ডালিয়াকে ডুবালো খোকা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:০৩ পিএম, ২১ নভেম্বর ২০২০ শনিবার

ডালিয়াকে ডুবালো খোকা

আসন্ন সোনারগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকার পত্মী ডালিয়া লিয়াকত নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় মাঠে নেমেছে। তবে রাজনীতিতে হাতে খড়ি না থাকার ফলে এমপি খোকার উপর নির্ভর করতে হচ্ছে ডালিয়া লিয়াকতকে। এদিকে এমপি খোকার বিরুদ্ধে জি আর ইনিস্টিটিউশনের মূল ফটকের সামনে থাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের নাম ফলক ভেঙে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর ধারাবাহিকতায় আওয়ামীলীগ নেতারা একে একে ফুঁসে উঠছে। খোকার বিরুদ্ধে কড়া মন্তব্য সহ সমালোচনা করে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে। এতে করে ডালিয়া লিয়াকতের পৌরসভা নির্বাচনের আসল খুঁটি নড়ে যাচ্ছে। তাছাড়া খোকাকে দিয়ে ডালিয়া লিয়াকতকে সবাই চিনে জানে। তার ব্যক্তিগত কোন রাজনীতিক অবস্থান নেই। সুতরাং খোকার বিতর্কিত কর্মকা-ের ফলে কার্যত অর্থে নির্বাচনের আগেই ডালিয়া লিয়াকতের তরী ডুবছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছে, এমপি খোকাকে আসন্ন নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির সাথে লড়াইয়ের আগে নিজের চেয়ার বাঁচানোর লড়াইয়ে টিকে থাকতে হবে। আর এমপির চেয়ার না থাকলে সোনারগাঁয়ে তার অস্তিত্ব বিলিন হয়ে যাবে। তার উপরে পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এমপি খোকার সাথে সাবেক এমপি কায়সার হাসনাত ও সিআইপি মামুন ভূইয়ার বাকযুদ্ধ দেখা গেছে। সেই সাথে নতুন করে এমপি খোকার এই বিতর্কিত কর্মকান্ডের ফলে আওয়ামীলীগ নেতারা আরো ফুঁসে উঠেছে। সব মিলিয়ে ডালিয়া লিয়াকতের তরী ডুবার প্রেক্ষপট তৈরি হয়ে গেছে। কারণ এমপি খোকার খুটি নড়ে গেলেই ডুবে যাবে ডালিয়ার তরী।

জানা যায়, গত ১৭ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) আসনের জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতিকের সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকার নির্দেশে সোনারগাঁ জি আর ইনস্টিটিউশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল ফটকে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের নামফলক ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, জেলা পরিষদের ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে জিআর ইন্সটিটিউটের স্কুলের গেইট ও দেয়াল নির্মাণের জন্য। উদ্বোধনে জেলা পরিষদের নাম ফলক থাকবে এটাই স্বাভাবিক। সব উপজেলায় সেটি হচ্ছে। সে জাতীয় পার্টির এমপি হয়ে যে ঔদ্ধত্ব আচরণ করেছে তার নিন্দা করছি। এই বিষয়টা আমি সর্বমহলে জানাচ্ছি।

এদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে শুক্রবার ২০ নভেম্বর ইনিস্টিটিউশনের মূল ফটকের সামনে মানববন্ধন চলাকালে মাহফুজুর রহমান কালাম বলেন, সোনারগাঁয়ের সংসদ লিয়াকত হোসেন খোকার স্ত্রী সোনারগাঁও পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের সভাপতি। অথচ তিনি সেই প্রতিষ্ঠানের বেতন মওকুফ করেনি। নির্বাচনকে সামনে রেখে খোকা এসেছিলেন সোনারগাঁও জি আর ইনস্টিটিউশন প্রতিষ্ঠানে। সেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের মাইকে ডেকে এনে বেতন মওকুফ করে দেন। আমি পৌরবাসীর উদ্দেশ্যে বলতে চাই লিয়াকত হোসেন খোকা এখানে বেতন মওকুফ করতে আসেনি। তিনি এসেছেন তার স্ত্রী কে পৌরসভার মেয়র বানাতে। যেখানে সরকার প্রজ্ঞাপন জারী করে শুধু বেতন নিতে পারবে অন্য কিছু না। আর নাম ফলক ভেঙ্গে তিনি গুডামী দেখাতে এসেছেন।

এসময় তিনি তার স্ত্রীর পোস্টারে ছবি প্রসঙ্গে বলেন, তিনি তার স্ত্রীর সমর্থনে পোস্টারে ৫ নেতার ছবি দিয়ে পোস্টার করেছেন। এখন দেখলাম সেই সেই পোস্টারে ২জন নেতার ছবি রয়েছে। আর কয়দিন পর দেখবেন কারো নাম নেই। তাই ভাল হয়ে যান। আওয়ামীলীগ ক্ষেপে গেলে সোনারগাঁয়ে আসতে পারবেন না।

১৯ নভেম্বর সকালে সোনারগাঁয়ের জি আর ইনিস্টিটিউশন স্কুল এন্ড কলেজের সামনে সাবেক এমপি কায়সার হাসনাতের নেতৃত্বে ও সোনারগাঁও পৌরসভা আওয়ামীলীগ সহ সকল সহযোগি সংগঠনের উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এমপি খোকার তীব্র সমালোচনা করা হয়।

এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে গত ১৮ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাতের নেতৃত্বে শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিল শেষে জিএম আরাফাত বলেন, আজ তিনি চেয়ারম্যান হয়ে পুরো জেলা জুড়ে উন্নয়নের কাজ করে যাচ্ছে। সেখানে তৃতীয় শ্রেণীর এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা কিভাবে আনোয়ার হোসেন সাহেবের নামফলক নিজে দাড়িয়ে থেকে মিস্ত্রি দিয়ে ভাঙ্গিয়েছে। তার এমন দু:সাহস কিভাবে পান? তিনি প্রকাশ্যে চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের কাছে ক্ষমা না চান, তাহলে জেলা জুড়ে প্রতিটি ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা মাঠে নামবে, নারায়ণগঞ্জকে অচল করে দেয়া হবে।

এছাড়া এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সেক্রেটারী আবু হাসনাত শহীদ মোহাম্মদ বাদল সহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

এছাড়া জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের নাম ফলক টোকাই খোকার মত (নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকা) পোলায় ভেঙে ফেলে; এই দুঃসাহস কোথা থেকে পেল। আওয়ামীলীগের কাধে ভর দিয়ে এই খোকা এমপি হয়েছে। নচেৎ ওর বাবার চৌদ্দ গোষ্ঠীর ক্ষমতা আছে নাকি এমপি হওয়ার। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আছে বিধায় এমপি হতে পেরেছে। ভোট দেক, ও (এমপি খোকা) ৫ হাজার ভোট পাবে কিনা সন্দেহ। আমি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।

একইভাবে এমপি খোকার তীব্র সমালোচনা করে সোনারগাঁও আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম তার বক্তব্যের এক পর্যায়ে বলেছেন, এমপি খোকা বিএনপির তাবেদার হিসেবে এখনো সোনারগাঁয়ে আছেন। বিএনপির সমস্ত লোকজনদের ইস্টেবলিষ্ট (প্রতিষ্ঠা) করার জন্য বিএনপির সমস্ত লোক জাতীয় পার্টিতে প্রবেশ করায়। আর বিএনপির লোকজন মূলত আওয়ামীলীগের উন্নয়ন দেখে খুশি হতে পারেনা। তাই তারা এটা মেনে নিতে পারেনা। সে (এমপি খোকা) বিএনপির প্রেতাত্মা হিসেবে সোনারগাঁয়ে আছে।

এখানে উল্লেখ্য যে, এই ঘটনার আগে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন ইস্যুতে সিআইপি মামুন ভূইয়ার সাথে চরম বাকযুদ্ধ দেখা গেছে। একইভাবে সাবেক এমপি কায়সার হাসনাতও এমপি খোকার সমালোচনা করেছেন। এই অবস্থায় এমপি খোকার বিতর্কিত কর্মকা- ডালিয়া লিয়াকতের পথকে আরো কঠিন করে তুলছে। কারণ ডালিয়া লিয়াকত এর আগে কখনো রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলনা। নিজস্ব কোন রাজনীতিক পরিচয় নেই। এবার প্রথম নির্বচনী মাঠে নেমেছেন। তাও আবার এমপি খোকার উপর নির্ভর করে। এর মধ্যে এমপি খোকার বির্তর্কিত কর্মকা- ডালিয়া লিয়াকতকে ডুবাচ্ছে।

এর আগে সোনারগাঁয়ের মেয়র সাদেকুরের পায়ে ধরে সালাম করে ডালিয়া লিয়াকত নির্বাচনের সমর্থন নেন। সেসময় সাদেকুর আসন্ন নির্বাচন থেকে সরে আসার এবং ডালিয়াকে সমর্থন দেয়ার কথা জানান। তাছাড়া নির্বাচনের জন্য এমপি খোকা নানা ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে বেশ পরিকল্পনা মাফিক এগোচ্ছিল সেই সময় এই বিতর্কিত কর্মকান্ড ডালিয়ার তরী ডুবাচ্ছে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও