জাহাঙ্গীর ইস্যুতে আওয়ামী লীগের উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে (ভিডিও)

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫৮ পিএম, ২৬ নভেম্বর ২০২০ বৃহস্পতিবার

জাহাঙ্গীর ইস্যুতে আওয়ামী লীগের উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে (ভিডিও)

নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেছেন আমার নাম ফলক ভাঙার পর আন্দোলন আর বক্তব্য রাখতে গিয়েই আমাদের সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এটা মূলত জেলা আওয়ামী লীগের উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর শামিল।

২৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে কর্মকর্তা কর্মচারীদের টানা তিনদিনের ধারাবাহিক কর্মবিরতি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আনোয়ার হোসেন এসব কথা বলেন।

সোনারগাঁ জি.আর ইনস্টিটিউটে এমপি খোকা কর্তৃক আনোয়ার হোসেনের নাম ফলক ভাঙার অভিযোগে প্রতিবাদে ওই কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ চলছিল।

আনোয়ার বলেন, ‘উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর জন্যই জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আমাদের জেলা পরিষদের সদস্য জাহাঙ্গীর আলমকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁরা দিয়েছে আন্দোলনকে অন্যখ্যাতে প্রবাহিত করার জন্যই। আনোয়ার হোসেনের নামফলক ভাঙার প্রতিবাদ করে নাই, অনেকেই মাঠে নামে নাই তখনই জাহাঙ্গীর প্রতিবাদ করেছে। উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর জন্য জাহাঙ্গীর আলমের উপর এটি নেমেছে। অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে অগঠনতান্ত্রিক ভাবে যেহেতু জাহাঙ্গীর আলম জেলা পরিষদ সদস্য হিসেবে কৃতকর্মের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে তাঁর উপর এই দোষ চাপিয়ে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়ার পায়তারা চলছে।’

আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগ বলে সে নাকি আওয়ামী লীগকে স্বাধীনতা বিরোধী বলেছে। মানুষের স্লীপ অব টাং হতেই পারে এটাই স্বাভাবিক। মানুষ ফেরেস্তা নয়। সে ইতোমধ্যে বিবৃতি দিয়েছে যে তাঁর মুখ থেকে হয়তো ভুল করে এই কথাটি বের হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু তার পরেও তাঁর উপর এই দায়িত্ব চাপানো হয়েছে। একাট কথা আছে যে এই দোষ না সেই দোষ, নাই দোষ তো মুখ ফিরায়া সোছ। এই হলো জেলা আওয়ামী লীগের কর্মকান্ড।

তিনি বলেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগ এই জিনিসগুলো করছে কারণ জাহাঙ্গীর আলম যেহেতু আমার পক্ষে বিবৃতি দিয়েছে জেলা পরিষদ সদস্য হিসেবে। নিন্দার ঝড় তুলেছে। এই কারণেই তাঁর ঘাড়ে দোষ চাপিয়েছে। আমি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে আমার দায়িত্ব প্রায় শেষ প্রান্তে। আমি কারো দোষ দিতে চাই না। যার দোষ সেই কৃতকর্মের ভোগ একদিন তাঁকে করতে হবে।’

আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘গত ১৭ নভেম্বর একটা দুঃখজনক ঘটনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ১৭ তারিখ আর আজকে ২৬ তারিখ। এই কয়েক দিনের মধ্যে আমার পক্ষ থেকে কোনো মুখ খোলা হয় নাই। যে ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। তার নিন্দাও কিন্তু আমি জানাই নাই। এই নিন্দার ঘটনার ঝড় উঠেছে সোনারগাঁ উপজেলার তৃণমূল নেতৃবৃন্দ যারা বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসে যারা আমাকে ভালোবাসে যারা শেখ হাসিনার উন্নয়নকর্মকান্ডে বিশ্বাসী তাঁরাই এই প্রতিবাদের ঝড় উঠিয়েছে। একমাত্র যারা সমপ্রিক্ত ছিল না, যারা জাতীয় পার্টির তত্ত্বাবধায়ক, জাতীয় পার্টির নেপথ্যে, জাতীয় পার্টিকে সমর্থন বাদ দিয়ে বঙ্গবন্ধু আদর্শের কর্মীরা সেই ঝড় উঠিয়েছিল।

তিনি আরো বলেন, ‘আমি দুঃখিত জেলা আওয়ামী লীগের কাছে। জেলা আওয়ামী লীগ নিন্দা এবং প্রতিবাদ করতে পারে নাই বিধায় আমি তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারলাম না বিধায় আমি দুঃখিত। আমি দুঃখিত সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের কাছে যার নেতৃত্ব দেয় একটি আহ্বায়ক কমিটি। আমি তাঁদেরকে কৃতজ্ঞতা জানাতে পারলাম না। তাঁরা বঙ্গবন্ধুর একজন আদর্শের কর্মী হিসেবে আনোয়ার হোসেনের নামফলক ভেঙেছে বিধায় তাঁরা প্রতিবাদ করতে পারলো না বিধায় আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারলাম না বিধায় আমি দুঃখিত।

এখানে উল্লেখ্য, ২৪ নভেম্বর জাহাঙ্গীর আলম বরাবর ওই চিঠি ইস্যু করা হয়। চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদককে (ঢাকা বিভাগ)। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল সাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, ‘আপনি জাহাঙ্গীর আলম, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে সর্বকালের সর্ব শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে স্বাধীনতা বিরোধী দল হিসেবে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে বক্তব্য রাখার অপরাধে আপনাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। এখানে উল্লেখ থাকে যে, ২১ নভেম্বর ২০২০ তারিখে আপনার দেওয়া বক্তব্য ক্ষমার অযোগ্য। যাহা বিভিন্ন গণমাধ্যমে ইতোমধ্যে আমাদের হাতে এসেছে।’

গত ১৭ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) আসনের জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতিকের সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকার নির্দেশে সোনারগাঁ জি আর ইনস্টিটিউশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল ফটকে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের নামফলক ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠে। ওই ঘটনার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের ব্যানারে ২১ নভেম্বর বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীর আলম। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা বিরোধী দল।’ মূলত এ বক্তব্যের পরেই বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরের দিন জাহাঙ্গীর আলম বক্তব্যে অনড় থাকলেও ২৩ নভেম্বর তিনি ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও