খোকা এমপি হওয়ার অযোগ্য, ক্ষমা করে দিলাম : আনোয়ার (ভিডিও)

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০১ পিএম, ২৬ নভেম্বর ২০২০ বৃহস্পতিবার

খোকা এমপি হওয়ার অযোগ্য, ক্ষমা করে দিলাম : আনোয়ার (ভিডিও)

নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন তার নাম ফলক ভাঙার জন্য সোনারগাঁয়ের জাতীয় পার্টির এমপি লিয়াকত হোসেন খোকাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছি। আমি খোকাকে অভিশাপ দিচ্ছি না। আমি মনে করি খোকা তার কৃতকর্মের জন্য একদিন অনুশোচনা বোধ করবে।

২৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে কর্মকর্তা কর্মচারীদের টানা তিনদিনের ধারাবাহিক কর্মবিরতি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আনোয়ার হোসেন এসব কথা বলেন।

সোনারগাঁ জি.আর ইনস্টিটিউটে এমপি খোকা কর্তৃক আনোয়ার হোসেনের নাম ফলক ভাঙার অভিযোগে প্রতিবাদে ওই কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ চলছিল।

তিনি বলেন, ‘সরকারের উন্নয়নের উদাহরণ হিসেবে আমি সোনারগাঁ জি.আর ইনস্টিটিউটে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছিলাম। যে কারণে উদ্বোধনী নামফলক আমার ছিল। ইর্শান্বিত হয় খোকা সাহেব। লিয়াকত হোসেন খোকা তুমি অত্যন্ত ছোট মানুষ। তুমি আমার বয়েসে অনেক ছোট। তোমাকে দেখেছি খুব ছোট। হয়তো তুমি ভালো কাজ করেছ তাই আল্লাহর আশীর্বাদে তুমি এমপি হয়েছো। এমপি হওয়ার মতো যোগ্যতা তুমি এখনো অর্জন করো নাই। কারণ বয়স অল্প আর পদ পেয়ে গেছো অনেক বড়। কেন পেয়েছে? শেখ হাসিনার বদৌলতে। কারণ এরশাদ স্বাধীনতা বিরোধী লোক এবং সে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে যে সে ভুল করেছে। বিএনপির রোষানল থেকে বাঁচার জন্য আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করেছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করেছে বিধায় আজকে এরশাদ মহাজোটের লোক হিসেবে তাঁর কোটায় তুমি এমপি হয়েছো। জীবনেও তুমি জাতীয় পার্টি থেকে এমপি হতে পারতা বলে আমার মনে হয় না। কারণ আওয়ামী লীগ নারায়ণগঞ্জে একটি শক্তিশালী সংগঠন। সোনরাগাঁ আওয়ামী লীগের একটি শক্তিশালী অবস্থান। সেই শক্তিশালী অবস্থানের মধ্য দিয়েই মহাজোটের প্রার্থী হয়েছিলে বিধায় তুমি এমপি হতে পেরেছো। আর না হলে নিজে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়ে সেই জায়গা থেকে পাশ করে আসবে বলে আমি সন্দেহবোধ করছি।’

তিনি বলেন, ‘খোকা তুমি ভুল করেছ। তোমার ভুলের ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল। আমরা অনেক ধৈর্য ধরেছি। মহান আল্লাহ তোমাকে হেদায়েত করুক সেই প্রার্থনা করেছি। তুমি যে ভুল করেছো আমার কাছে আর ক্ষমা চাওয়ার দরকার নাই। তুমি মহান রব্বুল আলামিনের কাছে ক্ষমতা চাও যে, ‘আমি যে ভুল করেছি আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করে দাও। কারণ আমি আমার গুরুর নামফলক ভেঙ্গেছি।’ হয়তো তুমি নির্দেশ দিয়েছো বাস্তবায়ন করেছে তোমার ক্যাডাররা। তোমার হুশ হওয়া দরকার ছিল।’

আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আজকে দীর্ঘদিন পর আমি মুখ খুললাম। আমি কিন্তু খোকাকে কোনো অভিশাপ দিচ্ছি না। খোকাকে খারাপ বলছি না। খোকার কৃতকর্মের জন্য একদিন তাঁর সংশোধনের সময় আসবে। কারণ অনেকে আমার সঙ্গে বেয়াদবি করে আবার বাসায় গিয়ে ক্ষমা চায়। ক্ষমা একদিন চাইতেই হবে। অনেকে আমার সঙ্গে বেয়াদবি করে পরে বাসায় গিয়ে পা ধরে মাফ চায় যে, ‘গুরু ভুল হয়ে গেছে।’ আমি খোকাকেও ক্ষমা করে দিলাম।’

সকলের আন্দোলন স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা আন্দোলন করছেন বিশেষ করে মহানগর আওয়ামী লীগ, জেলা পরিষদ কর্মকর্তা, সোনারগাঁ তৃণমূলের কর্মীরা, কালাম কায়সার হাসনাত, অন্যান্য তৃণমূলে যারা কাজ করেছে তাঁদেরকে আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এবং আগামীতে অন্যায় প্রতিবাদে আপনাদের পক্ষে থাকবো। আন্দোলন আর দীর্ঘায়িত করতে চাই না। যারা আন্দোলন করছেন তাঁদের কাছে অনুরোধ আপনারা আন্দোলন স্থগিত করুন। এখন করোনা বাড়ছে আর কোনো সভা সমাবেশে যেতে চাই না।’

এসময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন, সহকারী প্রকৌশলী ওয়ালিউল্লাহ, এসিস্ট্যান্ট সহকারী প্রকৌশলী কাঞ্চন পলিত, প্রশাসনিক কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম, জেলা পরিষদ সদস্য মজিবুর রহমান, মাহবুবুর রোমান, হাজী আলাউদ্দীন, মোস্তাফিজুর রহমান মাসুম, ফারুক হোসেন।

গত ১৭ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) আসনের জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতিকের সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকার নির্দেশে সোনারগাঁ জি আর ইনস্টিটিউশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল ফটকে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের নামফলক ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠে।

গত মঙ্গলবার থেকে এ ঘটনায় জেলা পরিষদে কর্মবিরতি শুরু হয়। এছাড়া আওয়ামী লীগের মহানগর কমিটি বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। সোনারগাঁয়েও আওয়ামী লীগের একটি অংশ বিক্ষোভ করেছিল। বিপরীতে জাতীয় পার্টির লোকজনও উল্টো হুমকি দিয়েছিল আওয়ামী লীগের লোকজনদের।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও