বাড়া ভাতে ছাই

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৫৭ পিএম, ১৭ নভেম্বর ২০২০ মঙ্গলবার

বাড়া ভাতে ছাই

নারায়ণগঞ্জের ঐত্যিহবাহী ওসমান পরিবারের এমপি সেলিম ওসমানের বাড়া ভাতে কার্যত ছাই দেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক টেবিলে বসার জন্য তিনি বার বার সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে অনুরোধ করে আসছিলেন। তিনি এও বলেন, আইভীর সঙ্গে প্রায়শই নানা বিষয়ে অনেক সময় ধরে কথা হয় মোবাইলে। আশা করছি দ্রুত দুইজন এক টেবিলে বসবো দীর্ঘ সময় ধরে। বিপরীতে সম্প্রতি একাধিক অনুষ্ঠানেও শহরের চাষাঢ়া হতে খানপুর পর্যন্ত গঞ্জে আলী খালের কাজ পরিদর্শনের সময়ে সেলিম ওসমানের প্রশংসা করেছিলেন আইভী।

এ দুইজনের বক্তব্যে যখন শীতলতা তখনই সেলিম ওসমানের সেই বাড়া ভাতে ছাই দেওয়ার শামিল হয়েছে গত ১১ নভেম্বর একটি মানববন্ধনের ঘটনা।

সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর ঘনিষ্ঠ একজন বলেন, ‘সেলিম ওসমান ও আইভীর মধ্যে নানা বিষয়ে কথা হয়। সেলিম ওসমান চাচ্ছিলেন আইভীর সঙ্গে এক টেবিলে বসতে। তাতে শহরের চিত্র কিছুটা পরিবর্তন হবে মনে করছেন তারা। দুই বছর আগে সিটি করপোরশেনের একটি বাজেট অনুষ্ঠানে সেলিম ওসমান হাজির হওয়ার পর নিতাইগঞ্জ ট্রাক স্ট্যান্ডের সমস্যা দূর হয়। এবার আরো কিছু প্রস্তাবনা ছিল। সেগুলো নিয়ে সেলিম ওসমান কাজ করে যাচ্ছিলেন। তিনি মেয়রকে ফোন করে কথাও বলেন। কিন্তু এবার বোধহয় সে প্রক্রিয়াটাও থামানোর চেষ্টা হয়েছে। কারণ আইভী জিউস পুকুরের সঙ্গে সম্পৃক্ত না। কিন্তু তাকে জড়ানো হয়েছে। বিষয়টা তিনি ভালোভাবে নেয়নি। ফলে গণমাধ্যম যে বলছে দুইজন বসবেন, মাহেন্দ্রক্ষণ। সেটা বোধহয় সহসাই আসছে না।’

২২ অক্টোবর নতুন পালপাড়ায় পুনরায় নির্মিত সার্বজনীন পূজা মন্দিরের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেলিম ওসমান বলেন, ইতোমধ্যে আমি সম্মানিত মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর সঙ্গে আমি কথা বলেছি। মেয়র মহোদয়কে আহবান করেছি আমরা এক টেবিলে বসার জন্য। মুরুব্বিদেরও বলেছি। প্রয়োজনে আমরা দুই ভাই বসবো। করোনা আমাদের অনেক শিক্ষা দিয়েছে। আমাদের অনেকেই মারা গেছেন। এখন আমরা দ্রুত চেষ্টা করবো নারায়ণগঞ্জের মানুষের সুখ শান্তির জন্য একটেবিলে বসার জন্য। কারণ আমরা অনেক ঝগড়া করেছি, অনেক গালমন্দ করেছি। আমরা জানি না এর পরে আমরা কাকে আনবো। এমনো হতে পারে তাঁর ভালো কাজের জন্য তাকে আমরা অনুরোধ করবো আবারো মেয়র হওয়ার চেষ্টা করো। কারণ এত লং টাইম একটা চেয়ারে বসে অনেক কিছু শিখতে পারে।

এদিকে ১১ নভেম্বর আইভী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে দেওভোগের জিউস পুকুর সহ লক্ষীনারায়ণগ জিউর মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন জেলার সংখ্যালঘু সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।

জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ এবং জেলা ও মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে এ স্মারকলিপি জমা দেয়া হয়।

খোকন সাহা বলেন, স্মারকলিপি অনুযায়ী মেয়র আইভীর আত্মীয়স্বজন এই জায়গা দখল করেছেন এই বিষয়টা আমি নেত্রীর (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার) কাছে তুলে ধরবো। আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, যারা হিন্দু সম্পত্তি দখল করে আমার নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা অবশ্যই নমিনেশন দিবেনা। এটা অত্যন্ত পরিষ্কার। জননেত্রী শেখ হাসিনা এদেশের সংখ্যালঘুদের রক্ষাকবজ। তিনি আবশ্যই আপনাদের বিষয় বিবেচনা করবেন। হুমকি ধামকি দিবেন না। যদি হত্যা করতে চান তাহলে আমাকে হত্যা করেন। আমি শেষ পর্যন্ত জিউস পুকুর নিয়ে কথা বলবো। জিউস পুকুর সহ সব জায়গা উদ্ধার করবো।

চন্দন শীল বলেন, শুধু দুঃখের সাথে বলতে চাই, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তাদেরকে আমরাই ভোট দিয়ে মেয়রের চেয়ারে বসাতে আপনাদের অনুরোধ করেছি। একারণে দুঃখ প্রকাশ করছি। কিন্তু দখলের নামে কাউকে হুমকি দিবেন হত্যার হুমকি দিবেন এটা হতে পারেনা।

এর প্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিন হায়াৎ আইভী বলেন, ‘জিউস পুকুরের সঙ্গে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। একজন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর কোন ধরনের সংশ্লিষ্টতা এখানে নাই। আমার বাবা আলী আহম্মদ চুনকারও ছিল না। এ জায়গা যদি ক্রয় করে থাকে আমার নানা মাহাতাব উদ্দিন সাহেব। ওনার ক্রয়কৃত সম্পত্তি থেকে যদি তার ছেলে মেয়েরা ওয়ারিশ হিসেবে প্রাপ্ত হয়ে থাকে তাহলে কি অপরাধ আমার। এটা কখন কিনেছে মাহাতাব সাহেব এবং ও জামির আহমেদ? এটা খতিয়ে দেখা উচিত। যদি এটা ১৯৮০ বা ১৯৮১ সালে ক্রয় করে থাকে তাহলে আজকে ৩৯ বছর পর এসে কেন এ প্রশ্ন করা হচ্ছে। তাহলে কোথায় ছিল সমাজপতিরা, হিন্দু সম্পত্তি রক্ষার্থে?


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও