ম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের কার্যকরী সদস্য ব্যারিস্টার মার-ই-য়াম খন্দকার বলেন, একটি কুচক্রী মহল তৈমূর আলম খন্দকারের ভাল কর্মকে খারাপ ভাবে তুলে ধরছে। এজন্য সকলকে সর্তক থাকার আহবান জানাই।

এর আগে কায়েতপাড়া ইউনিয়নে জোরপূর্বকভাবে কৃষকের তিন ফসলি জমি বালি ভরাট করার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অনশন ধর্মঘটে বসার হুশিয়ারী দেন তৈমূর আলম খন্দকার।

৯ নভেম্বর রাজধানীর ঢাকা প্রেসক্লাবে সামনে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নে জোরপূর্বকভাবে কৃষকের তিন ফসলি জমি বালি ভরাট করার প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে তারা এই হুশিয়ারী দেন।

তৈমূরের দাবী, ওই হুশিয়ারীর পরেই তার বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে ষড়যন্ত্র। তাকে একভাবে না পেরে অন্যভাবে হেনস্থার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এভাবে আমাকে ঠেকানো যাবে না। প্রশাসনও এ ক্ষেত্রে নিরব হয়ে আছে।

অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী বার বার বলছেন তিন ফসলি জমি ভরাট করা যাবে না। জলাশয় ভরাট করা যাবে না। পুকুল খাল বিল ভরাট করা যাবে না। কিন্তু ভূমিদস্যুরা ইস্ট ওয়েস্ট ডেপলপমেন্ট কোম্পানীর আবাসন প্রকল্প করার নামে কায়েতপাড়া সহ বিভিন্ন এলাকার তিন ফসলি জমি ভরাট করে ফেলেছে। সেকানের জমিগুলো খুবই উর্বর। তারা কৃষকের কাছ থেকে জমি কিনে নাই।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের কাছে দায়িত্ব দেয়া আছে এই জমিগুলো রক্ষা করার জন্য। জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করবো আপনি জমিগুলো রক্ষা করেন। কৃষকদের এই জমি না কিনেই ভূমিদুস্যরা দখল করছে। কৃষকদের পক্ষে কেউ দাঁড়াচ্ছে না। তাই এলাকার কৃষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন স্মারকলিপি দেয়ার জন্য। পরবর্তী সময়ে স্মারকলিপি অনুযায়ী কাজ না হলে আমরা দাবী আদায়ের জন্য গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সাংবিধানিক পদ্ধতি যা যা করার দরকার আমরা করবো।

প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ তৈমূর বলেন, আপনি সবসময় বলেন ফসলি জমি ভরাট করা যাবে না। তারপরেও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি। প্রশাসন এ ব্যাপারে কোনো ভূমিকা পালন করে না। প্রশাসনকে নির্দেশ দেন যেন ভূমিদুস্যরা জমি দখল করতে না পারে। বৃটিশরা যেভাবে দালাল সৃষ্টি করেছে তেমনিভাবে ভূমিদুস্যরা দালাল সৃষ্টি করেছে। দালালদের অত্যাচারে এলাকাবাসী তটস্ত্র।

এর আগে ১৯ অক্টোবর রূপগঞ্জের রূপসী খন্দকার বাড়িতে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় মঞ্চ থেকে টেনে হিচড়ে মাটিতে ফেলা হয় তৈমূর আলম খন্দকার, তার মেয়ে মার-ই-য়াম খন্দকার, নাগরিক ঐক্যের নেতা মাহমুদুর মান্না প্রমুখদের। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হয়। ভাঙচুর করা হয় অনুষ্ঠানের ওই মঞ্চে থাকা চেয়ার টেবিল ও সাউন্ড সিস্টেম।

তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, রূপগঞ্জে এখন বালুর চাষ হচ্ছে। মাছ ফসলের চাষ হয় না। বৃটিশরা যেভাবে দালাল সৃষ্টি করেছে তেমনিভাবে ভূমিদস্যুরা দালাল সৃষ্টি করেছে। দালালদের অত্যাচারে এলাকাবাসী তটস্ত্র। সাংবাদিক ছাড়া আমাদের আর সহযোগিতা করার কেউ নেই। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে এলাকাবাসীকে হয়রানি করে।

১৯৫৩ সালের ১৯ অক্টোবর জন্ম নেন শাহআলম খন্দকার ও রোকেয়া খন্দকারের পরিবারে জন্ম তৈমূরের। শৈশব কেটেছে নারায়ণগঞ্জ ও রূপসীতে। এ কারণেই রূপগঞ্জের প্রতি একটু বেশী টান তৈমূরের।

নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল থেকে ১৯৬৮ সালে মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় ফাস্ট ক্লাস পান তৈমুর। ৬৯ সালে তোলারাম কলেজে ডিগ্রীতে ভর্তি হয়। এ কলেজে পড়াশোনা কালে সংগঠক হিসেবে নিজেকে জাহির করেন।
মাসদাইরে প্রভাতী কল্যাণ সংস্থা, মুসলিম একাডেমী করার পাশাপাশি দিনমজুরদের বিভিন্ন সংগঠনও শুরু করেন। ঠেলাগাড়ি, ভ্যান গাড়ি, রিকশা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পক্ষে কাজ শুরু করেন তৈমুর। কলেজ জীবনেই বিলুপ্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান আলী আহাম্মদ চুনকার সঙ্গে ঘনিষ্টতা হয় তৈমুরের। ওই সময়ে চুনকার আশেক হিসেবেই পরিচিতি পান তৈমুর।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পরীক্ষা পিছিয়ে যায়। ৭৪ সালে ডিগ্রী পরীক্ষায় সেকেন্ড ক্লাস পায়। পরে তৈমুর ভর্তি হন নারায়ণগঞ্জ ল কলেজে। এ কলেজ থেকে ৭৬ সালে ল পাশ করে ৭৮ সালে নারায়ণগঞ্জ আইনজীবি সমিতিতে সম্পৃক্ত হন। ১৯৮২ সালে ঢাকার মগবাজার এলাকার হালিমা ফারজানার সঙ্গে বিয়ে হয় তৈমুর আলম খন্দকারের। ৮৪ সালে তৈমুর চলে যান ইংল্যান্ডে। সেখানে ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে ব্যারিস্টার পড়াশোনা করে ৩পার্টের মধ্যে পার্ট ১ ও ২ শেষ করেন। ৮৫ সালে দাদা তোরাব আলী মাস্টার মারা গেলে তৈমুর দেশে ফিরে আসলে আর বিলেতে যাওয়া হয়নি।
শহরের শায়েস্তা খান সড়কে তৈমুরের চেম্বার থাকলেও শামীম ওসমানের সঙ্গে বিরোধের জের ধরে এক পর্যায়ে ১৯৯৭ সালে নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে ঢাকায় থেকে হাইকোর্টে আইন পেশা চালিয়ে যান তিনি। ওই সময়ে একটি রাজনৈতিক মামলায় হাইকোট থেকে গ্রেপ্তার হয়ে রাজনীতিতে আলোচনায় ওঠে আসেন।

১৯৯৯ সালে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির একটি মিছিলে গুলি করে আওয়ামী লীগের ক্যাডার বাহিনী। ওই মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন তিনি। ঢাকায় অবস্থান করা কালীন ২০০১ সালের ১৬ জুন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলা ঘটনায় তৈমুর আলমকে আসামী করা হয়।

২০০১ সালের নির্বাচনে দলীয় সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি-জামাত জোট সরকার তৈমুর আলম খন্দকারকে বিআরটিসির চেয়ারম্যান বানায়।

২০০৩ সালে তৈমুরকে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ২০০৭ সালে ওয়ান এলেভেনের পর বিএনপির বর্তমান সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হলে প্রথমবারের মত তার আইনজীবি হিসেবে আইনী লড়াই চালিয়েযান তৈমুর। পরে ওই বছরের ১৮ এপ্রিল যৌথবাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে ৮টি মামলা করে যার মধ্যে একটি মামলায় ১২ বছরের জেল হয়। ২০০৯ সালের মে মাসে মুক্তি পান তৈমুর। ওই বছরের জুন মাসে তৈমুরকে আহবায়ক করে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়। বছরের শেষের দিকে ২৫ নভেম্বর সম্মেলনের মাধ্যমে তৈমুর হন জেলা বিএনপির সভাপতি। একই সঙ্গে তাকে কেন্দ্রীয় কমিটির সহ আইন বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা ১৮দলীয় ঐক্য জোটের আহবায়ক করা হয়। ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হয়েছিলেন তৈমুর। বিএনপি প্রথম দিকে তাকে সমর্থন দিলেও ভোটের মাত্র ৭ ঘণ্টা আগে দলীয় চেয়ারপারসনের নির্দেশে তিনি নির্বাচন থেকে সরে আসেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও