কেন্দ্রে স্থান পাওয়া নারায়ণগঞ্জের হেফাজত নেতারা হত্যার আসামী

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:০৯ পিএম, ১৭ নভেম্বর ২০২০ মঙ্গলবার

কেন্দ্রে স্থান পাওয়া নারায়ণগঞ্জের হেফাজত নেতারা হত্যার আসামী

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারায়ণগঞ্জের যে চারজন স্থান পেয়েছে তাদের তিনজনই একটি হত্যা মামলার আসামী। আর অপরজনের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান পাকিস্তানী জঙ্গী গোষ্ঠীর সমর্থক উল্লেখ করেছিলেন।

১৫ নভেম্বর চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসায় হেফাজতে ইসলামের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কমিটিতে আমির নির্বাচিত হয়েছেন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন ঢাকার জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও হেফাজতের ঢাকা মহানগর শাখার আমির নূর হোসাইন কাসেমী।

ওই কমিটিতে স্থান পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জের চার। তাঁদের মধ্যে জেলা হেফাজতের আমীর মাওলানা আবদুল আউয়াল কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমীর, ফেরদাউসুর রহমান সহ প্রচার সম্পাদক ও মুফতি বশিরউল্লাহ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া গত সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ২০ দলীয় জোটে নির্বাচন করা মনির হোসাইন কাশেমী কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ সম্পাদক হয়েছেন। জানা গেছে, ফেরদাউস, মনির কাশেমী ও বশিরউল্লাহ তিনজনই জমিয়তে ওলামা ইসলামের নেতা।

এদিকে ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের নতুন যে কমিটি গঠন করা হয়েছে, তার নেতাদের বড় অংশই বিএনপি-জামায়াত জোটের শরিক দলের নেতা। যেসব নেতা বিএনপি জামায়াত জোট ছেড়ে গেছেন, বা জামায়াতের কট্টর সমালোচক, নতুন কমিটিতে তাদের বাদ দেয়া হয়েছে জানা গেছে।

রোববারের জাতীয় সম্মেলনের আগের দিন প্রয়াত আমির শাহ আহমেদ শফীর অনুসারীরা সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, হেফাজতকে বিএনপি-জামায়াত জোটের দখলে নেয়ার চেষ্টা চলছে।

২০১৩ সালের ৫মে ঢাকাতে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ ও রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিবর্ষণের পরদিন ৬মে উত্তপ্ত ছিল রাজধানীর পাশের নারায়ণগঞ্জ জেলা। এদিন ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের শিমরাইলে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে হেফাজতে ইসলাম, স্থানীয় লোকজন ও হেফাজত লেবাসে থাকা জামায়াত শিবিরের ক্যাডারদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে টানা সাড়ে ৫ঘণ্টার ব্যাপক সংঘর্ষে ১৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর দুই সদস্য ও পুলিশের ২জন সদস্য ছিল।

ওইসব ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ ও সোনারগাঁয়ে ১৭টি মামলা হয়েছিল। ১৭টি মামলার মধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জে ১১টি ও সোনারগাঁও থানায় ৬টি মামলা হয়। এখন পর্যন্ত ১৫টি মামলার চার্জশীট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৬ মে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলে হেফাজত কর্মীদের হামলায় পুলিশ কনস্টেবল ফিরোজ ও জাকারিয়া নিহত হওয়ার ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় ২০১৪ সালের ১০ ডিসেম্বর ৭৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয় পুলিশ। মামলাটি এখনো বিচারাধীন। মামলায় ৮০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬ জনকে অব্যাহতি দিয়ে ৭৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ৬ জনের মধ্যে তিনজন মারা গেছেন। ২ জন ঘটনার সময় জেলে ছিল ও একজন দেশের বাইরে।

ওই মামলায় আবদুল আউয়াল, ফেরদাউসুর রহমান, বশিরউল্লাহ চার্জশীটভুক্ত।

এছাড়া একই ঘটনায় বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) দুই সদস্য হত্যা মামলায় ৫০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিটেও উপরোক্ত তিনজন রয়েছেন। পিলখানার ৪৮ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ান সুবেদার আলী হোসেন বাদী হয়ে ২০১৩ সালের ৬ মে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অজ্ঞাত আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।

শামীম ওসমানের বক্তব্য

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বানচাল করতে আইএসআই, জামায়াত, শিবির, জঙ্গি ও বিএনপি সংগঠিতভাবে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কিছু একটা ঘটাবে বলে মন্তব্য করেছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শামীম ওসমান। ২০১৮ সালের ৩০ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচনের কয়েকদিন আগে চাষাঢ়ার রাইফেলস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

শামীম ওসমান বলেন, আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী তারেক জিয়ার নেতৃত্বে পাকিস্তানি আইএসআই নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের নির্বাচন বন্ধ করার পাঁয়তারা করছে। নারায়ণগঞ্জ-৪ তার একটি অংশ। আমাদের পাওয়া তথ্য মতে, পাকিস্তান অ্যাম্বাসি কিংবা পাকিস্তানের আইএসআইয়ের লোকজন নারায়ণগঞ্জে গোপন বৈঠক করছে। তারা কোমল মতি মাদরাসার ছাত্রদের ব্যবহার করে বড় একটি শক্তি তৈরি করে নির্বাচন বন্ধ করার চেষ্টা করছে।

তিনি আরও বলেন, যারা ২১আগস্ট শেখ হাসিনাকে যারা মারার চেষ্টা করেছিল সেই মহানায়করা আজ লন্ডনে বসে নাটাই ঘুরাচ্ছে। বাংলাদেশে তাদের হয়ে কাজ করছে জামায়াত, শিবির, জঙ্গি ও পাকিস্তানের আইএসআই। এখানে পার্টিকুলার কোনো টার্গেট থাকবে না। টার্গেট থাকবে প্রার্থীরা, সাধারণ জনগণ। নারায়ণগঞ্জে এখন পর্যন্ত ধাক্কাধাক্কি তো দূরের কথা, একটা পোস্টারও কেউ ছিঁড়ে নাই ।

ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মনির হোসাইন কাশেমী সম্পর্কে শামীম ওসমান বলেন, নারায়ণগঞ্জে আমার বিরুদ্ধে ধানের শীষের যে প্রার্থী আছেন কাসেমী সাহেব তিনি বিনা করণে অভিযোগ তুলেছেন। আমার ক্যাম্প পোড়ানো হয়েছে। এটা একটা পার্ট অফ এ কন্সপাইরেসি (ষড়যন্ত্র)। দামি দামি গাড়ির ভেতরে অনেকে মিটিং করছে। বিদেশিরা মিটিং করছে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও