তৈমূর কন্যা মেয়র প্রার্থী!

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:০৭ পিএম, ২১ নভেম্বর ২০২০ শনিবার

তৈমূর কন্যা মেয়র প্রার্থী!

শুরুটা অনীহায় ছিলেন। তবে স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রবল চাপ বাড়ছে। সে কারণে সিদ্ধান্ত নিতে সময় নিচ্ছেন অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। তিনি চান না তার মেয়ে এখনই রাজনীতিতে জড়ান। তবে রূপগঞ্জে আদি নিবাস থাকায় সেখানকার নাড়ির টানে বার বারই আকর্ষিত তৈমূরের চারপাশে চাপ বাড়ছে ব্যারিস্টার কন্যা মার-ই-য়ামকে মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী করতে। ফলে ধোঁয়াশা আর দোটানায় রয়েছেন তিনি।

ইতোমধ্যে তারাবো পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে শুরু হয়েছে ভেতরগত রাজনীতি। বর্তমান মেয়র হাসিনা গাজী হলেন মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর স্ত্রী। আগামীতে তিনি আবারো প্রার্থী হবেন এটা নিশ্চিত। আর তিনি প্রার্থী হলে এখানে লড়বেন না সাবেক মেয়র শফিকুল ইসলাম। বিএনপির এ নেতা চান নির্বাচন করতে তবে ভয় পান হাসিনা গাজীকে। সাবেক মেয়র মাহাবুুব খানের ছেলেও চায় মনোনয়ন। কিন্তু এখানে মূল লড়াইটা হয় মূলত আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে।

গত নির্বাচনে এখানে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন নাসিরউদ্দিন। আর শফিকুল দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র ছিলেন। নাসিরউদ্দিনের সেখানকার অভিভাবক কাজী মনিরুজ্জামান। তখন তিনি জেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। এখন রাজনীতি বিমুখ। নেই রূপগঞ্জের কোথাও। ফলে নাসির এখন দিশেহারা। তিনি কোন কূলকিনারা খুঁজে পাচ্ছেন না। এসব কারণে নাসিরও সিদ্ধান্তহীনতায়।

সামগ্রিক দিক দিয়ে তারাবোর লোকজন এখন তাঁকিয়ে তৈমূরের দিকে। কারণ আগামীতে জেলা বিএনপিতে তৈমূরের সভাপতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কাজী মনিরের উপর যারা ভর করে রাজনীতি করতেন রূপগঞ্জের সেইসব বিএনপি নেতারা খোলস পাল্টেছেন। এখন তারা নিয়মিত ঢু মারেন তৈমূরের রাজধানীর তোপখানার চেম্বারে। নিয়মিত সেখানে শলাপরামর্শ হয়। কাজী মনিরের বেশীরভাগ লোকজন এখন ‘অভিভাবক’ আর ‘বস’ পরিবর্তন করে তৈমূরকে ‘নেতা’ মানতে শুরু করেছেন।

ওইসব নেতারা চান তারাবোতে তৈমূর কন্যা মার-ই-য়ামকে প্রার্থী করতে। সেই সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কেউ কেউও চান তৈমূর কন্যা প্রার্থী হোক। এতে তাদের কদর বাড়বে মনে করছে।

এ ব্যাপারে তৈমূর আলম খন্দকার জানান, আমি শুরু থেকেই অনঢ় যে মেয়েকে এখনই রাজনীতিতে জড়াবো না। যেহেতু আমি রাজনীতি করি হয়তো একটা সময়ে রাজনীতি করবে। তবে এখনই সেটা চাই না। আমি চাই মেয়ে আইন পেশায় নিজেকে আরো সমৃদ্ধ করুক। যেহেতু রূপগঞ্জের মানুষের জন্য আমার হৃদয় কাঁদে সেজন্য সেখানকার লোকজনদের আবদার, অনুরোধ, মতামতকে আমি উপেক্ষা করতে পারছি না। তারাবো হতে প্রতিদিন শত শত মানুষ আমাকে ফোন করে মেয়েকে মেয়র প্রার্থী করতে। দেখি শেষ পর্যন্ত কি করা যায়।

এদিকে হাছিনা গাজী বিভিন্ন প্রচারণা সভায় বলছেন, আমাকে নির্বাচিত করার আগে পৌরসভার অবস্থা কি ছিলো। আর এখন কি হয়েছে। আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। আমি বেঁচে থাকতে এই পৌরসভা আরো উপরে উঠবে। আরও এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশে পৌরসভাগুলোর মধ্যে তারাব পৌরসভাকে ফাস্ট সেকেন্ড পজিশনে আনতে পেরেছি। পৌরবাসীর কাছে আমি কৃতজ্ঞ তারা আমার উপর আস্থা এবং বিশ্বাস রেখে ভোট দিয়েছিলো বলেই আজ পৌরসভার এত উন্নয়ন করতে পেরেছি। বিগত সময়ে কোনো মন্ত্রী তারাব পৌর সভায় চোখে পড়ার মতো উন্নয়ন করে নাই।

দলীয় নেতাকর্মী এবং পৌরবাসীর উদ্দেশে হাছিনা গাজী আরো বলেন, আপনারা কি আমাকে চান? আমি কি আপনাদের জন্য কাজ করতে পারব। তখন উপস্থিত সবাই হাত উপরে উঠে হাছিনা গাজীকে সমর্থন জানান এবং জয় বাংলা শ্লোগানে মুখরিত করে তোলেন। মেয়র বলেন, আমি আপনাদের জন্যই, আমি আপনাদের মা হয়ে থাকব। আপনাদের হাতের যেনো আমি মাটি পাই। আমি সবার কাছে দোয়া চাচ্ছি।

এদিকে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করছেন, এবার এখানে মার-ই-য়াম খন্দকার প্রার্থী হলে ভোটের লড়াই জমে উঠবে। কারণ হাছিনা গাজী নিজেও নারী আর মার-ই-য়াম খন্দকারও নারী। ফলে ভোটের ময়দান জমজমাট হয়ে উঠতে পারে। তাছাড়া পাশেই রূপসীতে তৈমূরের পৈতৃক বাড়ি। এছাড়া আসছে জেলা বিএনপির কমিটিতেও আহবায়ক পদে তৈমূরের নাম রয়েছে উচুতে।

২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ৫ জন। হাছিনা গাজী ছাড়া বাকি চার প্রার্থী হলেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক নাসির উদ্দিন আহম্মেদ, বিএনপির দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান পৌর মেয়র শফিকুল ইসলাম চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলনের শিব্বির আহমেদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমান। এখানে বিপুল ভোটে জয়ী হন হাছিনা গাজী।

এর আগে ২০১১ সালের নির্বাচনে তারাবো পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম চৌধুরী (চশমা) ২৫ হাজার ৩৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ডা. শওকত আলী (টেলিভিশন) পেয়েছিলেন ১৭ হাজার ২২ ভোট।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সহ কাঁদছে সারা দেশ। শোকে ভাসছে পুরো নারায়ণগঞ্জ জেলা। এমনই এক ভয়াবহ ঘটনার স্বাক্ষী হয়ে রইলেন নারায়ণগঞ্জবাসী। সেই সাথে অনেকেই বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন। তবে এই সহযোগিতার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছেন বিআরটিসির সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার ও তার বড় মেয়ে ব্যারিস্টার মার-ই-য়াম খন্দকার। তারা উচ্চ আদালতে একটি রিট করার কারণে আদালত প্রত্যেক হতাহতের পরিবারের সদস্যরা ৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে বলেছেন। যদিও পরে সে আদেশের উপর স্থগিতাদেশ রয়েছে। তবুও দুই আইনজীবী আবারো আপিল করার উদ্যোগ নিয়েছেন।

তারাবো এলাকার একাধিক বিএনপি নেতা জানান, মার-ই-য়াম খন্দকারের এ সুযোগটি এখন কাজে লাগানো উচিত। কারণ তিনি সবশেষ সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সবচেয়ে বেশী ভোট পেয়েছেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও